গিনেস বুকে নাম উঠলো না বাংলাদেশের রানীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের খর্বাকৃতির ছোট গরু রানীর নাম আর গিনেস বুক ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়তে পারলো না। অসুস্থ হয়ে রানী আজ মারা গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন সাভার উপজেলার উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। গিনেস বুকে রেকর্ড গড়তে আর মাত্র দেড় মাস বাকী ছিলো বলে আগে জানিয়েছিলো খামার কতৃপক্ষ। যদিও আনুষ্ঠানিক ভাবে খামার কতৃপক্ষ রানীর মৃত্যুর বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করেনি।

আশুলিয়ার কুঁরগাও এলাকায় শিকড় এগ্রো ইন্ডাট্রিজ লিমিটেড খামারে গেলে ১০-১২ দিন আগেই নিরাপত্তার জন্য রানিকে মালিকপক্ষ নিয়ে গেছেন বলে জানান কর্মচারীরা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সাভার উপজেলার উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল মোতালিব মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘গরুটা দুই দিন ধরে অসুস্থ ছিলো। গরুটাতো এমনিতেই বামন। এটার শরীরে এন্টিবডি তেমন নাই। ওরা হয়তো পঁচা-বাসী খাবার খাওয়াইছে। আবার ফিডও খাওয়াইছে মনে হয়। ওরাও বলছে, ফিড খাওয়াইছে। দানাদার খাবার বেশি খাওয়াইলে অনেক সময় পেট ফুলে যেতে পারে, গ্যাস হতে পারে। যার কারণে ফুড পয়জনিং হয়ে মারা গেছে। গরুটা মুমূর্ষু অবস্থায় আমাদের কাছে নিয়ে আসছে। আনার পরে আমরা যথার্থ চিকিৎসা যা দেওয়ার দরকার দিয়েছি। কিন্তু চিকিৎসায় কোন উন্নতি হয় নাই। তারপরে গরুটা মারা গেছে। আমাদের বিভাগীয় সার্জন, আরও ডাক্তার ছিলো। মালিকপক্ষেরও একজন ডাক্তার ছিলো।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুই দিন ধরেই মালিকপক্ষের ডাক্তার গরুটার চিকিৎসা করছিলো। যখন দেখছে ভালো হইতেছে না তখন আমাদের কাছে নিয়ে আসছে। গরুটা মারা যাবে এই রকম একটা অবস্থায় গরুটা ওনারা আনছে। পরে দুপুর ২টার দিকে গরুটা নিয়া ওনারা চলে গেছে। কোথায় নিয়া গেছে আমরা জানি না।’

বিকেল ৫টার দিকে শিকড় এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক তানভির হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, আমি কুমিল্লায় আছি। কুমিল্লায়তো আমাদের আবার প্রজেক্ট আছে। কনফার্ম নিউজ আমার কাছে নাই। আমি কুমিল্লা থেকে ব্যাক করছি। সাভারের দিকে যাচ্ছি। আমি পরে জানাবো।’

তবে বিকেল ৩টার দিকে শিকড় এগ্রো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. আবু সুফিয়ান এর সাথে যোগাযোগ করা হয়।

ওই সময় তিনি বলেন, ‘আমিতো জানি না বিষয়টা। খামাড়ে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা আছে আগে থেকেই। পাড়ার ছেলেপেলে উঁকিঝুঁকি মারে। কেউ বলে যুবলীগ করে, কেউ বলে ছাত্রলীগ করে। দুই দিন আগে সিলেট থেকে রানীর মতো ছোট একটা গরু আনা হইছে। উঁকি মারলে তারা রানীর জায়গায় এই গরুটাকে দেখতে পাচ্ছেন। এই হিসেবে অনেকে অনেক কথা বলতেছে। এখন লোকজন যদি এই কথা, ওই কথা বলে আপনি কি করতে পারবেন? রানী সুস্থ আছে কি না সে বিষয়ে বলেন, অসুস্থতা কিছু না। ছোট গরুতো মাঝে মধ্যে পেটটা একটু ফেপে যায়। আমি ডাক্তারের সাথে কথা বলে আপনাকে জানাচ্ছি।’

এদিকে আলোচিত গরু রানির মৃত্যুর খবরে আশুলিয়ার কুঁরগাও চারিগ্রাম এলাকায় এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে গেলে সেখানে রানিকে পাওয়া যায়নি।

মো. মাসুদ নামে খামারের এক কর্মচারী জানান, ১০-১২ দিন আগে নিরাপত্তার জন্য রানিকে মালিকরা নিয়ে গেছেন। তবে কোথায় নিয়ে গেছেন সেটা তারা জানেন না।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!