একটা ঘরের আকুতি মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রী শুকুরনের

শিরোনাম ডেস্ক

তীব্র শীত। একটা ছোট ঘর। সেখানেই দুই ছেলে, তাদের বউ ও বাচ্চাদের নিয়ে থাকতে হয়। তাই একটা ঘরের জন‌্য আকুতি জানিয়েছেন মাগুরার মোহম্মদপুর উপজেলার ভূমিহীন বীর মুক্তিযোদ্ধা রোস্তম শেখের বিধবা স্ত্রী শুকুরন বেগম (৭০)।

শুকুরন বেগম এখন থাকেন উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের মৌশা গ্রামের সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের গুচ্ছ গ্রামের একটি জরাজীর্ণ ঘরে। তার স্বামী রোস্তম শেখ মারা গেছেন ২০ বছর আগে। মৃত্যুর আগে স্বামী তিন ছেলে ও তিন মেয়েসহ তাকে এখানে রেখে যান। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে আশ্রয়ন প্রকল্পের গুচ্ছ গ্রামের ঘরটিও এখন বসবাসের অযোগ্য।

শুকুরন বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী ভাতাপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি ভূমিহীন ছিলেন। সারা জীবন কষ্ট করে গেলাম। স্বামী বেঁচে থাকতে আমরা এখানে থাকি। তিনি মারা যাওয়ার পর আমাদের আর কেউ খোঁজ খবর রাখেনি।’

স্থানীয়রা জানান, শুকুরন তার দুই ছেলে, ছেলের বউ ও তাদের ছেলে মেয়ে নিয়ে গাদাগাদি করে একটি ছোট্ট ঘরে বাস করেন। ঘর বলতে ঝুপড়ি টিনের ঘর। বৃষ্টি আসলে পানি পড়ে। শীতে টিনের ফাঁক দিয়ে বাতাস যায়।

সংসারের অবস্থার কথা বলতে গিয়ে শুকুরন বেগম বলেন, ‘তিন মেয়েরই বিয়ে দিয়েছি। বড় ছেলে আলাদা সংসার পেতেছে। এখন দুই ছেলে আশরাফুল ও শরিফুলকে নিয়ে থাকি। তারা ভাড়ায় অটোরিকশা চালিয়ে কোনো রকম সংসার চালায়। ঘর তোলার টাকা নেই।’

ছোট ছেলে শরিফুল শেখ বলেন, ‘আমার সংসার এখন বড় হচ্ছে। খরচ বাড়ছে। সীমিত আয় দিয়ে সংসার চলে না। মায়ের ওষুধ চিকিৎসা খরচ মেটাতে ঘরবাড়ি করতে পারি নাই।’

প্রতিবেশী রাসেল পারভেজ বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা রোস্তম শেখকে নিয়ে আমাদের গ্রামের মানুষ গর্ববোধ করেন। কিন্তু তার পরিবার মানবেতর জীবন-যাপন করছে। পরিবারটির জন্য সরকারি সহায়তা খুবই প্রয়োজন।’

মোহম্মদপুর উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা কাজী মো. জয়নুর রহমান বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রীর খোঁজ খবর নিয়ে আমরা অবশ্যই সরকারি সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

মোহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রামানন্দ পাল বলেন, ‘আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি। তাকে যাতে একটা ঘর করে দেওয়া যায় সেই ব‌্যবস্থা করবো।’

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: