ক্রেন কেন, এই সড়কে ট্যাংকও উল্টে যাবে? মন্তব্য পথচারীদের

রিপোর্ট: মোজন মন্ডল

শুক্রবার দুপুরে টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কে একটি ক্রেন উল্টে গেলে তার নিচে রিকশাসহ যাত্রী চাপা পড়ে। এতে করে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দুই ঘন্টার শ্বাস রুদ্ধকর অভিযানের মধ্য দিয়ে এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধারের সফলতা দাবি করলেও সাধারণ পথচারী ও এলাকাবাসীর সড়কটির বেহাল দশা নিয়ে বিস্তার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পরপর উৎসুক জনতাসহ এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ উঠতে দেখা গেছে।

এসময় পথচারীদের অনেকেই বলেন, দীর্ঘ দিন যাবৎ টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কে খানাখন্দের কারণে যানজট যেমন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। ঠিক তেমনি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো নতুন কোন ঘটনা নয়।

দুর্ঘটনা থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া মেহেদী হাসান বলেন, রাজধানীর সাথে সংযুক্ত হওয়া এই শাখা সড়কটি শিল্পাঞ্চলের জরুরী কাঁচামাল পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসলেও বছরের পর বছর ধরে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের নিকট এটি উপেক্ষিতই রয়ে গেল। ক্রেন উল্টে এর নিচে পড়া থেকে আমি বেঁচে গিয়েছি। এটি সত্যি একটি অবিশ্বাস্য বিষয় হলেও সাধারণ বুদ্ধিমত্তার মানুষও বুঝতে পারবে, এটিই স্বাভাবিক ঘটনা হওয়া উচিত। এসময় তার পাশে দাড়িয়ে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গার্মেন্টস শ্রমিক এগিয়ে এসে আক্রোশ ও ক্ষোভ নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের কিছু বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, সড়কটিকে যদিও মহাসড়কের মর্যাদা দেওয়া হয়নি তারপরও বাইপাস সড়ক হিসেবে শিল্পাঞ্চলের কয়েক হাজার কারখানার শ্রমিক ও পণ্য সরবরাহের জন্য এই সড়কটি ব্যবহার করে থাকে সবাই। অনেক সময় জরুরী পণ্য নিয়ে বড় বড় কাভার্ড ভ্যান, লড়ি উল্টে গিয়ে রপ্তানিযোগ্য মালামালও নষ্ট হতে দেখা যায়।

এসময় ক্ষোভের সাথে সড়কটিতে পরীক্ষামূলক ভাবে যুদ্ধে ব্যবহৃত ট্যাংক চালিয়ে দেখার অনুরোধ করেন তিনি এবং বলেন, ট্যাংকও এই সড়কে নিরাপদ নয়। যা যে কোন সময় উল্টে যেতে পারে।

টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের সিএনজি স্টেশনের মালিক আনোয়ার হোসেন বলেন, ভালো ব্যবসা করার ইচ্ছা থেকেই সড়কের পাশে কোটি কোটি লগ্নি করে একটি সিএনজি ও তেলের পাম্প স্থাপন করি। সড়কটিতে সব সময় অতিরিক্ত যানজট লেগেই থাকে। কিন্তু সামান্য বৃষ্টির কারণে আর খানাখন্দ গুলো পানিতে ভরপুর হয়ে উঠলে তার পাম্পও তলিয়ে যায়। এতে করে অনেক সময়ই বড় বড় পণ্যবাহী গাড়ি উল্টে গিয়ে রাস্তায় যানচলাচল কয়েকঘন্টা ব্যাপী বন্ধ থাকায় তার ব্যবসায়ও মন্দা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এই সড়কটিতে উত্তরবঙ্গ হতে প্রায় ২৭টি জেলার পরিবহন গুলো সময় বাঁচাতে এই সড়ক দিয়েই রাজধানীতে প্রবেশ করে। অথচ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে এই সড়কটি দীর্ঘ এক যুগের বেশী সময় ধরে রয়ে গেল অবহেলিত। গণমাধ্যম মারফত গত ৫ বছর ধরে শুধু শুনেই আসছি, সড়কের উপর দিয়ে বিমানবন্দর পর্যন্ত উড়ালসেতু নির্মণের প্রাকপ্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আর এই কারণেই সড়কে অতিরিক্ত অর্থ গচ্চা দিতে চাচ্ছে না সরকার। ফলে স্বপ্ন নিয়ে গরিব ব্যবসায়ীর রাস্তায় হোঁচট খেয়ে ডিমের খাচা ভেঙ্গে সর্বশান্ত হওয়ার অবস্থা হয়েছে। একদিকে যেমন সড়কটিতে দ্রুত কাঁচামাল পণ্য সরবরাহের জন্য কাভার্ড ভ্যানের চাপ থাকে। ঠিক তেমনি স্থানীয় পরিবহন সহ দূরপাল্লার যান। সেই সাথে মরার উপর খরার ঘা হিসেবে সড়কের বেহাল অবস্থা। এতে করে কেউই স্বস্তিতে নেই।

তাই এলাকাবাসীর দাবি, আঞ্চলিক সড়ক হলেও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের পরিবহন সুবিধা, অর্থনীতির সোপান আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের কাঁচামাল সরবরাহ, সেই সাথে ঘনবসতিপূর্ণ এই অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ জীবন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সরকারকে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!