এসআই নূরের তৎপরতায় প্রাণে বাঁচলো যুবক

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার

ঢাকার সাভারে পুলিশের চৌকস তৎপড়তায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন ছয় তলা ভবন থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করতে যাওয়া এক যুবক। ৯৯৯ এর ফোনে সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক নূর খানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে উদ্ধার করে ওই যুবককে।

মঙ্গলবার বিকেলে পৌর সভার রাজাশন পলুমার্কেট সংলগ্ন মমিন মিয়ার ছয় তলা বাড়ির ছাদ থেকে আত্মহত্যার চেষ্টারত অবস্থায় শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে ওই যুবককে উদ্ধার করে পুলিশ।

সাইফুল ইসলাম (৩০) নামে ওই যুবক রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানার আলদিপাড়া গ্রামের লালু মিয়ার ছেলে। সে ঢাকায় পাঠাও চালকের কাজ করেন। সে সাভারের আড়াপাড়া এলাকার রশিদ মেম্বারের বাড়ি সংলগ্ন মৃত মজিদুল হকের জামাই। তার স্ত্রীর নাম মৌসুমি।

পুলিশ জানায়, বিকেল ৩ টার দিকে এক কলার ৯৯৯ এ ফোন করে পলুমার্কেট এলাকায় এক ব্যক্তি ছয় তলা ভবন থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন বলে জানায়। এ খবরে দ্রুত সাভার মডেল থানার পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এক যুবককে ছয় তলা ভবনের ছাদে এমনভাবে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখে যে, একটু বেখেয়ালি নড়াচড়া করলেই সে নিচে পরে যেতে পারে।

তখন পুলিশ তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে লোকটি জানায়, ‘তার বাড়ি রংপুর। তিনি ওখান থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করবেন। ওখান থেকে নামবেন না। কেউ উদ্ধার করতে এলে লাফ দিবেন’ বলেও হুমকি দিচ্ছিলেন। কিন্তু এভাবে কিছুক্ষণ কথা বলার পর পুলিশ বুঝতে পারে, লোকটি মানসিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ নন। তখন চিন্তা বেড়ে যায় উপস্থিত পুলিশের। উদ্ধারের জন্য নেওয়া হয় তড়িৎ ব্যবস্থা।

পুলিশ আরো জানায়, এমন অবস্থায় পুলিশ সদস্যদের দুটি দলে ভাগে হয়ে যায়। পুলিশের একটি দল নিচ থেকে ওই যুবকের সাথে কথা বলে তার মনোযোগ তাদের দিকে ধরে রাখার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশের অপর দলটি ওই ভবনের ছাদে ওঠে। কিন্তু ছাদের দরজাটি অপর পাশ থেকে আটকে রাখে আত্মহত্যার চেষ্টাকারী ওই যুবক।

এসময় দরজা না ভেঙ্গে কি ভাবে তার কাছে পৌছানো যায় সেই চিন্তা করছিলেন পুলিশ সদস্যরা। তখন হালকা করে ছাদের স্টিলের দরজায় টোকা দিলে দেখা যায়, আত্মহত্যার চেষ্টাকারী ওই যুবককের খেয়াল নিচে দাড়িয়ে থাকা পুলিশ সদস্যদের দিকেই আছে। দরজার শব্দ সে খেয়াল করছে না। এই সুযোগেই পুলিশ শাবল দিয়ে দেয়ালের খানিকটা ইট ভেঙ্গে অপর পাশে লাগানো দরজার ছিটকিনি খুলে ফেলে। এভাবে প্রায় এক ঘন্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়।

শ্বাসরুদ্ধকর এই অভিযানের নেতৃত্ব প্রদানকারী সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূর মোহাম্মদ খান জানান, আত্মহত্যার চেষ্টাকারী ওই সাইফুল নামে ওই যুবককে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। সাইফুল ঢাকায় পাঠাও চালকের কাজ করেন। তার স্ত্রী ও একটি ছোট শিশু সন্তান রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে, স্ত্রীর সাথে পারিবারিক দ্বন্দে জড়িয়েই আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন সাইফুলের স্বজনরা।

আত্মহত্যার চেষ্টাকারী যুবক সাইফুলের মামা সাভারের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রায় সাড়ে ৪ বছর আগে মৌসুমির সাথে প্রেম করে বিয়ে করে তার ভাগিনা সাইফুল। এরপর তাদের একটি ছেলে সন্তান হয়। কিন্তু সাইফুল ও তার স্ত্রীর মধ্যে নানা বিষয়ে কলহ লেগেই থাকতো। আর এ কারণেই তার ভাগিনা আজ আত্মহত্যার চেষ্টা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা তার। তবে সাইফুল কোন ভাবেই মানুষিক বিকারগ্রস্থ নন বলেও জানান তিনি।

এনআই/শিরোনাম বিডি

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: