পূর্বাচলে বাণিজ্য মেলা প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের অস্থায়ী ঠিকানা ছেড়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা যাবে পূর্বাচলে। সে লক্ষ্যে পূর্বাচলের চার নম্বর সেক্টরে চীন সরকারের অনুদানে নির্মিত হচ্ছে ‘বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার’।

কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হলেও তা হয়নি। এজন্য আবারো ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া আরও এক বছর সময় বাড়ছে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার প্রকল্পের। এ বছর ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।

জানা গেছে, প্রদর্শনী কেন্দ্রের মূল অবকাঠামো নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। এখন চলছে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। আনুষঙ্গিক কিছু কাজ বাকি রয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যেই প্রদর্শনী কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ ২০২১ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হচ্ছে বলে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুারো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে।

প্রকল্পের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ রেজাউল করিম এ বিষয়ে বলেন, মেলা প্রাঙ্গণকে আন্তর্জাতিক রুপ দিতে আরও অনেক কিছু নির্মাণ করতে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বৃদ্ধি করতে হবে। তবে ব্যয় লাগবে না।

তিনি বলেন, সরকার চাইলে বাণিজ্য মেলা পূর্বাচলে হতে সমস্যা নেই। কারণ মেলার জন্য সব অবকাঠামোগত নির্মাণ করেছে চীন।

প্রকল্প পরিচালক আরও বলেন, আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এক্সিবিশন সেন্টারের সব কাজ সম্পন্ন করে বাংলাদেশের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চীনা পক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ইপিবি সূত্র জানায়, এ লক্ষে চলতি মাসের এক সেপ্টেম্বর প্রকল্পের ওপর বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভা হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির চেয়ারপারসন এ এইচ এস আহসান। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর কনফারেন্স কক্ষে এ সভা হয়। সভায় প্রকল্প পরিচালক জানান, যেহেতু প্রকল্পের সব কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে না, সে কারণে প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির (পিএসসি) ৭ মের সভায় ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সম্মতিক্রমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর থেকে এক বছর মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বরাবর চিঠি দেওয়া হলে মন্ত্রণালয়টি এই বিষয়ে আইএমইডি ও ইআরডিকে সম্মতি দিতে অনুরোধ জানিয়েছে। ইতিমধ্যে ইআরডির সম্মতি পাওয়া গেছে। আইএমইডির সম্মতি পেলে ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়াই প্রকল্পের মেয়াদ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ১ বছর বাড়ানো সম্ভব হবে।

ইপিবি সূত্র জানায়, বিসিএফইসি প্রকল্পের জন্য দুই পর্যায়ে বরাদ্দ করা ২৬ দশমিক ১০ একর জায়গার দাম বাবদ মোট ১৬৫ টাকা রাজউককে ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বরাদ্দ করা ওই জমির লিজ দলিল রাজউক থেকে তৈরি করে রেজিস্ট্রেশন করে দেওয়া হচ্ছে না। ২৬ দশমিক ১০ একর জমির মধ্যে ২০ একর জমি রাজউকের মাস্টার বিসিএফইসি প্রকল্পের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ আছে। বরাদ্দকৃত অবশিষ্ট ১৬ দশমিক ১০ একর জমি রাজউকের বর্তমান মাস্টারপ্ল্যান বিসিএফইসি প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত বলে উল্লেখ নেই।

প্রকল্পটির ওপর গত ৫ জুলাই এক সভায় রাজউকের মাস্টার প্ল্যানে যে ১০ একর জমি বিসিএফইসি প্রকল্পের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ আছে, তা এখনই রেজিস্ট্রেশন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আইএমইডির সম্মতি পেলে প্রকল্পটির আরও এক বছর সময় বাড়ানো হবে। পরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সংশোধনীর প্রয়োজন হবে

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: