জাহাঙ্গীরনগরে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৩০

জনশক্তি রিপোর্ট: ইভটিজিংকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আল-বেরুনী হল ও মীর মশাররফ হোসেন হলের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার ( ২ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই হলের ছাত্রলীগ নেতাকর্মী সহ অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌরঙ্গী মোড়ে অবস্থিত শাখা ছাত্রলীগের তথ্য সহায়তা কেন্দ্র থেকে মীর মশাররফ হোসেন হলের ৪৫ ব্যাচের দুই ছাত্রলীগ কর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে উত্যক্ত করে। পরে ওই ছাত্রী মুঠোফোনে আল-বেরুনী হলে থাকা তার বন্ধুদের জানালে ওই হলের ৪৬ ব্যাচের কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী ঘটনাস্থলে এসে ওই দুই ছাত্রলীগ কর্মীর কাছে উত্যক্তের কারণ জানতে চান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি ও এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি হয়। পরে উভয় পক্ষ হলে ফিরে যায়।

রাত ১২টার দিকে মীর মশাররফ হোসেন হলের ছাত্রলীগ কর্মী ও আসন্ন হল কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আল-বেরুনী হলে হামলা চালায়। পরে আল-বেরুনী হলের ছাত্রলীগ নেতাকর্মী সহ শিক্ষার্থীরা মীর মশাররফ হল শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদেরকে ধাওয়া দেয়। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় ঘন্টাব্যাপী মুখোমুখি সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

পরে শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ঘটনায় উভয় হলের অন্তত ৩০ সাধারণ শিক্ষার্থী সহ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী আহত হয়। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এছাড়া গুরুতর আহত ৯ জনকে সাভারের একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগ কর্মী রবিউল ইসলামে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও আল-বেরুনী হলের আবাসিক ছাত্র আবু সাদাত সায়েম বলেন, ‘মীর মশাররফ হোসেন হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি নিয়ে এসে আমাদের উপর অতর্কিতে হামলা চালায়। তারা হলের পাশে অবস্থান নিয়ে কাচের বোতল ছুঁড়ে মারে। তাদের প্রত্যেকের হাতে ক্ষুর ছিল। তাদের ছোড়া বোতল, ক্ষুরের আঘাতে আমাদের ১৫-২০ জন আহত হয়েছে। তাছাড়া প্রায় ৫০ জনের মত হালকা আঘাত পেয়েছে। ঘটনার সময় তারা দুই রাউন্ড গুলি ছুড়েছে।’

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চল বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা একেবারেই অনাকাঙ্খিত। এসব ঘটনা ইমেজ নষ্ট করে। আমরা ব্যবস্থা নেব।’

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে ও বিচারের দাবিতে বুধবার সকালে হল সংলগ্ন জীববিজ্ঞান অনুষদ ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবরোধ করে রাখেন আল-বেরুনি হলের শিক্ষার্থীরা। এতে ওই কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হতে প্রায় আধাঘন্টা দেরি হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের আশ্বাসে তারা তালা খুলে দিলে পরীক্ষা শুরু হয়।

প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইন বলেন, ‘গতকাল যে ঘটনা ঘটেছে সেটা দুঃখজনক ও হতাশাজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে হাজার হাজার ভর্তিচ্ছু ও তাদের অবিভাববক অবস্থান করছেন। এমন সময়ে এই ধরণের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে এমন ঘটনা আশা করি না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।’

জনশক্তি/এস

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: