গ্রাম পুলিশদের পক্ষে রিটকারি লাল মিয়াকে নিয়ে সহকর্মীদের উচ্ছাস

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি

দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি বজায় রাখতে গ্রাম পুলিশদের ভূমিকা অপরিসীম। ব্রিটিশ আমিল থেকে কাজ করা এই বাহিনীর লোকেরা নানাভাবে ছিল অবহেলিত। তাদেরকে সরকারী নানা সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্যে ২০০৯ এ তাদেরকে স্থানীয় সরকার আইনে যুক্ত ও ২০১৫ সালে বিধিমালা প্রণয়ন করা হলেও সেসব বাস্তবায়ন না হওয়ায় ঢাকার ধামরাইয়ের টুপিরবাড়ীর হাটকুশারা এলাকার বাসিন্দা গ্রাম পুলিশ লাল মিয়াসহ ৫৫ জন গ্রাম পুলিশ হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ৩ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করে।

পরে গত ১৭ ডিসেম্বর দেশের প্রায় ৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশকে জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। এর মধ্যে দফাদারদের জাতীয় বেতন স্কেলের ১৯তম গ্রেড এবং মহলদাররা ২০ তম গ্রেডে বেতন পাবেন। ২০১১ সালের ২ জুন থেকে এই স্কেল অনুযায়ী তাদের বকেয়া বেতন ও ভাতা পরিশোধ করতে বলেছে আদালত। আগামী বছর ১৭ মার্চ মুজিব বর্ষ শুরুর আগেই বেতন-ভাতা পরিশোধ করে আদালতে হলফনামা দিতে স্থানীয় সরকার সচিবকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

এদিকে এই ঘোষণার পর আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে গ্রাম পুলিশদের মধ্যে। ধামরাইয়ে লাল মিয়াকে নিয়ে উচ্ছাস দেখাচ্ছেন স্থানীয় গ্রাম পুলিশেরা। তাকে নিয়ে উৎসব করছেন সহকর্মীরা। দীর্ঘদিন পরে এমন সুবিধা লাভ করতে পারার আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে সবার মধ্যে।

গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের শহর আলী দফাদার বলেন, এতদিন আমাদের কোন শ্রেণি ছিল না। আইন হল, বিধিমালা হ্ল কিন্তু সুবিধা পাচ্ছিলাম না। লাল মিয়ার এই রিটের পরে আদালত রায় দিলেন। এখন আমরা সেই সুবিধা পাব। আমাদের নিজেদের সহকর্মী লাল মিয়ার রিটের কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। তাকে নিয়ে আমরা গর্বিত।

আরেক দফাদার সোনামিয়া বলেন, আমরা সারাবছর কাজ করি। প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত থাকি। কিন্তু আমরা সেই সম্মান ও সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলাম। এই রায়ের মধ্য দিয়ে সারাদেশের সবাই এখন সুবিধা পাবে। আমাদের লাল মিয়া ভাই রিট করেছিলেন। এরপর আদালত যে রায় দিয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট। লাল মিয়ার প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা।

এবিষয়ে ধামরাই উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশের সভাপতি দফাদার মোঃ লাল মিয়া বলেন, আমাদের দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে দফাদার ও মহলদার হিসেবে কর্মরত গ্রাম পুলিশের সংখ্যা প্রায় ৪৬ হাজার। এদের মধ্যে দফাদারদের মাসিক বেতন ৩ হাজার ৪০০ টাকা। আর মহলদারদের বেতন ৩০০০ টাকা। গ্রাম পুলিশের চাকরি সরকারের রাজস্ব খাতের অন্তরর্ভুক্ত না হওয়ায় এই বেতনের অর্ধেক দেয় ইউনিয়ন পরিষদ আর সরকারের কোষাগার থেকে আসে বাকিটা।

ব্রিটিশ আমল থেকে এ বাহিনী বিভিন্ন আইনের অধীনে কাজ করে আসছে। সর্বশেষ স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ সালের অন্তরর্ভূক্ত করা হয়। এ আইনের অধীনে ২০১৫ সালে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) গ্রাম পুলিশ বাহিনীর গঠন, প্রশিক্ষণ, শৃঙ্গলা ও চাকুরির শর্তাবলী সম্পর্কিত বিধিমালা তৈরি করা হয়।

কিন্তু এ বিধিতে তাদের কোনো শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়নি। এদিকে ২০০৮ সালের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গ্রাম পুলিশদের চতুর্থ শ্রেণির স্কেল নির্ধারণে অর্থ বিভাগকে চিঠি দেয়। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় পরে দফাদার লালমিয়া বাদী হয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। সেই রিটে চাকরি রাজস্ব খাতে অন্ত:র্ভুক্তি, সরকারি বেতন কাঠামোর চতুর্থ শ্রেণির সমমর্যাদা, মানসম্মত পোশাক, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতো রেশন চালু ও ঝুঁকি ভাতা প্রদান, প্রত্যেক বিভাগে একটি করে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং গ্রাম পুলিশের সন্তানদের জন্য সরকারি চাকরিতে কোটা সংরক্ষণের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে আন্দোলনের পর গ্রাম পুলিশরা প্রতিকার পেতে উচ্চ আদালতে আসি এবং পরবর্তীতে আমাদের আবেদন কার্যকরী হয়।

রায়ের পরে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ সামিউল হক ও ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ দীপক চন্দ্র সাহাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ধামরাইয়ে কর্মরত গ্রাম পুলিশের সদস্যরা।

সোমবার বেলা ১২টার দিকে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষে এই ফুলেল শুভেচ্ছা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সামিউল হক গ্রাম পুলিশদের ধন্যবাদ জানিয়ে তাদেরকে শুশৃংখল ভাবে এবং নিষ্ঠার সাথে প্রত্যেককে কাজ করার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: