গৃহবধূকে গাছে বেঁধে, শেকল পড়িয়ে নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার ধামরাইয়ে স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় এক গৃহবধূকে গাছে বেঁধে পায়ে শেকল পড়িয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শ্বশুড় বাড়ির লোকজন তাকে নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী গৃহবধূ নাছিমা আক্তার ও তার পরিবারের। গাছে বেঁধে নির্যাতনের তিন-চার ঘন্টা পর ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করেছেন তারই পরিবারের সদস্যরা। এঘটনায় এখনো থানায় কোন অভিযোগ হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার সকাল ৮ টার দিকে উপজেলার সূতিপাড়া ইউনিয়নের বেলীশ্বর গ্রামে শ্বশুড় বাড়িতে নির্যাতনের শিকার হন ওই গৃহবধূ।

গৃহবধূর স্বামী নুরুল করিম কাঞ্চন সূতিপাড়া ইউনিয়নের বেলীশ্বর গ্রামের রহিজ উদ্দিনের ছেলে।

অভিযুক্ত নির্যাতনকারীরা হলেন- ভুক্তভোগীর দেবর রফিকুল ইসলাম ওলিদ, তার স্ত্রী রেনু বেগম ও মেয়ে রুমানা ইসলাম দিসা।

ভুক্তভোগী নাছিমা আক্তার বলেন, দেবড় রফিকুল ইসলাম কাঞ্চনের সাথে তার স্বামীর অনৈতিক সম্পর্কের কথা তিনি জানতেন। কিন্তু মঙ্গলবার বিকেলে বাড়ির পাশে স্বামী কাঞ্চন ও দেবড় ওলিদের মেয়ে দিসা বেড়াতে গেলে তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন তিনি। এরপর সন্ধ্যায় এ বিষয় নিয়ে স্বামীর সাথে ঝগড়া হলে রাগ করে বাবার বাড়ি হাতকোড়া গ্রামে চলে আসেন। কিন্তু বুধবার সকালে ছেলে-মেয়ের কথা মনে করে আবারো নিজেই শ^শুড় বাড়িতে ফিরে যান। এসময় দেবড় ওলিদ, তার স্ত্রী রেনু ও মেয়ে দিসার সাথে তার বিবাদ হয়। এক পর্যায়ে তারা দা-বটি নিয়ে তাকে মারতে ছুটে আসলে তিনি দৌড়ে বাড়ির বাইরে পালিয়ে যান। কিন্তু রাস্তা থেকে তাকে ধরে কোমড়ে দড়ি বেঁধে টানতে টানতে আনা হয় বাড়ির সামনে। পরে দড়ি দিয়ে সুপারির গাছের সাথে বেঁধে ও পায়ে শিকল পড়িয়ে তাকে নির্যাতন চালায় তারা।

ভুক্তভোগীর মা রাবেয়া খাতুন বলেন, ১০ বছর আগে মাইয়ারে বিয়া দেই। তহন জামাই কাঞ্চনের আগের বউ একটা মাইয়া রাইখা মারা যায়। বিয়ার এক বছর পর আমার মাইয়ার একটা পোলা হয়। কিন্ত সবসময় নাছিমা তার সতিনের মাইয়াকে নিজের পোলার মতই আদর করতো। হ্যারপরও নাছিমাকে তার স্বামী কাঞ্চন, দেবড় ওলিদ ও তার স্ত্রী রেনু শারিরীক ও মানুষিক নির্যাতন করতো। আর জামাই কাঞ্চনের সাথে অনেক মাইয়ার অবৈধ সম্পর্ক আছে। হেইডার প্রতিবাদ করায় বুধবার অরা আমার মাইয়ারে গাছের সাথে বাঁইধা করছে। মাথার চুল ছিইরা দিছে। সেপটিপিন দিয়া নাছিমার শইল্লে নির্যাতন করছে। এ্যার আগেও আমার মাইয়ারে নির্যাতন করছে জামাই কাঞ্চন। কিন্তু নাছিমার ছোড পোলাটার কথা ভাইবা তারা আনেন নাই।

তিনি আরো বলেন, আমার মাইয়ার নির্যাতনকারীদের সুষ্ঠু বিচার চাই আমি। আমার মেয়েকে যারা নির্যাতন করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

তবে বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিউদ্দিন আহমেদ মেয়ের সংসার বাঁচাতে এখনো ঘটনাটি সুষ্ঠু মিমাংসার চেষ্টা করছেন বলে জানান।

ভুক্তভোগীর স্বামী মানিকগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল অফিসের টেকনিশিয়ান নুরুল ইসলাম কাঞ্চন জানায়, চার বছর ধরেই তার স্ত্রীর মানুষিক সমস্যা। সাভারের ল্যাবজোন হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছেন। মাঝে মধ্যেই তার স্ত্রী নাছিমা তাকে মারধর করে। এমনকি কামড়িয়ে আহত করে। তবে এ নিয়ে কখনো অভিযোগ করেননি। মঙ্গলবারে তার স্ত্রীর সাথে ঝগড়া হয়। ওই দিন প্রাইভেটকার ভাড়া করে স্ত্রীকে তার বাবার বাসায় পাঠিয়ে দেন। কিন্তু পরদিন সকালে নাছিমা তার বাড়িতে ভাঙচুর করেন। বাড়িতে থাকা অলিদ ও তার স্ত্রীকে মারেন। তবে এসময় তিনি মানিকগঞ্জ অফিসে ছিলেন। তার স্ত্রীকে দড়ি দিয়ে বাঁধা কিংবা শেকল দিয়ে তালা মেরে রাখা হয়েছিল কি না সেটা জানেন না।

তিনি অভিযোগ করেন, তার সাথে বিয়ের আগেও নাছিমার আরেক জায়গায় বিয়ে হয়েছিল। সেটা তিনি জানতেন। তবে বিয়ের পরও আরেকজনের সাথে গোপনে সম্পর্ক রাখেন নাছিমা। এসব নিয়েই তাদের মধ্যে সমস্যা চলছিল। তবে এঘটনার পর থেকে নাছিমার বাবা শফিউদ্দিন তাকে বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি টাকা দিয়ে মিমাংসার প্রস্তাব দেন। যদিও এতে তিনি রাজি হননি।

তবে মানুষিক সমস্যা হলে কাউকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা যায় কি এমন প্রশ্নে কাঞ্চন বলেন, কাউকে প্রাণে মারতে গেলে কিংবা ভাঙচুর করলে তাকে বেঁধে রাখা যেতেই পারে। সেক্ষেত্রে পুলিশও বেঁধে রাখে। আপনিও বেঁধে রাখবেন বলে জোর দাবী করেন। এছাড়া নাছিমা যখন ভাঙচুর করছিল তখন তারা বাবা মাকে ফোন করে জানান ওলিদ। তারাই মেয়ে নাছিমাকে বেঁধে রাখতে বলেন। এমনটা তাকে জানিয়েছেন ভাই অলিদ। এমনকি নাছিমার বাবা-মা’র সাথে কথোপকথনের এমন রেকর্ডও রয়েছে বলে ওলিদ তার কাছে দাবি করেছে বলে জানায়।

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, এখনো আমরা ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাইনি। যদি নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটে তাহলে অবশ্যই আমার মামলা নিব।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: