‘ধামরাইয়ে অভূক্ত বানরের কান্না শুনছে না কেউ’

উপজেলা প্রতিবেদক

প্রায় ৪’শ বছরের বেশি সময় ধরে ঢাকার ধামরাইয়ে মানুষের সঙ্গে লোকালয়ে বাস করে আসছে বানরের পাল। সাধারণ মানুষের দেয়া খাবার, বাজারের উচ্ছিষ্ট খেয়েই বেঁচে আছে তারা। তবে সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের কারণে হাট-বাজার সীমিত করা হয়েছে। বাইরেও আসছেন কম মানুষ। এতে করে অভুক্তই থাকতে হচ্ছে বানরদের। একারণে ভাইরাসের আতঙ্কে শূণ্য বাজারে কাউকে এগিয়ে আসতে দেখেই খাবারের আশায় ক্ষুধার্ত বানরগুলো নির্বাক চোখে তাকিয়ে রয়। অভূক্ত বানরের ক্ষুধার জ্বালা যেন কেউই শুনছে না।

স্থানীয়রা জানান, ধামরাইয়ে বাজার এলাকায় ক্রমেই কমে আসছে বানরের সংখ্যা। উপজেলাজুরে দোকানের টিনের ছাঁদ, মানুষের আবাসের ঘর, বিভিন্ন পরিত্যক্ত স্থান বা গাছে আস্তানা গড়ে বাস করছে বানররা। বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে পরিচিত এই প্রাণী নিরামিশভোজী হলেও এদের বাসস্থান বা খাবারে বেশ বৈচিত্র রয়েছে। এলাকাবাসীর সঙ্গে তাদের রয়েছে দীর্ঘদিনের সখ্যতা। একারণে স্থানীয় দোকানিরাও বানরদের খাবার দিত। তবে এবার করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সীমিত আকারে বাজার চালু থাকায় তাদের চাহিদামত খাবারেরও ব্যবস্থা হচ্ছে না।

ধামরাই বাজার এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রউফ বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় ১ মাস ধরেই খাবারের দোকান বন্ধ রয়েছে। মানুষও খুব বেশি বের হচ্ছে না। ফলে বাইরে থেকে বানরের খাবারের সংকুলান করা যাচ্ছে না।

তিনি জানান, অভূক্ত এই প্রাণীদের দেখে তার মায়া হয়, তিনি নিজে দুই দিন যৎসামান্য কলা রুটি কিনে বানরদের দিয়েছেন। ইতিপূর্বে এই এলাকায় মানুষ ও বানর একসাথে বসবাস করে আসলেও এখন অসহায় হয়ে পড়ছে বানরগুলো।

স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সোনিয়া ইশরাত ইভা বলেন, স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য হারানোর কারনে প্রকৃতি থেকে খাবার গ্রহনের কোন ধরনের সুযোগ বানরের নেই। এখন যদি তাদের জরুরী ভিত্তিতে খাবারের ব্যবস্থা না করা হয় তাহলে একদিকে আক্রমনাত্মক হয়ে উঠবে অপরদিকে বিপন্ন হয়ে যাবে এই এলাকার বানর।

এবিষয়ে ধামরাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ মোঃ সাইদুর রহমান বলেন, এ মুহুর্তে বানরের খাবার সহায়তা দেয়ার মত কোন বরাদ্দ আমাদের নেই। তবু প্রাণী বলে কথা, তাই প্রকৃতি থেকে খাবারের কোন ব্যবস্থা না থাকা ও করোনর প্রভাবে অভূক্ত থাকায় মানবিক দিক বিবেচনায় বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এবিষয়ে ধামরাই পৌরসভার মেয়র গোলাম কবির মোল্লা বলেন, করোনার দুর্যোগের কারণে অনেক মানুষই অভুক্ত রয়েছেন। আমরা সেটা নিয়েই সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছি। আগে স্থানীয় বেকারিগুলো থেকে বানরের খাবার সংস্থান করা হতো। এখন অনেক বেকারিই বন্ধ। তবুও আমরা কিছু খাবার দেয়ার চেষ্টা করছি। আরও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: