প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামীকাল মহান বিজয় দিবস। মুক্তিকামী বাঙালির চির স্মরণীয় এই দিনটি উপলক্ষে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ।

করোনার কারণে এ বছর মার্চ মাস থেকে বন্ধ রয়েছে স্মৃতিসৌধ। এ কারণে বাতিল করা হয়েছিল ২৬ মার্চের সব কার্যক্রম। দীর্ঘদিন পরে বিজয় উদযাপনে ফের খুলে দেওয়া হচ্ছে স্মৃতিসৌধ। তবে সামাজিক দূরত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে কর্তৃপক্ষ সতর্ক থাকবে বলে জানিয়েছে।

দিবসটির প্রথম প্রহরে জাতির বীর সন্তানদের উদ্দেশে বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, রাজনীতিবিদ, কূটনীতিকসহ বিশিষ্ট জনেরা। এরপর খুলে দেওয়া হবে সর্বস্তরের মানুষের জন‌্য। বিজয় উদযাপনে প্রতি বছরের মতো এবারও সেজে উঠেছে স্মৃতিসৌধ।

পুরো সৌধ প্রাঙ্গণকে ধুয়ে মুছে এরইমধ্যে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। বর্ণিল ফুলের চারা রোপণ ও রঙ তুলির আঁচরে সাজিয়ে তোলা হয়েছে পুরো সৌধ চত্বর। লাল, নীল, হলুদ বাতির ঝলকানিতে রাতের আকাশেও জানান দিচ্ছে বিজয়ের স্বাদ। এছাড়া, নিরাপত্তার জন্য সৌধ এলাকায় সিসি ক্যামেরা লাগানোর কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌধ কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, বিজয় দিবসকে সামনে রেখে গত ১৫ দিন ধরেই পুরো সৌধ এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য্য বর্ধনের কাজ করছেন গণপূর্ত বিভাগের ৬৫ জনসহ বাইরের প্রায় আরও ৫০ জন কর্মচারী। সৌধ স্তম্ভসহ পুরো এলাকা ধুয়ে ফেলার পর শহীদ বেদী থেকে প্রধান ফটক পর্যন্ত পায়ে হাঁটার লাল ইটের হেরিংবন্ড পথকে লাল ও সাদা রঙের আঁচরে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তোলা হয়েছে। এছাড়া, প্রতি বছরের মতো সৌধ প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে রোপন করা হয়েছে লাল, নীল, হলুদ, বেগুনিসহ বাহারী ফুল গাছের চারা। লেকের বাড়তি জলজ উদ্ভিদ পরিষ্কার করে লাগানো হয়েছে লাল পদ্ম। এছাড়া, পুরো এলাকায় শোভা বর্ধনে গাছ ও ঘাস ছেঁটে ফেলাসহ আলোকবাতি স্থাপনের কাজও এরইমধ্যে শেষ হয়েছে।

সৌধের পরিচ্ছন্নতাকর্মী সাগর মিয়া বললেন, ‘বিজয় দিবস উপলক্ষে পুরো সৌধ এলাকায় রঙের কাজ করেছি আমরা। দিন চুক্তিতে কাজ করেছি। এই কাজ করে শুধু টাকা পাইনি, শহীদদের প্রতি ভালোবাসা জানানোর সুযোগও পেয়েছি।’

সাভার গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে স্মৃতিসৌধের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ চলছে। এ বছর সৌধকে একটু অন্যরকম করে সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এসব কাজের জন্যে গত ৬ ডিসেম্বর থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশাধিকার পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়। ১৬ ডিসেম্বর সকালে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশি কূটনীতিকদের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের পর সৌধ এলাকা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।’

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএফএম সায়েদ বলেন, ‘অন্যবারের তুলনায় এবার দ্বিগুণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দু’পাশ ও ব্রিজসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি বসানো হয়েছে বাড়তি চেকপোস্ট। এছাড়া, বাড়ানো হয়েছে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারি।’

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ‘জাতীয় স্মৃতিসৌধে আগত সবার সর্বোচ্চ নিরাপত্তার জন্যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: