বেদে পল্লীতে মাদক বিরোধে মারামারি, ধামাচাপা চেষ্টা কাউন্সিলরের

উপজেলা প্রতিবেদক

সাভারে বেদে পল্লীতে মাদক নিয়ে বিরোধিতার জেরে মারধরে নারীসহ দুইজন আহতের ঘটনায় । এ ঘটনায় দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে স্থানীয় কাউন্সিলর রমজান আলী এ ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওবাইদুর রহমান।

এরআগে, বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে তাদের গ্রেফতার করে ঢাকার বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়। গত ১৭ আগস্ট সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী আব্দুল বারেক মন্ডল। পরে ওইদিনই রাতে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা রুজু হলে দুইজনকে আটক করে থানা পুলিশ।

গ্রেফতার আসামীরা হলো- সাভারের বেদে পাড়া এলাকার মৃত শাহাবুদ্দিনের ছেলে মাসুদ (৪০) ও একই এলাকার রাসেলের ছেলে পল্টন (৫৫)। এদের মধ্যে মাসুদ মামলার প্রধান আসামি ও পল্টন তিন নম্বর আসামি।

মামলার বাকি আসামীরা হলো- মোঃ শফি কামাল (৪৩), ডাব্বা (২২), মোঃ শিরাজুল (৩৮), মদিনা (৩৮) ও সুমি (৩৬)। তারা সবাই বেদে পাড়া এলাকার বাসিন্দা। এছাড়াও আরও ৭/৮ জন। তারা সবাই সাভারের পোড়াবাড়ির (বেদেপাড়া) বাসিন্দা।

অপরদিকে অভিযোগকারী আব্দুল বারেক মণ্ডল সাভারের কাঞ্চনপুর এলাকার মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ তারিখ সাভার পৌরসভার কাঞ্চনপুর বেদেপল্লীতে ভুক্তভোগীর নাতনীর বিয়েতে ব্যস্ত থাকার সময়ে দেশীয় অস্ত্রসহ অতর্কিতে হামলা চালায় অভিযুক্তরা। এসময় ভুক্তভোগীর ছেলের মাথায় ও বাহুতে ধারালো রামদা দিয়ে আঘাত করা হয়। তার স্ত্রীর মাথায় কোপ দেয়া হয়। এসময় বাবা ও নানীকে বাঁচাতে এসে হামলার শিকার হন অভিযোগকারীর নাতনী। এসময় অভিযোগকারীর পরিবারের দুই ঘর থেকে প্রায় আড়াই লাখ নগদ টাকা, ২ ভরি স্বর্ণ লুটপাট করে তারা। এছাড়া ঘরবাড়িতে ব্যাপক ভাংচুরও চালানো হয়।

এদিকে এই ঘটনা মীমাংসা করতে পরিবারকে চাপ দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আব্দুল বারেক মণ্ডল। ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় কাউন্সিলর রমজান আলীর চেষ্টা করারও অভিযোগ করেছেন তিনি।

ভুক্তভোগী আব্দুল বারেক মণ্ডল বলেন, অভিযুক্তরা সবাই এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তারা এলাকায় প্রকাশ্যে মাদকের ব্যবসা করে। আমার ছেলে এটার প্রতিবাদ জানিয়েছিল। পরে সেটার প্রতিশোধ নিতে অভিযুক্তরা আমার নাতিনের বিয়ের দিন আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর ও লুটপাট করে। পরে আমরা থানায় মামলার প্রস্তুতি নেই। এরইমধ্যে কাউন্সিলর রমজান আলী এসে পুলিশের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার দোহাই দিয়ে আমাদের মামলা না করে এলাকাগত ভাবে মীমাংসা করতে নির্দেশ দেন। তিনি আমাদেরকে যারা মারধর করল তাদেরকেই উল্টো ২ লাখ বা এর বেশি জরিমানার টাকা দিতে বলেন। পরে আমরা থানায় যাই। সেখানে ও রমজান আমাদেরকে মামলা তুলে নিতে বলে। পরে মামলা হয়ে গেলে আসামি ছাড়াতেও রমজান আদালতে গিয়ে আমাদেরকে চাপ দিলে আমরা ওই দুই আসামীকে ছেড়ে দিতে বলি।

এ বিষয়ে জানতে সাভার পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড তথা বেদেপল্লী এলাকার কাউন্সিলর রমজান আলীকে তার (017157535** ও 017131450**) নম্বর দুটিতে বারবার কল ও মেসেজ পাঠানো হয়। তবে তিনি ফোনও রিসিভ করেননি। এছাড়া মেসেজেরও উত্তর পাঠাননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুর রহমান বলেন, ওই ঘটনায় মামলা দায়েরের পর দুইজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে কাউন্সিলর রমজান বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।

এ বিষয়ে ঢাকার জেলার সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার কাছে এমন কোন তথ্য নেই। আপনি থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন’

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!