ছয় লেন সেতু নির্মাণকাজে ধীরগতি, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অগ্রগতি কম

সাউথ এশিয়া সাব রিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশনের (সাসেক) এশিয়ান হাইওয়ে ও বাংলাদেশ, ভারত, চীন ও মিয়ানমারের (বিসিআইএম) মধ্যে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডরে নতুন করে আট মহাসড়ক যুক্ত হতে যাচ্ছে।

এই কাজের অংশ হিসেবে মধুমতি নদীর ওপর বাংলাদেশের প্রথম ছয় লেন বিশিষ্ট সেতু নির্মাণ হচ্ছে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ছয় লেন বিশিষ্ট সেতুর দৈর্ঘ্য ৬৯০ মিটার ও প্রস্থ ২৭ দশমিক ১ মিটার। জাইকার সহযোগিতায় ও দেশীয় অর্থে তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এই সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করেছে।

‘ক্রস বর্ডার রোড ইমপ্রুভমেন্ট নেটওয়ার্ক প্রজেক্ট ও পিডাব্লিউ-১’ প্যাকেজের আওতায় সেতুর কাজ চলমান। ৯৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ে কালনা ব্রিজ, একটি টোল প্লাজা, ৮টি আন্ডারপাস, অ্যাপ্রোচ রোড ইত্যাদি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কাজগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে জাপানের টেক্কেন এমএল ওয়াইবিসি জেভি কোম্পানি। চুক্তি অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত বাস্তব অগ্রগতি ৪৫ দশমিক ৩০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও অর্জিত হয়েছে ২৬ দশমিক ২১ শতাংশ। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৯ দশমিক ১৫ শতাংশ কম।

প্রকল্পটি নিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) নিবিড় পরিবীক্ষণ সমীক্ষায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

আইএমইডি এর (পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন সেক্টর-২ পরিবহন) মূল্যায়ন কর্মকর্তা সঞ্জয় কর্মকার বলেন, ‘ক্রস বর্ডার রোড ইমপ্রুভমেন্ট নেটওয়ার্ক প্রজেক্টের নিবিড় পরিবীক্ষণ সমীক্ষা করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দেওয়া হয়েছে। যেন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আসে।’

আইএমইডির প্রতিবেদনে ‍বলা হয়েছে, ছোট ও মাঝারি চারটি ব্রিজ ও একটি এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে ৩২৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল। ২০২০ এর ফেব্রুয়ারিতে এর অগ্রগতি হওয়ার কথা ৪৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ। অথচ প্রকৃত অগ্রগতি হয়েছে ১৪ দশমিক ৫০ শতাংশ, ফলে ৩১ দশমিক ৮৬ শতাংশ কাজ কম হয়েছে।

মূল প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৫১৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এর পরে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৬ সালের মে মাস থেকে ২০২২ সালের জুন মাস পর্যন্ত। আটটি মহাসড়কের সীমানা মিলিত হয়েছে ভারত সীমান্তে। প্রকল্পের অধীন সড়কগুলোতে অসংখ্য সেতু রয়েছে, যা বহু বছরের পুরনো ও জরাজীর্ণ।

চলতি সময় পর্যন্ত প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ২৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি ১৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ।কিন্তু সংশোধিত ডিপিপির লক্ষ্যমাত্রা বর্তমানে ৬২ দশমিক ৫৯ শতাংশ অগ্রগতি থাকার কথা। অথচ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অগ্রগতি ৪৪ শতাংশ কম হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: