‘করোনা প্রতিরোধে ভূমিকা রেখেছে আদিবাসীদের চিরায়ত লোকজ্ঞান’

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাঙামাটি পার্বত্য জেলার চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিষ্টার রাজা দেবাশীষ রায় বলেছেন, করোনাকালে আদিবাসীদের খুব সামান্য সংখ্যক আক্রান্ত হয়েছেন। আদিবাসীদের চিরায়ত লোকজ্ঞান করোনায় প্রতিরোধ গড়তে ভূমিকা রেখেছে। কলেরা, বসন্ত, কালাজ্বরের মতো মহামারী মোকাবেলায় আদিবাসীদের ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে ইউএনডিপি’র ডাইভারসিটি ফর পিস এবং ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট এন্ড ডেভলপমেন্টের (আইইডি) যৌথ আয়োজনে ‘আদিবাসীদের চিরায়ত লোকজ্ঞানে করোনা সংকট মোকাবেলা ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠন’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন তিনি।

সিনিয়র সাংবাদিক মুন্নি সাহার সঞ্চালনায় এতে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রাণ-প্রকৃতি গবেষক পাভেল পার্থ।

আলোচনায় রাজা দেবাশীষ রায় ছাড়াও আরও অংশ নেন বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা, শিশু হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা: গজেন্দ্রনাথ মাহাতো, আদিবাসী উইমেন নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক চনচনা চাকমা, এফ মাইনর ব্যান্ডের ভোকাল নাদিয়া রিচিল।

রাজা দেবাশীষ রায় বলেন, মহামারি থেকে বাঁচতে আদিবাসী জনগোষ্ঠীসমূহের এই লোকজ্ঞান ও লোকবিজ্ঞান আমরা গ্রহণ ও চর্চা করতে পারি। এর মধ্য দিয়ে আমরা একে অপরের কাছে থেকে শিখতে পারি। একইসঙ্গে আমাদের বৈচিত্রময় সমাজের সংস্কৃতি ও শিক্ষাকে ধারণ পারস্পারিক সহায়তার মধ্য দিয়ে

আদিবাসী চিকিৎসক ডা: গজেন্দ্রনাথ মাহাতো বলেন, লকডাউন-সংগনিরোধ-সাময়িক বিচ্ছিন্নতা-বিশেষত খাদ্যাভাস এবং লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা সম্পর্কিত মহামারি সামালের বৈচিত্রপূর্ণ আদিবাসীদের স্বাস্থ্যবিধিসমূহ সুপ্রাচীন এবং এসব বিধি জাতিসমূহের ভেতর প্রচলিত আদি ধর্ম দর্শনের সাথে অধিকতর সম্পর্কিত।

তিনি বলেন, লকডাউন শুরু হলে আদিবাসীরা নিজস্ব স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করলেও নতুন প্রজন্মের মাঝে এর প্রচলন কম। স্বীকৃতি ও চর্চা বা রাষ্ট্রীয় সংযোগের অভাব এ অবস্থার জন্য দায়ী বলেও মত দেন তিনি।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: