কোটা পুনর্বহালের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ

জনশক্তি রিপোর্ট: ‘সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের আগ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানেরা শাহবাগ থেকে ক্রমান্বয়ে সারাদেশে বিক্ষোভ-অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চয়তা না আসার আগ পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই এই আন্দোলন চলছে।’

বুধবার দিবাগত রাতে এমনটাই জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড এর সভাপতি শেখ আতেকুর বাবু বুধবার (৩ অক্টোবর)।

এসময় প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সব সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ সব ধরনের কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভের অংশ হিসেবে গতরাত ৮টা থেকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজধানী শাহবাগের চার রাস্তার মোড়ে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর) সকাল থেকেও তাদের শাহবাগ মোড়ে সড়কের ওপর অবস্থান করে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে।

ইতোমধ্যে এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

বুধবার রাত থেকে নেয়া অবস্থান কর্মসূচি সম্পর্কে শেখ আতেকুর বাবু বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা রাখার জন্য আমরা আগে থেকেই আন্দোলন চালিয়ে আসছি। কোটা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে যে কমিটি হয়েছে সেই কমিটিকেও আমরা বিভিন্নভাবে আমাদের বার্তা পৌঁছেছি। কিন্তু আজ দেখলাম যে মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে কোটা নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তাতে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা হয়নি। তাই আমরা অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা করেছি। যতোক্ষণ সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের অধিকার নিশ্চিত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি চলবে।’

সড়কে অবস্থান নেয়ার আগে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেয়া হয়েছে জানিয়ে সংগঠনটির সভাপতি জানান, ‘আমরা অবস্থান নেয়ার পর পুলিশের কর্তৃপক্ষসহ সরকারের বিভিন্ন স্তরের লোক এসেছে। আমরা তাদের সঙ্গে অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে আলাপ করেছি। তারা কোনো নেতিবাচক বার্তা দেননি।’

শাহবাগ থানা থেকে প্রায় ৩০০ গজ দুরে চলমান এই অবস্থান কর্মসূচির আশেপাশে গতরাতে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ ছাড়া আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার (৩ অক্টোবর) গণভবনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি বলে, আমি কোটা চাই না। মেয়েরা বলছে, তারা প্রতিযোগিতা করে আসবে। তাহলে তো আর কোনো অসুবিধা নাই। কোটা না থাকলে আর সংস্কার নিয়েও আন্দোলন হবে না। তাই কোটাই বাতিল করে দিলাম। কিন্তু কোটা বাতিল করেও আরেক মুশকিল। এবার বলে, আমরা বাতিল চাই না, সংস্কার চাই। একবার বলে বাতিল, একবার বলে সংস্কার। এখন কারও যদি কোটা দরকার হয়, সেটা বলুক আমাদের এই কোটা চাই। আন্দোলন ছাড়া আর কোটা দেবো না।’

জনশক্তি/এস

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: