বিড়ম্বনার যাত্রা শেষে যাওয়া হলো না কারখানাতেও

সাভার প্রতিনিধি

হুট করে পোশাক কারখানা খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন ঈদে গ্রামের বাড়িতে অবস্থানরত পোশাক শ্রমিকরা। কয়েক গুণ বেশি ভাড়ায় নানা বিড়ম্বনার মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েই তারা যোগ দিচ্ছেন কর্মস্থলে। গতকাল থেকেই সাভার শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের দলবেধে আসতে দেখা গেছে। আজ ভোরেও একই চিত্র ছিলো এখানকার পথে পথে। তড়িঘরি করে বেশি ভাড়ায় পৌঁছলে বিলম্বের কারণে অনেকেই আজ কারখানায় কাজে যোগ দিতে পারেননি। আর বিজিএমইএ’র নতুন করে দেয়া স্বাস্থ্যবিধি মানতে কারখানা কতৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ নেয়নি বলেও জানান কাজে যোগ দেয়া শ্রমিকরা।

রোববার ভোর থেকেই সাভারে ঢাকা-আরিচা, নবীনগর-চন্দ্রা ও টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের বিভিন্ন স্থানে বাড়ি ফেরত শ্রমিকদের গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। ট্রাক, মাইক্রোবাস, কাভার্ড ভ্যান, সিএনজিতে দূরের পথ পাড়ি দিয়ে নেমেও পাচ্ছেন না স্থানীয় গণপরিবহন।গার্মেন্টে কাজ যোগ দেওয়ার জন্য পথে এত বিড়ম্বনা ভুগেও কর্মস্থলে যেতে না পারায় ক্ষোভ জানিয়েছেন সাধারণ শ্রমিকরা।

শিমুলতলা এলাকার নাভা নিট কম্পোজিট কারখানার শ্রমিক মোহন মিয়া বলেন, ‘গতকাইলকা রাইতে টাঙ্গাইল মধুপুর থাইকা আইছি আমি। গাড়ি না পাইয়া ৫০০ ট্যাকা সিএনজি, রিকশা ভাড়া ৪০০ ট্যাকা দিয়া বাইপাইল আইতে হইছে। এ্যামনে সময়ে যে ভাড়া ২৫০ ট্যাকা।’

‘আইজকা ফ্যাক্টরিতে সবাই এখনো আসে নাই। ধরেন ১০০ জনের মধ্যে ৭০ জন শ্রমিক কাজে আইছে। আগে য্যামেন কারখানায় ঢুকছি আইজকাও একই রকম। নতুন কোন নিয়ম দেখি নাই।’

জিরাবো এলাকার সিলভার অ্যাপারেলস কারখানার শ্রমিক রিপন কান্তি বলেন, ‘আগের যেমন পরিবেশ ছিলো সে ভাবেই আজকেও ঢুকছি। সাবান দিয়ে হাত ধুলেও আগের মতই গাদাগাদি করে আমরা কারখানায় ঢুকছি। আমাদের এখানে তাপমাত্রা মাপার কোন মেশিনও নাই।’

পুরাতন ইপিজেডের গোল্ডটেক্স লিমিটেড কারখানার শ্রমিক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘অনেক শ্রমিক এখনো আসতে পারে নাই। আমাদের কারখানায় ৪ হাজারের মত শ্রমিক। এখনো শতকরা ১০ জন বাকী আছে। ঈদের আগে আমরা যেভাবে সাবান-পানি দিয়া হাত ধুয়ে ঢুকছি আজকেও ওইরকম। নতুন কোন সিস্টেম নাই।’

কাঠগড়া এলাকার একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক বিজলী বেগম বলেন, ‘আমার বাড়ি গাইবান্ধা। চর এলাকায় বাড়ি। হুট কইরা পরশু দিন আত (রাত) ৭টার সময় অপিস থাইকা মেসেজ দিছে যে ১ তারিখ অপিস খোলা। যে ভাড়া ৩০০ ট্যাকা, সেই ভাড়া ২০০০ ট্যাকা দিয়া আইছি। বাইপাইল আইসাও গাড়ি পাই নাই। আইজকা অ্যাবসেন (অনুপস্থিত)। ট্যাকার ট্যাকাও গেলেও অপিসও অ্যাবসেন হয়্যা গেল।’

নাম প্রকাশে আরেক নারী শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার যাওয়ারতো ব্যবস্থা ঠিকি কর‌্যা দিলো। আসার ব্যবস্থা কর‌্যা দিলো না ক্যা? সরকার জানে না, শ্রমিকরা দ্যাশে পোলাপান, বাপ-মায়ের সাথে ঈদ করবো। মাইক্রোবাস ভাড়া নিয়াও অদ্যা ঘাটাত আইসা অপিস মিস হলো।’

গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাংগঠনিক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, ‘মালিকপক্ষের উচিত ছিলো কারখানা যে দশ দিন বন্ধ ছিলো। এই সময়ে তারা কারাখানার কর্ম পরিবেশটা আরও উন্নত করতে পারতো। অর্থাৎ তারা স্বাস্থ্যবিধি মানার যে সব ব্যবস্থা গুলো আছে।কারণ আগে তারা যেটা বলেছেন, এই কাজ গুলা করতে গেলে উৎপাদনের ক্ষতি হবে। এই সমযের মধ্যেতো তারা এ গুলো করতে পারতো। কিন্তু তারা করে নাই। অর্থাৎ মালিকদের সদিচ্ছার অভাব স্পষ্ট।’

‘আর নতুন করে গত রাতে বিজিএমইএ’র সভাপতির নির্দেশনা দেওয়ারতো কোন মানে হয় না। এই দশ দিনে যারা কারখানার স্বাস্থ্য নিরপত্তা নিশ্চিত করতে পারে নাই। তারা গভীর রাতে দেয়া এই নির্দেশনা ২ ঘন্টায় কিভাবে করবে? এটা সরকারকে বোঝানোর জন্য ও ভালো হওয়ার জন্য এ গুলা করতেছে।’

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!