বাবুগঞ্জে ছাত্ররা চুরি করেছে সুপারের বাসা

বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ বাবুগঞ্জে থানা সদরে অবস্থিত বাবুগঞ্জ দাখিল মাদ্রাসা সুপারের বাসায় চুরি করেছে একই মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র রাশেদুল ইসলাম(১২), ৩য় শ্রেণির ছাত্র জুয়েল(৯) ও ২য় শ্রেণির ছাত্র আরাফাত(৮)। শিশু চোরেরা ওই মাদ্রাসার এতিম খানায় থেকে লেখা পড়া করত। গতকাল দুপুর একটায় চুরির ঘটনা ঘটে। সংবাদ পেয়ে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় শিশু জুয়েল ও আরাফতাকে মাদ্রাসা থেকে আটক করা হয়। আটক দুই জনের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে মাদ্রাসা সুপার সিদ্দিকুর রহমান জানান, তিনি স্বপরিবারে বেড়াতে গিয়েছিলেন চাখার তার শ্বশুর বাড়ি। সূযোগ সন্ধানী রাশেদুল এ সূযোগকে কাজে খাটিয়ে গতকাল জুয়েল ও আরাফাতকে নিয়ে বাসার পিছনের জানালা ভেঙ্গে গৃহে প্রবেশ করে। মা বাবাকে রেখে সুপারের দুই ছেলে সাব্বির আহাম্মেদ মিছবাহ ও মোরসালিন নানা বাড়ি থেকে চলে এসে গৃহে প্রবেশ করে পিছনের দরজা খোলা দেখতে পায়। সন্দেহজনক ভাবে তারা গৃহে প্রবেশ করে রাশেদুল, জুয়েল ও আরাফাতকে দেখতে পায়। মিছবাহ এগিয়ে গেলে রাশেদুল তাকে ধারাল অস্ত্র দেখিয়ে খুন করার কথা বললে সে গৃহ থেকে বেড়িয়ে গিয়ে বাহির থেকে দরজা বন্ধ করে দিয়ে প্রতিবেশীদের ডাক দেয়। কিন্তু ততক্ষনে চোরেরা স্টিল আলমিরা ভেঙ্গে সংগৃহিত ৫ হাজার টাকা, সাড়ে ৫ ভড়ি স্বর্ণালংকার ও ১টি ল্যাপটপ নিয়ে পালিয়ে যায়। রাশেদুল পালাতক থাকলেও অপর দুই শিশু জুয়েল ও আরাফাতকে পুলিশ আটক করে। তবে চুরি হওয়া সবকিছু নিয়ে রাশেদুল পালিয়ে যায়। রাশেদুল ময়মনসিং জেলার আঃ কাদের’র ছেলে হলেও তার নানা রাজকার গ্রামের মৃতঃ আব্দুল কাদের মৃধা মামা জাহাঙ্গীর মৃধা এবং জুয়েল ওলানকাঠী গ্রামের সিদ্দিক হাওলাদারের ছেলে ও আরাফাত কেদারপুর ইউনিয়নের নামারচর এলাকার নূরে আলমের ছেলে। এ ব্যপারে বাবুগঞ্জ দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোঃ সিদ্দিকুর রহমান বলেন চুরির নেপত্যে মাদ্রাসার বাবুর্চি জরিত থাককে পারে। থানার ওসি দিবাকর চন্দ্র দাস বলেন, চুরির ঘটনাটা সন্দেহ জনক। এমনও হতে পারে এটা পূর্ব পরিকল্পিত কিংবা পরিবারের লোক দ্বারা সংঘটিত হয়েছে। অতপর নিজেদের বাঁচাতে মাদ্রাসার ছোট ছোট শিশুদের উপর দায়ভাড় চাপান হয়েছে। আর তা না হলে মাদ্রাসার কেউ ঘটনার সাথে জড়িত আছে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!