বাবার কোলেই নৃশংস হত্যার স্বীকার শিশু তুুহিন

সুনামগঞ্জ প্রতিবেদক

প্রতিবেশীকে ফাঁসাতেই শিশু তুহিন মিয়াকে হত্যা করেছে তার বাবা ও চাচারা। এলাকায় পক্ষ-বিপক্ষ থাকার জেরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।

এসময় তিনি বলেন, সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে শিশু তুহিন মিয়া হত্যাকান্ডে তার আত্মীয়-স্বজনদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

সোমবার (১৪ অক্টোবর) রাতে বাবা আব্দুল বাছিরের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিল শিশু তুহিন। পরে তাকে কোলে করে ঘরের বাইরে নিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় কোলের মধ্যেই বাবা,চাচা ও এক চাচাতো ভাই ধারালো ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যা করে হত্যা করে তাকে। এরপর তার লিঙ্গ ও কান কেটে পেটের মধ্যে ছুড়ি ঢুকিয়ে দেয় তারা। হত্যা শেষে বাড়ির পার্শ্ববর্তী মসজিদের পাশে কদম গাছে তারা মরদেহ দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখে। নিহত তুহিনের বাবার হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি ছিলো। এলাকায় পক্ষ, বিপক্ষ ছিল, তাদের ফাঁসাতেই এ হত্যাকাণ্ড হতে পারে।

শিশু তুহিনের মায়ের দায়ের করা মামলায় আপাদত পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তারা হলেন, নিহত তুহিন মিয়ার বাবা আব্দুল বাসির, চাচা জমশেদ আলী, মোছাব্বির আলী, নাছির উদ্দিন ও চাচাতো ভাই শাহরিয়র হোসেন। এর মধ্যে আব্দুল বাছির, চাচা জমশেদ আলী, মোছাব্বির আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পুলিশের পক্ষ থেকে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত তিন জনকে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সুনামগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট খালিদ মিয়ার আদালতে চাচা নাসির উদ্দিন ও চাচাতো ভাই শাহরিয়ার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার ব্যাপারে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বিষয়টি পুলিশের আইজিপি নিজেই সার্বক্ষণিক মনিটরিং করেছেন। আমরা মামলার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করেছি, কারা মারছে কেন মারছে, কীভাবে মারছে। আমরা বিষয়টা আমরা জেনেছি। মামলাটি আরো তদন্তের দরকার আছে, মূল পরিকল্পনায় অন্য কেউ, কারা তা খুঁজে বের করা হবে। নিহত শিশুর শরীরে দু’টি ছুরি ঢোকানো ছিল, আমরা তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠাবো।

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে পাঁচজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের চাচী ও চাচাতো বোন আটকে করা হয়েছিল, তবে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।

এমএম/এএসবি/এমআই/শিরোনাম বিডি

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
%d bloggers like this: