চোখের জলে নিহত-নিখোজদেরর স্মরণ

সাভার প্রতিনিধি

আজ ২৪ এপ্রিল, সাভারের রানা প্লাজার ট্র্যাজেডির ৯ বছর পূর্ন হলো। যথাযথ মর্যাদায় দিনটিকে চোখেঁর জ্বলে স্মরন করেছে ভবন ধ্বসে আহত শ্রমিক, নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকের স্বজনসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের শ্রমিক ও নের্তৃবৃন্দ।

দিবসটি উপলক্ষ্যে ৫৪টি গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠন নিয়ে গঠিত- গার্মেন্টস শ্রমিক সম্বয় পরিষদ’’ এর উদ্যোগে সকাল ১০ টায় রানা প্লাজার নির্মিত অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভের সামনে একটি শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আয়োজিত সমাবেশে গার্মেন্টস শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের সাভার-আশুলিয়া, ধামরাই শিল্পাঞ্চল কমিটির আহ্বায়ক শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম সুজনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রিয় সদস্য সচিব শ্রমিক নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইন, শ্রমিক নেতা নাহিদুল হাসান নয়ন, শামীম খান, কামরুন নাহার, অরবিন্দু বেপারী, কবির হোসেন, শাহা আলম হোসেন, পারভীন আক্তার, ইসমাইল হোসেন ঠান্ডু, কামরুল ইসলাম, আলমগীর শেখ লালন, সালাউদ্দিন খান, বাকের হোসেন প্রমুখ।

সমাবেশে শ্রমিক নেতারা বলেন, ২৪ এপ্রিলকে শোক দিবস ঘোষনা করে হতাহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ, ২৪ এপ্রিল কে শোক দিবস ঘোষনা, স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, শ্রমিক হত্যার বিচার, শ্রমিকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, সু চিকিৎসা, পুর্ণবাসন এব সোহেল রানাসহ দায়ী ব্যাক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিতের দাবি জানায় গার্মেন্টস শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের সাভার-আশুলিয়া, ধামরাই শিল্পাঞ্চল কমিটি। এরপর সমন্বয় পরিষদের পক্ষ থেকে রানা প্লাজায় নিহত শ্রমিকদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

এর আগে রানাপ্লাজা ভবন ধ্বসের নবম বছরে সকাল ৯ টায় শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট, জি-স্কপ, শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম এর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট-কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৌমিত্র কুমার দাশ। এসময় বক্তব্য রাখেন গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ, জি-স্কপ এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সমন্বয়কারী আব্দুল ওয়াহেদ, এনসিসিডাব্লুউই এর কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব শাকিল আক্তার চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা আলী রেজা চৌধুরী তুহিন, আব্বাস উদ্দিন, আহমেদ জীবন, আনিসুর রহমান, খুশবু আহমেদ প্রমূখ।

সভা থেকে বক্তাগন বলেন, অবিলম্বে শ্রমিক হত্যাকান্ডের জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, নিহত শ্রমিক পরিবার কে আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরন ৪৮লক্ষ টাকা,আহত পঙ্গু শ্রমিকদের পুনর্বাসন এর ব্যবস্থা করতে হবে। একই সাথে ২৪শে এপ্রিল কে গার্মেন্টস শ্রমিক শোক দিবস ঘোষণা দেয়ার দাবি জানানো হয়।
সারা বছরতো আপনারা আমাদের কোন খোঁজ নেননা। ২৪ এপ্রিল আসলেই আপনারা আমাদের নিয়ে খবর লেখতে আসেন। এছাড়া সরকার কিংবা দলীয় নেতাকর্মীরা কেউই আমাদের মনে রাখেনি। আমরা কিভাবে চলি, কি খাই দেখার কেউ নাই। তাই এবার হয়তো আমাকে বিষ দিয়ে মেরে ফেলেন না হয় বাঁচার মতো একটা রাস্তা করে দেন। এভাবেই ক্ষুদ্ধ হয়ে কথাগুলো বলছিলেন ধসে পরা রানা প্লাজার পাঁচ তলার প্যান্টম এ্যাপারেলস কারখানায় আহত শ্রমিক নিলুফা বেগম।

তিনি বলেন, চার বছর ধরে চিকিৎসা করাইতাছি। এতোদিন ভালো থাকলেও এখন ঠিকমতো ঔষধ ক্ষেতে না পারায় অবস্থা দিন দিন অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে। বর্তমানে আমার কিডনীতে সমস্যা, পায়ে সমস্যা এবং মাথার ব্রেনেও সমস্যা। মাথা সবসময় ব্যাথা করে। নতুন করে চোখেও সমস্য দেখা দিছে। বেশী টেনশন করলে প্রচন্ড মাথা ব্যাথা করে এবং চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকে।

ভবন ধসের পর যে সামান্য টাকা সহায়তা পেয়েছিলেন তা গত কয়েক বছরে চিকিৎসার পেছনে ব্যয় করে ফেলেছেন। প্রতিমাসে শুধু চিকিৎসার খরচই লাগে প্রায় দশ হাজার টাকা। একমাত্র ছেলেকে পড়ালেখা করাইতে পারতেছিনা। সবাই স্কুল ড্রেস বানাইছে, আমি এখনও ছেলের স্কুল ড্রেস দিতে পারিনাই। মাস্টার কয়েকদিন অভিযোগ দিছে। ক্লাসে গেলে বকাঝকা করে। মাঝে মধ্যে পোশাকের জন্য ঘার ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়।

রানা প্লাজার ষষ্ঠতলায় ইথার টেক্স কারখানায় আশরাফুল ইসলাম সুজন। ভবন ধসে পড়ার দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে উদ্ধারকারীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। শেষে সাভার সিআরপিতে চিকিৎসা করিয়েছেন তিনি।

আশরাফুল ইসলাম সুজন ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, সরকারিভাবে ও বিভিন্ন সংগঠনের কাছ থেকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পেয়েছি। প্রথমে ফ্রি চিকিৎসা পেলেও হাসপাতাল থেকে রিলিজ করার পরে আবার হাসপাতালে রিকিৎসার জন্য গেলে টাকা দাবি করে। তবে টাকার অভাবে তিনি চিকিৎসা করাতে পারছেন না বলে জানান।

 

কেআরআর

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!