বাড়ির কেয়ারটেকার হত্যার তিন মাস পর রহস্য উদঘাটন: পুলিশ

উপজেলা প্রতিবেদক

ঢাকার সাভারে বাড়ির কফিল উদ্দিন নামে বাড়ির এক কেয়ারটেকারকে হত্যার তিন মাস পর রহস্য উদঘাটনের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এঘটনায় পলাতক ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া রিতা বেগম হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

এক কেয়ারটেকারের ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েই তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর পালিয়ে গিয়েছিলেন বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার একই বাড়ির ভাড়াটিয়া রিতা বেগম।

শুক্রবার সন্ধ্যায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুদীপ কুমার গোপ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে ভোরে আশুলিয়ার জিরাবো এলাকা থেকে পলাতক রিতা বেগমকে গ্রেপ্তারের পর দুপুরে আদালতে পাঠায় পুলিশ। পরে বিকেলে ঢাকা মুখ্য বিচারিক আদালতের সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুজ্জামান শিকদার আসামীর জবানবন্দী শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গ্রেপ্তার রিতা বেগম নওগাঁ জেলা সদরের চকরামচন্দ্র মহল্লার খাইরুল ইসলামের মেয়ে। নিহত কফিল উদ্দিন (৬০) জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানার পাথরশি গ্রামের মৃত মুন্সী শেখের ছেলে। তিনি আশুলিয়ার বঙ্গবন্ধু সড়কের ডা. শাফকাত হোসেনের বাড়ির কেয়ারটেকার ছিলেন।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুদীপ কুমার গোপ বলেন, গত ২২ মার্চ আশুলিয়ার বঙ্গবন্ধু রোডের ডা. শাফকাত হোসেনের বাড়ির কেয়ারটেকার কফিল উদ্দিনের রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসময় নিহতের শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন না থাকায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের হয়। তবে মরদেহ পোস্ট মর্টেমের জন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনার পর থেকে ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া রিতা বেগম পলাতক থাকায় বিষয়টি সন্দেহজনক ছিলো। পরে তিন মাস পর অধিকতর তদন্তে ও প্রযুক্তির সহায়তায় শুক্রবার ভোরে রিতাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেন রিতা। পরে নিহতের স্ত্রী হানুফা বেগম আশুলিয়া থানায় বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করলে ওই মামলা তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

আসামির স্বীকারোক্তির বিষয়ে এসআই সুদীপ বলেন, বিজ্ঞ আদালতে আসামী হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছেন। মূলত কেয়ারটেকার কফিল উদ্দিনের ওই বাড়িতেই ভাড়া থাকতেন রিতা বেগম। এই সুবাদে কফিলের সাথে তার সুসম্পর্ক হয়। মাঝে মধ্যে কফিলের রান্নার কাজেও সাহায্য করতেন রিতা। ঘটনার দিন রাতে ওই নারী মাছ কেটে ঘরে দিতে গেলে কফিল তাকে কুপ্রস্তাব। এতে রাজি না হলে জোরপূর্বক ধর্ষণচেষ্টা করে কফিল। এসময় রিতা তার গলা চেপে ধরলে কপিল মেঝেতে পড়ে মারা যায়। আগে থেকেই শ্বাস কষ্টের রোগী ছিলো কফিল। ঘটনা আড়াল করতে কফিলের হাতে ইনহেলার দিয়ে সকালেই বাসা ছেড়ে পালিয়ে যান রিতা।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!