এফবিসিসিআই নির্বাচন: ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ

শিরোনাম ডেস্ক

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) ২০২১-২০২৩ কার্যকালের নির্বাচন উপলক্ষে প্রণীত ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সংগঠনটির নির্বাচনী আপিল বোর্ডের কাছে চিঠি দিয়েছে ২২টি সংগঠন। এ বিষয়ে বাণিজ্য সংগঠনগুলোতে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

অভিযোকারী সংগঠনগুলো বলছে, সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, এমন ব্যক্তিদের ভোটার তালিকায় রাখা হয়েছে। এ নিয়ে প্রার্থীদের দুই প‌্যানেল পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ এমপি মোবাইল ফোনে রাইজিংবিডিকে জানান, ভোটার তালিকার বিষয়ে কারো অভিযোগ থাকলে তা নির্বাচন বোর্ড দেখবে না। এজন্য আপিল বিভাগ আছে। সেখানে অভিযোগ করলে তারা অভিযোগ যাচাই করবে এবং তালিকা প্রণয়ন করবে। আমাদের কাছে তালিকা জমা দিলে তা প্রকাশ করা হবে। এ প্রক্রিয়া নিয়েও যদি কারো অভিযোগ থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংগঠনের আদালতে যাওয়ার সুযোগ আছে। নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে রুটিন কাজ করে যাচ্ছে।

নির্বাচনী আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলামিন জানান, সংগঠনগুলোর অভিযোগের ভিত্তিতে শুনানি চলছে।

নির্বাচন বোর্ড সূত্র জানায়, তফসিল মোতাবেক আগামী ৫ মে পরিচালক পদে ভোটগ্রহণ হবে। এ লক্ষ্যে গত ১৩ মার্চ অ‌্যাসোসিয়েশন গ্রুপের ১ হাজার ৯১৩ জন ও চেম্বার গ্রুপের ৪৮৮ জনের প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়। এখন অভিযোগ এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী সাপেক্ষে ২৪ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ দাখিলের নেপথ্যে এফবিসিসিআই’র সিনিয়র নেতারা জড়িত বলে দাবি করছে অনেক ব্যবসায়ী সংগঠন।

আপিল বিভাগে পাঠানো চিঠি থেকে জানা গেছে, রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ‌্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মোস্তফা সোহরাব চৌধুরীর পাঠানো নাম ভোটার তালিকায় এলেও আরেকটি পক্ষও নামের তালিকা জমা দিয়েছে।

বাংলাদেশ রেডি-মিক্স কনক্রিট অ‌্যাসোসিয়েশনের সচিব শুভ্রজীৎ দাশগুপ্ত স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়ছে, সংগঠনটির সদস্যরা ভোটার হতে অপারগ। যে পাঁচজনকে তালিকায় রাখা হয়েছে, তারা এ সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত নন। এ ভোটার বাতিলের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

ক্যাব অ‌্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মো. শফিকুর রহমান খান স্বাক্ষরিত আপত্তিপত্রে বলা হয়েছে, সংগঠনটির পাঠানো তালিকার বদলে অজ্ঞাত পাঁচজনের নাম ভোটার তালিকায় এসেছে। সংগঠনটির কেউ তাদের চেনেন না।

বাংলাদেশ ইলেক্ট্রিক্যাল ক্যাবলস মানুফ‌্যাকচারার্স অ‌্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আনিছুর রহমান চিঠিতে বলেন, ‘ভোটার তালিকায় পাঁচজন সংগঠনটির অনুমোদিত প্রতিনিধি না। তারা ভুয়া ট্রেড লাইসেন্সধারী।’

বাংলাদেশ সিমেন্ট ট্রেডার্স অ‌্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকায় যাদের নাম উঠেছে, তারা সংগঠনটির কেউ না।

ফাউন্ড্রি ওনার্স অ‌্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মো. আব্দুল মালেক আকন্দ চিঠিতে বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আশ্চর্যজনকভাবে দেখলাম, ভোটার তালিকায় আমাদের পাঠানো নামের বদলে কতিপয় ব্যক্তির নাম এসেছে। যারা কোনোভাবেই সংগঠনের সঙ্গে জড়িত না। এই ভুয়া ভোটারদের ফাউন্ড্রি প্রতিষ্ঠান নেই।’

বাংলাদেশ ব্যাঙ্কার সাপ্লাইয়ার অ‌্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জক চিঠিতে বলেছেন, ‘তফসিল মোতাবেক কুরিয়ারযোগে কাগজপত্র পাঠানো হলেও এফবিসিসিআই তা ফেরত দিয়েছে। পরে স্বশরীরে জমা দিলেও তা গ্রহণ করা হয়নি।’

একইভাবে অন্যান্য সংগঠনের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ আপিল বিভাগে জামা দেওয়া হয়েছে

কেআরআর

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: