‘জাবি উপাচার্যের অপসারণই ক্যাম্পাস স্থিতিশীল করবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক (জাবি)

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণই ক্যাম্পাসকে স্থিতিশীল করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনকারী শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।

বুধবার দুপুরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সচল করে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং উপাচার্য অপসারণের দাবিতে চলা আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল শেষে এক সমাবেশে এ মন্তব্য করেন আন্দোলনকারীরা।

এর আগে দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্ত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে পুরাতন প্রশাসনিক ভবন হয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন আন্দোলনকারীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সভা সমাবেশ ও মিছিলের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এ বিক্ষোভ মিছিল ১০০ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অংশ নেন।

সমাবেশ শেষে আবার বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মুরাদ চত্ত্বরে এসে শেষ হয় দিনের কর্মসূচি।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগরে সমন্বয়ক অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, চার মাস হতে চললো শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো বিষয়ের সুরাহা হয়নি।

তিনি বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। হল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে দিয়ে আমরা বিক্ষোভ মিছিল করছি। প্রশাসনকে জানা উচিৎ কোনোভাবেই এই আন্দোলন দমন করা যাবে না।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। হল বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ সিন্ডিকেট সদস্যদের মতের ভিত্তিতে; সুতরাং হল বন্ধের এই অবৈধ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে।’’

এছাড়া আগামী ৩ তারিখে উপাচার্যের দুর্নীতির খতিয়ান পুস্তিকা আকারে প্রকাশ করার ঘোষণা দেন অধ্যাপক রায়হান রাইন।

জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুশফিক উস সালেহীন বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের প্রহসন দেখতে দেখতে পুরো ক্যাম্পাস এবং বাংলাদেশ বিরক্ত। উপাচার্য এর আগেও আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের একটি অংশকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। আর এখন চেষ্টা করছেন ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ার ফলে যারা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আছে, তাদের আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি দাঁড় করানোর। গত ২০-২২ দিন যাবত কার্যত বিশ্ববিদ্যালয় অবরোধ করে রেখেছে এই প্রশাসন।

তিনি বলেন, ‘‘আমরা তিন দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন করছি। বিশ্ববিদ্যালয় সচল করতে হলে অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে অপসারণ করতে হবে।’’

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের জাবি শাখার মুখপাত্র খান মুনতাসির আরমান বলেন, ফারজানা ইসলামকে ব্যঙ্গ করার জন্য একজন শিক্ষার্থীর নামে মামলা করা হয়েছে। কিন্তু অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তার মোকাবেলা এই প্রশাসন করতে পারেনি।

মিছিল পরবর্তী সমাবেশে একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
%d bloggers like this: