বন্যা কমছে, পানিবাহিত রোগ বাড়ছে

উপজেলা প্রতিবেদক

গেল প্রায় একমাস ধরেই বন্যার পানিতে প্লাবিত ঢাকার ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকা। গেল কয়েকদিন ধরে পানি কমছে। আর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলাজুড়ে বেড়েছে পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা। গেল দুই সপ্তাহে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মোট রোগীর প্রায় ৪০-৫০ ভাগ রোগীই কোন না কোন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে বন্যা পরবর্তী দুর্ভোগের কথা।

উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের বাসিন্দা নাইমুল ইসলাম জানান, বন্যার পানি কমে যাচ্ছে। কিন্তু বন্যার পানির সঙ্গে থাকতে থাকতে তাঁর বৃদ্ধ বাবার পায়ে ঘা হয়েছে, সঙ্গে জ্বর। হাঁটাচলা তো দূরের কথা, দাঁড়াতেই পারছেন না তিনি।

সুতিপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মনোয়ার হোসেনের অবস্থাও একইরকম। জানালেন, বন্যার পানিতে চলাচল করতে করতে তাঁর দুই পায়ে ঘা হয়ে গেছে। বাজার থেকে মলম এনে সেখানে দিচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, পানি নামলেও সুস্থ না হলে তো আর কাজে যেতে পারছেন না।

ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা প্রকাশ সূত্রধর জানালেন, বন্যা আসার পরে তার পুরো পরিবার পেটের পীড়ায় ভুগেছেন। এছাড়া বন্যার পানিতে গোসল করে তার সন্তানদের গায়ে চুলকানি হয়েছে। স্থানীয় হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূর রিফফাত আরা বলেন, বন্যার পর থেকেই পেট খারাপ আর চর্মরোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এছাড়া ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীও আসছেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে মোট রোগীর প্রায় ৪০-৫০ ভাগই আসছেন বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে। তাদেরকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া ডায়রিয়া রোগীদের জন্য থাকা আলাদা ওয়ার্ডে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।

এই কর্মকর্তা বলেন, এ সময় পানিবাহিত রোগ যাতে না হয়, সে জন্য অবশ্যই পানি ফুটিয়ে বা বিশুদ্ধকরণ বড়ি দিয়ে পান করতে হবে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: