নববধুর হলুদ বরণ সাজে ধামরাইয়ের রুপনগর

খালিদ রাব্বি, উপজেলা প্রতিবেদক

ঋতুর পালাবদলে এখন শীতের মাঠে মাঠে শোভা পাচ্ছে অপার সৌন্দর্যের সরিষা ফুল।

প্রতিবছর ঘুরে-ফিরে শীত আসে। দেশের শীত সঙ্গে নিয়ে আসে হরেক রকমের ঋতুবাহারি ফুল, টক-মিষ্টি কুল, শজিনার ডাঁটা, নানান শাকসবজি, হাওরবাঁওড়ের মাছ, পিঠাপুলি, নবান্নের ধান, খেজুরের রস ও পাটালি গুড়। বয়ে আনে উত্তুরে ঠান্ডা হাওয়া। সেই সঙ্গে নিয়ে আসে শুষ্কতা আর ঠোঁট ফাটা। কিন্তু সবচেয়ে যে জিনিসটা খুব বেশি আকৃষ্ট করে, তা হলো শীতের সরিষা খেত, হলুদে হলুদে ভরা শীতের সরিষা ফুলের মাঠ।

হলুদ রঙের এই ফুলটিতে চারটি পেটাল বা পাপড়ি থাকে।একটি সরিষাগাছের জীবনধারায় আনুমানিক ২০০টির মতো ফুল ফোটে এবং একটি গাছ এক হাজার শস্যবীজ তৈরি করতে সক্ষম হয়। আরও সরিষাগাছ ক্রুশিফেরাস গোত্রের অন্তর্ভুক্ত তেল উৎপাদক একবর্ষজীবী প্রজাতির উদ্ভিত।

সবুজ গ্রামের দিগন্তজুড়ে সেজেছে হলুদের রানি। সরিষা ফুলের মৌ মৌগন্ধ সবাইকে আকৃষ্ট করছে।

ঢাকার ধামরাইয়ের কুল্লা ইউনিয়নের রুপনগরে মাঠের পর মাঠ চোখ ধাঁধানো হলুদ ফুলের সমাহার। আর এ ফুলের মৌ-মৌ ঘ্রাণ ও মৌমাছির গুনগুন শব্দের চিরচেনা সেই অপূর্ব সর্গিয় দৃশ্য। যে কারোরই মনকে সুখ দেয়। চারদিকে হলুদ গালিচা বিছিয়ে যেন অপরুপ সাজে সেজেছে পল্লীর প্রকৃতি। এ দৃশ্য দেখতে বাড়ছে প্রকৃতি প্রেমিকদের আনাগোনা।

কুল্লা ইউনিয়নের অধিকাংশ জমি আবাদি এবং কৃষি কাজে ব্যবহৃত। জামালপুর ও টাঙ্গাইল হয়ে বংশী নদী এই ইউনিয়নের এক পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ধলেশ্বরী নদীতে পতিত হয়েছে। এই নদীটি কুল্লা ইউনিয়নের হাজিবাড়ি, ইসলামপুর, মাখুলিয়া, কাজিয়ারকুণ্ড, রূপনগর, ফোর্ডনগর গ্রাম সমূহ ঘেষে প্রবাহিত হওয়ায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ জমিতে কৃষিকার্য সম্পাদিত হয়ে থাকে। বর্ষা মৌসুমে নদী বিধৈত পলি জমে ফসলি জমিকে আরো উর্বর করে তুলে।

শীতের সকালে শিশির ভেজা কুয়াশার চাদরে ঘেরা রুপনগরের বিস্তীর্ন প্রতিটি মাঠ যেন হলুদ বর্ণে ঘেরা এক অন্য পৃথিবী। প্রান্তর জুড়ে উঁকি দিচ্ছে শীতের শিশির ভেজা সরিষা ফুলের গাছগুলো। সরিষার সবুজ গাছের হলুদ ফুল শীতের সোনাঝরা রোদে ঝিকিমিকি করছে। এ এক অপরুপ সৌন্দর্য। যেন প্রকৃতি হলুদ বরণ সাজে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: