টুং-টাং শব্দে মুখর ধামরাইয়ের কামারপাড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ঢাকার ধামরাইয়ে কামার পাড়াগুলো টুং-টাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে। ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের সবকটি কামার পাড়ায় চলছে কুরবানির পশু জবাই, মাংস কাটা এবং চামড়া ছিলানোর কাজে ব্যবহৃত চাপাতি, দা, ছুরি আর বটি তৈরির কাজ।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে উপজেলার সদর এলাকা, কালামপুর বাজার, বালিয়া বাজার, বাথুলি বাজার, জয়পুরা বাজার, কাওয়ালীপাড়া বাজারের কামার শিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই যেন তাদের ব্যস্ততা বেড়েই চলছে। নিজেদের তৈরি এসব পণ্য উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারগুলোতে সরবরাহ করছেন তারা।

কামাররা জানান, ওজনভেদে এসব চাপাতি তৈরিতে প্রায় ২’শ টাকা থেকে ৬’শ টাকা খরচ হয় তবে এগুলো বিক্রি হয় সর্বনিম্ন ৭’শ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে চামড়া ছাড়ানো ও মাংস কাটার জন্যে বানানো ছোটবড় ছুরিগুলো ১শ টাকা থেকে ৫-৬’শ টাকার মধ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে গরু জবাইয়ের জন্য তৈরি হচ্ছে বিশেষ রকমের লম্বা ছুরি। এসব ছুরি কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হবে ১-২ হাজার টাকা। তবে এবছর করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে বিক্রি কমে গেছে বলে জানান তারা।

উপজেলার কাওয়ালীপাড়া বাজারের কামার শিল্পী সুনিল কর্মকার বলেন, আমার বাড়ি এই গ্রামেই। কামার শিল্পের সাথে আমার কয়েক পুরুষ জড়িত। কাওয়ালীপাড়া বাজার যতদিন ধরে হয়েছে ততদিন যাবত আমি এখানে আছি। দেশে করোনার কারণে এবার আগের মতো আমাদের তেমন ব্যস্ততা নেই বল্লেই চলে গত বছরও এই সময়টাতে পানি খাওয়ার সময় পাইনি কিন্ত এবার তেমন তোরজোড় নেই। সারা বছর তৈরি করা পশু জবাইয়ের এসব পণ্য ঈদ মৌসুম ছাড়া বিক্রি হয় না। তাই ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ততা একটু বেড়ে যায় প্রতিবছর কিন্ত মহামারী করোনার কারণে এবারে একেবারে ব্যস্ততা নেই।

বালিয়া বাজারের ছুরি-চাপাতি বিক্রেতা শৈবাল কর্মকার বলেন, সারাবছর টুকটাক ব্যবসা হলেও বছরের এই সময়টাতে বিক্রি বেড়ে যায়। অন্যান্য বছর দুই একজন লোকও রাখতে হয়। তবে এবার এখনও তেমন ভিড় তৈরি হয়নি।

তিনি বলেন, বালিয়া বাজার ছাড়াও ধামরাই ও কালামপুরেও আমাদের দোকান আছে, এসব দোকানে ঈদের দিন পর্যন্ত চলবে ছুরি-চাপাতি তৈরি ও বিক্রি।

এদিকে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছর নতুন ছুরি-চাপাতি কেনার জন্যে দোকানগুলোতে যেমন মানুষের ভিড় হয় তেমনি পুরোনো ছুরি-চাপাতি ধার দেবার জন্যেও কামারপট্টিতে ভিড় করেন লোকজন। বছরের এই সময়টাতে তাই দোকানগুলোতে পশু জবাই ও চামড়া ছাড়ানোর কাজে ব্যাবহৃত নানা ধরনের ছুরি, চাপাতি, দা, বঁটি ও চায়নিজ কুড়াল সাজিয়ে রাখেন দোকানিরা।

ধামরাই বাজারে ছুরি কিনতে আসা শহিদুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা বলেন, বছরে শুধু এই সময়টাতেই ছুরি চাপাতি ব্যবহার করি, বাকিসময় ঘরে ফেলে রাখায় মরিচা ধরে যায়, কোরবানির ঈদ এলেই তাই ছুরিগুলো ধার করার প্রয়োজন পড়ে, আর এজন্যে ধামরাইয়ের কামারপট্টির দোকানগুলোতেই প্রতিবছর আসি।

ধামরাইয়ের কালামপুর বাজারের কামার চিত্ত কর্মকার বলেন, সারাবছরের সবচেয়ে বেশি ব্যবসা হয় এই সিজনে। তবে ভাইরাসের কারণে এবছর জিনিস কম বানিয়েছি। যদি প্রয়োজন হয় আরও বানাবো।

এবছর সবমিলিয়ে হাজার খানেক ছুরি-চাপাতি বিক্রি হবে বলে আশা করছি। ফলে আমাদের কর্মকাররা সেভাবেই দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: