কাবুলে ৯ বাংলাদেশি, বুধবার ফেরার সম্ভাবনা

শিরোনাম ডেস্ক

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট ভবন দখলে নিয়েছে তালেবানরা। দেশটির রাজধানী কাবুলে এ পর্যন্ত ৯ বাংলাদেশির অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের আগামী বুধবারের মধ্যে দেশের ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

উজবেকিস্তানে বাংলাদেশ দূতাবাসে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত জাহাঙ্গীর আলম আফগানিস্তানেও বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করছেন। রোববার রাতে তিনি এই তথ্য জানিয়েছেন।

কাবুলে বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস নেই। পাশের দেশ উজবেকিস্তান থেকে আফগানিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ইস্যুগুলো দেখভাল করা হয়। এর বাইরে কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তানেও রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে রয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম।

তিনি আরও জানান, কাবুলে এখন পর্যন্ত তারা ৯ বাংলাদেশি থাকার তথ্য পেয়েছেন। এদের মধ্যে ৬ জন ব্র্যাকের কর্মী এবং তারা সেখানে ব্র্যাকের আবাসিক পরিচালকের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। আর বাকি তিনজন কাবুলের কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

ব্র্যাকের ৬ জন হলেন- ঢাকা জেলার করিম শিকদার, রংপুরের আসাদুজ্জামান, ঢাকার মোহাম্মদ সরফরাজ, যশোরের কামাল হোসেন, ফরিদপুর রফিকুল হক মৃধা ও নোয়াখালীর ইউসুফ হোসেন। তাদের মধ্যে করিম শিকদার সিনিয়র। তার সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা ১৮ আগস্টের ফ্লাইটে বাংলাদেশে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, কাবুলে পুল এ চরকি নামের একটি বড় কারাগার রয়েছে, সেখানে তিনজন বাংলাদেশি বন্দি ছিলেন। তালেবান ভেঙে প্রবেশ করার ফলে কয়েদিরা সব পালিয়ে গেছেন। তাদের মধ্যে একজন আমাদের মঈন আল মেসবাহ। তার বাড়ি খুলনায়।

অন্য দুজন হলেন- ঢাকার ভাসানটেকের কাউছার সুলতানা ও নোয়াখালীর ওবায়দুল্লাহ। তারা সেখান থেকে বের হতে পেরেছেন কি না- নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তবে তাদের বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, কারাগার থেকে বের হতে পারা মঈনকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাতে পরবর্তী এভেইলেভল ফ্লাইটে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

এদিকে, বাংলাদেশি এনজিও ব্র্যাক জানিয়েছে, বেসরকারি সংস্থাটি গত ঊনিশ বছর ধরে আফগানিস্তানে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মূলত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত সহায়তা, মানবিক সহায়তা ও খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইস্যুতে সেখানে কাজ করে সংস্থাটি।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, আফগানিস্তানে সংস্থাটির ৩ হাজার কর্মীর মধ্যে ১৪ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছে। এদের বেশিরভাগই বাংলাদেশি। ব্র্যাক সেখানে অবস্থানরত সব বিদেশি কর্মীদেরই শুক্রবার থেকে ফিরিয়ে আনতে শুরু করেছে। বেশ কয়েকজন এরই মধ্যে রওয়ানা দিয়েছে। আর যারা আফগানিস্থানের বাইরে ছুটি কাটাচ্ছিলেন, তাদের আপাতত কর্মস্থলে ফিরে না যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ব্র্যাক ছাড়াও আশা নামে আরেকটি এনজিওর কার্যক্রম পরিচালনা করতো আফগানিস্তানে। কিন্তু সংস্থাটি আগেই দেশটি থেকে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে ফেলেছে।

কেআরআর

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!