বকেয়া ভাড়ার টাকার জন্য বিপাকে ভাড়াটিয়া

উপজেলা প্রতিবেদক

সাভারের আশুলিয়ায় বকেয়া এক মাসের দুই হাজার টাকা বাসা ভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন দবির উদ্দিন শেখ নামে এক দরিদ্র এক ভাড়াটিয়া। ভাড়ার টাকার জন্য কক্ষে তালা ঝুলিয়ে স্ব-পরিবারে দবিরকে বের করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, দবিরের আসবাবপত্র বিক্রি ও আগুনে কাপড়-চোপড় পুড়িয়ে দেয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে।

বাগেরহাটের দবির উদ্দিন তিন ছেলে ও স্ত্রী হাজেরা বেগমকে নিয়ে ১৫ বছর যাবৎ হালিম মন্ডলের বাড়িতে ভাড়া ছিলেন। ভাড়া নেয়া ছোট তিন কক্ষের দুটিতে পরিবার নিয়ে থাকতেন হালিম। অপর একটি কক্ষে চা-পানের দোকান ছিলো তার। দবিরের বড় ছেলে ও স্ত্রী গার্মেন্ট শ্রমিক।

শনিবার আশুলিয়ার নরসিংহপুরে সিংগাপুর ট্রেনিং সেন্টার সংলগ্ন হালিম মন্ডলের মালিকানাধীন বাড়িতে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। দরিদ্র দবিরের প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা ঘটনার বর্ণনা দিলেও কেউ প্রভাবশালী হালিমের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে রাজি হয়নি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ দবির উদ্দিন শেখের।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, করোনা সংক্রমণের কারণে গত এপ্রিল মাসে দবিরের মাসিক দোকান ভাড়া দুই হাজার টাকা বকেয়া পড়ে যায়। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে যান প্রভাবশালী বাড়ির মালিক হালিম মন্ডল। বাড়ির ম্যানেজারকে দিয়ে স্ব-পরিবারে দবিরকে বের করে কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন মালিক। নিরুপায় হতদরিদ্র দবির পরিবার নিয়ে তিন দিন বাইরের বসবাস করেন। শুধু তাই নয়, ঘটনার ছয় মাস পর দবিরের কক্ষে থাকা আসবাবপত্র ও মালামাল বিক্রি করে দেন বাড়ির মালিক হালিম। পুড়িয়ে দেয়া হয় সন্তানদের স্কুলের ইউনিফর্মসহ সমস্ত কাপড়। এঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করার পর দবিরকে দেয়া হয় প্রাণনাশের হুমকি।

চা দোকানী দবির উদ্দিন শেখ বলেন, বিগত ১৫ বছর যাবৎ হালিম মন্ডলের বাসায় পরিবার নিয়ে আমি ভাড়া থাকি। তিন কক্ষের জন্য ৫ হাজার টাকা ভাড়া দিতাম। শুধু দোকান ভাড়া ২ হাজার টাকা। কিন্তু করোনার কারণে সংসারে অভাব-অনটন দেখা দেয়। তাই গত এপ্রিল মাসে দোকানের মাসিক ভাড়া বকেয়া থাকে। কিন্তু বাসা মালিক হালিম আরো ৫ হাজার টাকা পাওনা দাবি করেন। এই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ম্যানেজার আবুলকে দিয়ে আমার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয় মালিক। পরে স্ত্রী সন্তান নিয়ে তিন দিন বাইরেই থাকি। এরপর একই এলাকায় পাশেই আরেকটি বাসা ভাড়া নেই।

তিনি আরো বলেন, এঘটনার ছয় মাস পর হঠাৎ গত বৃহস্পতিবার আমার কক্ষে থাকা খাট, ফ্রিজ, র‌্যাকসহ প্রায় ১ লক্ষাধিক টাকার মালামাল বিক্রি করে দেয়। পুড়িয়ে দেয়া হয় সমস্ত কাপড়-চোপড়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো উপর মহলের ফোন আসছে জানিয়ে তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন পুলিশের এসআই তানিম হোসেন।

আট বছর বয়সী দবিরের ছোট ছেলে রনি জানায়, আমি প্রাইভেট থাইয়ে আসতিছে দাড়ায় দেখতেছি কি সব মালছামানা বাহির কইরা পুড়ায় ফালাইতাছে। আমার সার্ট, প্যান্ট, স্কুল ড্রেস সব পুড়ায় দিছে। র‌্যাক, থালবাটি বেইচা দিছে। ফ্যান গুলা নিয়া গেছে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির ম্যানেজার আবুল হোসেন ও মালিক হালিম মন্ডলকে পাওয়া যায়নি।

তবে বাড়ির ম্যানেজার আবুল হোসেন ফোনে বলেন, আমি হালিম মন্ডল বাড়ি থেকে এক বছর আগে বের হইয়ে আইছি। আমি ওই ব্যাপারে তেমন কিছু জানি না।

বাড়ির মালিক হালিম মন্ডল ফোনে বলেন, ওর কাছে অনেক গুলো টাকা পাইতাম বাসা ভাড়া প্রায় ৩১ হাজার টাকার মতো। তারপর হচ্ছে উও আমার দুইটা রুম ভাঙছে দুকান করার জন্য। পরে দুকানটা উও করতে পারে নাই। ছয়-সাত মাস উও এইভাবে বসায় রাখছে সেটারও ভাড়া দেয় নাই। সব মিলায় উর কাছে প্রায় ৫০ হাজার মতো পাইতাম।

পাঁচ হাজার টাকা পান সে ব্যাপারে বলেন, উতো বলবেই। ওরতো বলারি কথা না, স্বীকারি করার কথা না যে আমি টাকা পাবো।

মালামাল পুড়িয়ে ফেলার বিষয়ে বলেন, কাপড়-চোপড় ওর না কার আমি জানি না। আমার ওখানে প্রায় ৩০-৪০টা রুম খালি। এর মধ্যে ভাড়া না দিয়া করোনাকালীন সময়ে ২০জনের মতো পালায় গেছে। এখন সেইখানে ওর কাপড় থাকতে পারে অমি অস্বীকার করবো না। আমি পরিষ্কার করার অর্ডার দিছি ওরা সব রুম পরিষ্কার করছে। আমি তখন ছিলাম না।

তবে পুড়িয়ে দেয়ার সময় ম্যানেজার আবুল হোসেন ছিল কি না সে বিষয়ে বলেন, মাঝখানে অনেক দিন ওই ছিল না আমার কাছে। তবে যখন পরিষ্কার করে তখন ওই ছিলো। আমি অর্ডার দিছে ওরা পালন করছে। সে ম্যানেজার যেই হোক।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী উপ-পরিদর্শক (এসআই) তানিম হোসেন বলেন, তদন্তে ওখানে গেছিলাম। ওই যে ম্যানেজারতো বলতেছে, হ এটা করছে এটা মালিকে করছে। মালিকের সাথে কথা বললাম, মালিকে বলতেছে- ভাড়াটারা পায় প্রায় ১১ মাস। এরা বাসাটাসা না কি তালা মাইরা চলে গেছে। পরে উনি না কি ভাড়াটারা পায় না তাই জিনিসপত্র বাইর কইরা বেঁচে দিছে খাট-মাট যা ছিলো। এমনি তোষক-মোসক যা ছিলো ওনারা না কি বাইরে বের করে নষ্ট কইরা ফেলছে।

তিনি আরো বলেন, তবে বাড়ির মালিকের উচিত ছিল কথা বলা। বাড়ির মালিককে বলছিলাম যে, সামনা সামনি কথা বলে আপনার যদি দেনা-পাওনা থাকে ওটা কিভাবে দেবে। আর ওনার (দবির) যদি কোন ক্ষতিপূরণ থাকে সেটা সেই ভাবে সমন্বয় করে দেয়ার জন্যে। কিন্তু উনি (বাড়িওয়ালা) মনে হয় আসলে আমাদের মূল্যায়ণ করে নাই আর কি।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: