দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচজনের বাড়িতে মাতম

উপজেলা প্রতিবেদক

গতরাতে নরসিংদীর পাঁচদোনা-ঘোড়াশাল-টঙ্গী আঞ্চলিক মহাসড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের শিশুসহ পাঁচজন নিহতের ঘটনায় শোক নেমে এসেছে তাদের গ্রামি বাড়ি সাভারে। দুর্ঘটনায় বেঁচে ফেরা ওই পরিবারের আহত বাকী সদস্যরা করছেন মাতম। একদিনে এতগুলো মানুষের মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোক।

রোববার দুপুরে আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার খাঁ বাড়িতে মরদেহ আনা হলে স্বজন ও এলাকাবাসীদের কান্নায় চারপাশ ভাড়ী হয়ে ওঠে। পরে বিকেল পৌনে ৬টার দিকে জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হয়।

নিহতরা হলেন- একই পরিবারের তিন ভাই সাইফুল ইসলামের স্ত্রী মুক্তি আক্তার (৩০) ও তার শিশু ছেলে মো. সাদেকুল (৮), আরেক ভাই আব্দুর রশিদের স্ত্রী রুবি আক্তার (৩৩) ও তার শিশু কন্যা মোছা. রহিমা (৫) এবং হারুন মিয়ার শ্বাশুড়ী রোকেয়া বেগম (৫২)।

আহতরা হলেন- আব্দুর রশিদ (৪০), সাইফুল ইসলামের মেয়ে সাইফা (১২), হারুন মিয়ার স্ত্রী শারমিন বেগম (৪০) ও মেয়ে ইসরাত জাহান (৮)। এছাড়া আহত হয়েছেন ওই পরিবারের স্বজন রাজিয়া বেগম (৪০), কাজিম উদ্দিন (৪২) ও মোছা. সামসুন্নাহার (৬০)।

স্ত্রী ও মেয়ে হারানো সাইফুলের ভাই রশিদ মিয়া বলেন, ‘গাড়িতে আমার স্ত্রী রুবি ও মেয়ে ইসরাত পেছনে ছিলো। সাথে আরেক ভাইয়ের বৌ-বাচ্চাও ছিলো। হঠাৎ করেই কি হলো বুঝতে পারলাম না। আচমকা সব শেষ হয়ে গেলো। আমি দেখি গাড়িতেই বসে আছি। আর মানুষ খালি আমাদের সামনে এসে হাওকাউ করতেছে। আর আমাদের গাড়ির ভেতর থেকে বের করার চেষ্টা করছে ‘

তিনি আরও বলেন, ‘যাওয়ার সময় আমাদের গাড়িটা একটি বাসের সাথে হালকা লাগছিলো। ওই সময়েই আমাদের বাধা পরেছিলো।’

রশিদের ভাই স্ত্রী ও ছেলে হারানো সাইফুল ইসলাম বিলাপ করে বলেন, ‘আমি কোনো দিনই ভাবতে পারিনি আমার স্ত্রী ও ছেলে সাদেকুল এভাবে মারা যাবে। মেয়ে সাইফা অল্পের জন্য বেঁচে গেছে। আমরা সন্তান ও স্ত্রীকে আমি এখন কোথায় পাবো?’

নিহত শিশু সাইফুলের ফুপু সুরাইয়া বেগম বলেন, আমার তিন চাচাতো ভাই সাইফুল, হারুন ও রশিদ মিলে সিলেট মাজারে যাওয়ার আয়োজন করে। শুক্রবার রাতে রাত ৩ টার দিকে তাদের পরিবারের বাচ্চাসহ ১৫জন আত্মীয়স্বজন ওই গাড়িতে রওনা হয়। গাড়িতে তিন চাচাতো ভাইয়ের মধ্যে শুধু রশিদ ছিলো। সাইফুল ও হারুন ছিলো বাড়িতেই। পরদিন সকাল ৮টার দিকে তারা সিলেট মাজারে গিয়ে পৌছায়। সারাদিন মাজারে থেকে সন্ধ্যায় আশুলিয়া বাড়ির উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্য রওনা হন তারা। পরে নরসিংদী এসে এই ঘটনা ঘটে জানতে পারছি। মাইক্রোবাসে থাকা ভাই সাইফুলের স্ত্রী ও ছেলে, আরেক ভাই রশিদের স্ত্রী ও মেয়ে এবং হারুনের শ্বাশুড়িসহ পাঁচ জন মারা গেছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘স্ত্রী ও সন্তান হারানো সাইফুলের মেয়ে সাইফা, স্ত্রী ও কন্যা হারানো রশিদ এবং শ্বাশুড়ী হারানো হারুনের স্ত্রী ও কন্যা এ ঘটনায় আহত হইছে। এছাড়া তাদের আরও তিনজন ওই ঘটনায় আহত।’

নিহতেদের প্রতিবেশী জসিম উদ্দিন বলেন, আমাদের এলাকায় এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা আগে ঘটেনি। এলাকার সবাই আমরা মর্মাহত। আজ এলাকায় শোকের ছায়া নামছে। এই অসাবধানতার কারণেই পাঁচটি তাজা প্রাণ আজ হাড়িয়ে গেলো।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এনামুল হক সাগর বলেন, এ ঘটনায় নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে দাফনের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। ট্রাক ও মাইক্রোবাসটি জব্দ করা আছে। দু’টি পরিবহনের চালকই পলাতক রয়েছে। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!