ভারতের দিকে মুখাপেক্ষী হয়ে আমার রাজনীতি না

জনশক্তি রিপোর্ট : পিটিআইকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সিনহা জানান, তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও দেশটির অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং শেখ হাসিনার সরকারকে সমর্থন না দেয়ার অনুরোধ করেছেন। বলেছেন, যদি ভারত সরকার আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেয়, তাহলে ‘দে উইল লুজ বাংলাদেশ’। তিনি এমনও বলেছেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন হচ্ছে, হিন্দুদের মন্দির ভেঙে দেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জাতিসংঘে মোদির কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন কি না- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান শেষে বুধবার করা সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান বেসরকাটি টেলিভিশন ইটিভির সিইও সাংবাদিক বুলবুল।

জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনি চিকিৎসার জন্য বাইরে গেলেন, বললেন, মেয়েদের দেখতে যাচ্ছি। তারপর সেখানে থেকে গেলেন। যে কথাগুলো ওনি বলেছেন, এখানে আমার কমেন্ট করার কিছু নেই। শেষ পর্যন্ত কী করেন, আমি দেখি। আমি অবজার্ভ করছি।’

আওয়ামী লীগকে সমর্থন না দিতে ভারতের প্রতি সিনহার আহ্বানের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা তো কারও মুখাপেক্ষী হয়ে রাজনীতি করি না। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে ওনি অনুরোধ করেছেন আমাকে সমর্থন না দিতে। এখন বিএনপি যাচ্ছে, গিয়ে সে অনুরোধ করে আসছে। এখন কে সমর্থন করবে, আর কে সমর্থন করবে না বা বাইরের দিকে মুখাপেক্ষী হয়ে আমার রাজনীতি না।’

‘আমি মনে করি আমার জোর হচ্ছে আমার দেশের জনগণ। আমার জনগণের সমর্থন আছে কি না, জনগণ আমাকে চায় কি না, জনগণ আমাকে ভোট দেবে কি না, আমি সেটাই বিচার করি।’

যদি পরমুখাপেক্ষী হয়েই ক্ষমায় আসার জন্য আমার আকাঙ্ক্ষা থাকত, তাহলে ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে ভারতের কাছে গ্যাস বেচার প্রস্তাবে সায় দিতেন বলেও জানান শেখ হাসিনা। বলেন, ‘আমার দেশের মানুষের শক্তিটা হচ্ছে আমার সব থেকে বড় শক্তি। সেই শক্তি যদি না থাকে আর দেশের মানুষ যদি না চায়, তাহলে কে আমাকে এনে ক্ষমতায় বসাবে, ওই আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রাজনীতি করি না। ওনি যেখানে গিয়ে যা বলতে পারে, আমার তাতে কিছু যায় আসে না।’

সিনহার বই লেখা এবং ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেয়া সাক্ষাৎকারের কথা তুলে ধরে প্রশ্ন রাখেন বেসরকাটি টেলিভিশন ইটিভির সিইও মনজুরুল আহসান বুলবুল।

২০১৭ সালের অক্টোবরে এক মাসের ছুটি নিয়ে বিদেশ যাওয়া সিনহা দেশে না ফিরে সিঙ্গাপুর দূতাবাসের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি তার বই ‘অ্যা ব্রোকেন ড্রিম’ এ দাবি করেছেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় দেয়ার পর চাপের মুখে দেশ ছেড়েছেন।

সিনহা যে লিখেছেন, সেটি পড়ে দেখার পরামর্শও দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমার আপত্তি নেই, দেখেন কী লেখেছেন।’

সিনহা গত বছরের ১৩ অক্টোবর দেশ ছাড়ার পর সুপ্রিম কোর্ট থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে তার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচার, নৈতিক স্খলনসহ মোট ১১ টি অভিযোগ আনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপিলেট ডিভিশনের কয়েকজন বিচারপতি মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে দেখা করে তারাই কিন্তু অভিযোগগুলো পেশ করেন। তারা এ কথাও বলেছিল, ওনি কোর্টে থাকলে তারা কোর্টে বসবেন না। সমস্যাটা কিন্তু এখানেই সৃষ্টি। এখানে আমরা কিছু করিনি।’

শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে আরো বলেন, ‘জাতিসংঘে গিয়েছি, ওখানে যতজন হেড অব স্টেট, হেড অব দ্য গভর্নমেন্ট এবং যতজনের সঙ্গে দেখা হয়েছে, প্রত্যেকে কিন্তু আমাকে কেবল একটা ম্যাসেজই দিয়েছে, আমরা কেবল আপনাকেই দেখতে চাই। আপনি ক্ষমতায় আসেন, সেটা চাই।’

‘আমি তখন বলেনি, আপনারা আসেন, আমাকে ক্ষমতায় বসিয়ে যান। আমি কিন্তু তা বলিনি, জবাব একটাই দিয়েছি। বলেছি, দেখেন দেশের মানুষ যদি ভোট দেয়, তাহলে আছি, না দিলে নাই। তাহলে এটাই আপনাদের সাথে আমার শেষ দেখা।’

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার গতিবিধি পর্যবেক্ষণে রাখার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতিসহ অন্যান্য অভিযোগ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতিরাই রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান শেষে বুধবার করা সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন ছিল, ‘সিনহার বিচার করবেন কি না’। সংক্ষিপ্ত জবাব দিয়ে তিনি বলেন ‘ল উইল টেইক ইটস ওঅন কোর্স (আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে)।’

জবাবটা অতি সংক্ষেপ এবং ইঙ্গিতে হলো কি না, এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে গুঞ্জনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী হাসতে হাসতে বলেন, ‘বেশি কথা বললে বলবেন বেশি কথা বলি, আর কম বললে বলবেন, কম বলি।’

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: