গাজীপুরে দুই হাসপাতালকে ১১ লাখ টাকা জরিমানা

গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার সিটি মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতাল ও সেবা জেনারেল হসপিটাল অ‌্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত র‌্যাব-১ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় গঠিত টাস্কফোর্স অভিযানটি পরিচালনা করে।

সেসময় হাসপাতাল দুটিকে ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ‌্যে সিটি মেডিক‌্যাল হাসপাতালকে সাড়ে সাত লাখ টাকা এবং সেবা জেনারেল হসপিটাল অ‌্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে সাড়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (হাসপাতাল) উম্মে সালমা তানজিয়া ও গাজীপুর র‌্যাব-১ গাজীপুরের কোনাবাড়ি ক্যাম্পের কমান্ডার আবদুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সারোয়ার আলম জানান, নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ রাখা প্রভৃতি অভিযোগে হাসপাতালদুটিকে এ জরিমানা করা হয়।

সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, ‘‌‌‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও র‌্যাব-১ এর সহযোগীতায় এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে যেসব সার্জিক্যাল আইটেম ও ওষুধ পাওয়া মিলেছে, সেগুলোর মেয়াদ ৫/৬ বছর আগেই উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। যে ল্যাব রয়েছে, তাতে অনুমতি ছাড়া ব্লাড ট্রান্সমিশন করা হচ্ছে। রক্ত পরিসঞ্চালন করার জন‌্য লাইসেন্স নিতে হয়। লাইসেন্স তারা নেয়নি। লাইসেন্স ছাড়াই তারা কাজ শুরু করেছেন। রক্ত যখন এক জনের শরীর থেকে আরেকজনের শরীরে ট্রান্সফার করা হবে তথন অবশ‌্যই পাঁচটি টেস্ট করতে হয়। সে টেস্টের একটি (বিডিআরএম) না করে রক্ত পরিসঞ্চালন করা হচ্ছে।

‘তাছাড়া এ হাসপাতালের লাইসেন্স নেই। যেহেতু মন্ত্রণনালয় ২৩ আগষ্ট পর্যন্ত সময় দিয়েছেন, সে কারণে হাসপাতালটিকে সিলগালা করছি না। যদি এই তারিখের মধ্যে লাইসেনেন্স পেতে বা নিতে ব্যর্থ হন, ওই তারিখের পর এটা বন্ধ করে দেওয়া হবে। আমরা চাই, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো ভালোভাবে চলুক। আমাদের রোগীরা সেবা পাক। স্বাস্থ্য সেবার নামে কেউ প্রতারণা করুক, ছিনিমিনি খেলুক এটা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।’’

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালের যুগ্মসচিব (হাসপাতাল) উম্মে সালমা তানজিয়া বলেন, ‘‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি ট্রাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। ট্রাস্কফোর্সের কার্যক্রমের মধ্যে একটি হলো- বিভিন্ন বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স আছে কি না, সেবা ঠিকমতো দেওয়া হচ্ছে কি না এটা মনিটরিং করা। সে প্রেক্ষিতেই আমাদের এই অভিযান।

‘কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা বা সিলগালা করে দেওয়া আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমরা চাচ্ছি আমাদের সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো সুষ্ঠু নিয়মে চলুক। সেবা নিশ্চিত করুক।”

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: