বিএনপির আইনজীবীদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ক্ষমার অযোগ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির তারিখ পেছানোর পর বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আদালতে যে হট্টগোল করেছেন, তাকে ক্ষমার অযোগ্য বলছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শুক্রবার আওয়ামী লীগের সভাপতির ধানমন্ডি কার্যালয়ে দপ্তর কমিটির বৈঠেক এ কথা জানান তিনি।

গতকাল জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের আদেশ হওয়ার কথা ছিল প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চে। দুটি মামলায় দণ্ড নিয়ে কারাবন্দি খালেদা এই মামলায় জামিন পেলেই মুক্ত হবেন বলে বিএনপির আইনজীবীরা বলে আসছেন। সেই আশায় গতকাল আদালতে জড়ো ছিলেন দলটির অনেক আইনজীবী।

কারাবন্দি খালেদা চিকিৎসার জন্য গত এপ্রিল মাস থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে রয়েছেন, তার অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটেছে বলে বিএনপির দাবি।

খালেদার জামিন আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে গত ২৮ নভেম্বর তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানতে মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন চেয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বিএসএমএমইউ হাসপাতালের ওই মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন গতকাল আদালতে আসার কথা ছিল।

কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে শুনানির শুরুতেই বলেন, খালেদা জিয়ার কিছু পরীক্ষা হয়েছে, কিছু পরীক্ষা বাকি আছে। সেজন্য সময় প্রয়োজন বলে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ জানায়।

পরে প্রধান বিচারপতি আগামী ১২ ডিসেম্বর শুনানির পরবর্তী তারিখ রেখে তার আগেই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। এর সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির আইনজীবীরা শুনানির তারিখ এগিয়ে আনার দাবিতে আদালত কক্ষের ভেতরে হৈ চৈ শুরু করেন।

বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের নজিরবিহীন হট্টগোলের ঘটনায় বিচারপতিরা কোনো আদেশ না দিয়ে এজলাস কক্ষ ত্যাগ করে চলে যান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি আদালতে যে ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে, তা ক্ষমার অযোগ্য। বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে এখন দুরভিসন্ধি করছে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মামলা রাজনৈতিক মামলা নয় যে রাজনৈতিকভাবে সরকার তাকে মুক্তি দিতে পারে। এটা হলো দুর্নীতির মামলা। দুর্নীতির মামলায় সরকারের কোনো করণীয় নেই। এটা আদালতের বিষয়ে। আজকে তারা (বিএনপি) কথায় কথায় বলে রাজনৈতিকভাবে আটকে রাখা হয়েছে, বন্দি রাখা হয়েছে, সর্বৈব মিথ্যা এবং সত্যের অপলাপ। বিষয়টি জেনেশুনেই তারা বলছে। আমি মনে করি আদালতে ভেতরে, আদালত কক্ষে তারা যে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছে, হট্টগোল করেছে, সেটা ক্ষমার অযোগ্য।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আদালত প্রাঙ্গণে তারা রণাঙ্গন সৃষ্টি করেছে। সবাই দেখেছে। শেষ পর্যন্ত প্রধান বিচারপতিকে কমেন্ট করতে হয়েছে, ‘আমি এ ধরনের ঘটনা ঘটতে আর কখনো দেখিনি। বাড়াবাড়িও একটা সীমা আছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন কথা বলেন, তিনি জেনে শুনেই কথা বলেন। বিএনপি কি বলছে, সেটা বিবেচনা করে তিনি কথা বলেন না। তিনি যেটা বলেন, সেটা নীতিগতভাবে। তিনি যেটা বলেন, আদালতের বিষয়ে আদালত নির্ধারণ করবে। এটা বলা তো অপরাধ নয়।’

বিএনপি দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

সেতুমন্ত্রী বলেন, সহিংসতা করে বিএনপি ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। আন্দোলনের নামে নৈরাজ্যর চেষ্টা রুখে দেওয়া হবে।

দপ্তর উপ কমিটির আহ্বায়ক আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া ও সদস্য আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

আইআই/শিরোনাম বিডি

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: