বন্যায় প্লাবিত আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল, দুর্ভোগে লাখো মানুষ

উপজেলা প্রতিবেদক

গত প্রায় এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বন্যার পানিতে একে একে প্লাবিত হচ্ছে রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী সাভার উপজেলার আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল। ডিইপিজেড খ্যাত এই অঞ্চলের অধিকাংশ গ্রাম এখন পানিতে তলিয়ে গেছে। রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট, বাজার, কৃষিজমি ও বসবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন এই অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষ। সরকারি বা বেসরকারি সহযোগিতা না পেয়ে সবকিছুই যেন বিধাতার কাছে সপে দিয়েছেন পানিবন্দী এই পরিবার গুলো।

মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, রাজধানী ঢাকার উত্তর অঞ্চল বেষ্টিত তুরাগ, বংশী ও ধলেশ^রী নদী বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর এই নদী উপকূলীয় সাভার ও ধামরাই অঞ্চলের ২৮ টি ইউনিয়নের অন্তত ২০টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে।

সোমবার উপজেলার আশুলিয়া থানাধীন ধামসোনা, নলাম, শিমুলিয়া, কাঁইচাবাড়ি সহ বেশ কিছু এলাকা ঘুরে বন্যাকবলিত মানুষের চরম দুর্ভোগ দেখা গেছে।

কিছুদিন পূর্বেও ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের পেছনে (ডিইপিজেড) যেখানে বসতবাড়ি, খামার ও চাষের জমি ছিল এখন যতদূর চোখ যায় চোখে পড়ে বিস্তীর্ণ জলরাশি। কোথাও কোথাও অথৈ পানিতে ডুবে থাকা ঘর-বাড়ির চালা গুলোকে দূর থেকে মনে হয় ভেসে থাকা কোন জলযান। চারপাশ পানিতে টইটুম্বুর হওয়ার পরও কেবলমাত্র গৃহপালিত পশু-পাখির জন্য একাই বাড়িতে নিভৃতে বসবাস করছেন কেউ কেউ। অনেকেই বসতবাড়ি ছেড়ে গৃহপালিত পশু-পাখিকে নিরাপদে সরিয়ে নিলেও বাজার-ঘাটে পানি ঢুকে পরায় বন্ধ হয়ে গেছে উপার্জন। জীবিকার প্রয়োজনে সকালে অনেকেই ভিজে কাপড়ে যেমন কর্মস্থলে যোগ দিচ্ছেন, একই কাপড়ে আবার বিকেলে বাড়ি ফিরছেন। ফলে চরম ভোগান্তির সাথে যোগ হয়েছে শরীরে বিভিন্ন রোগের উপসর্গ।

এসব এলাকারা পানিবন্দী অসহায় পরিবার গুলোর অভিযোগ, একদিকে করোনা মহামারির আতঙ্ক অপরদিকে বন্যায় প্লাবিত হয়ে উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খাদ্য সংকটে ভুগছেন তারা। পানিতে বাড়ি-ঘর তলিয়ে যাওয়ায় অন্যত্র কোন ভাবে দিনপার করছেন তারা। গবাদি পশু-পাখি গুলোর খাবার যোগান দিতে না পেরে কেউ কেউ নামমাত্র দামে বিক্রি করেছেন। আর পরিবারের ছোট্ট শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে এই পানিবন্দী অবস্থায় চরম উৎকণ্ঠা ও হতাশার মধ্যে দিয়ে সময় কাঁটছে তাদের। বিভিন্ন মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে ত্রাণ বিতরণের কথা জানতে পারলেও তাদের কপালে জুটেনি এর ছিটেফোঁটাও।

আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, হঠাৎ করেই পানি এলো। তারপর সব তলিয়ে গেলো। কিছুই বের করতে পারিনি। সহায় সম্পদ সব ঘরে রেখে চলে এসেছি।

শিমুলিয়া এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল আলম বলেন, গত ২০ বছরে এরকম বন্যা দেখিনি। এবারের বন্যায় পুরো এলাকা তলিয়ে গেছে। কোন কাজকর্মও করতে পারছি না। চাষের জমিও ডুবে গেছে। এখন খাবারও নেই। এছাড়া কোন সহযোগীতাও পাইনি। সব হারিয়ে এখন না খেয়ে মরার অবস্থায় পড়েছি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ধামসোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের ইউনিয়নের ৩টি ওয়ার্ড বাদে ৭টাই ডুবে গেছে। আর ৬ ইঞ্চি পানি বাড়লে ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরে পানি ঢুকে যাবে। কিন্তু এখনো কোন সহযোগীতা পাইনি সরকারি। সেভাবে কোন ব্যবস্থাও নিতে পারিনি আমরা।

এবিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজুর রহমানকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: