মধ্যবয়সী দুইজনকে বেঁধে নির্যাতন, আটক ২

উপজেলা প্রতিবেদক

সাভারে নাতনীকে আনতে গিয়ে তার শ্বশুড় বাড়ির লোকজনের হাতে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন দুই মধ্যবয়সী ব্যক্তি। মারধরের পর জিম্মি করে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করছে। এঘটনায় অভিযুক্ত দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে দুইজনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাভার মডেল থানার ওসি (তদন্ত) কামাল হোসেন।

নির্যাতনের শিকার দুইজন হলেন পঞ্চাশোর্ধ আব্দুল মান্নান ও শহীদ মোল্লা। তারা দুইজন সম্পর্কে আত্মীয়। মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর থানার ধরলা ইউনিয়নের বাসিন্দা তারা।

আটকেরা হলেন, সাভার উপজেলার বনগাঁও ইউনিয়নের হাদারপুর কাজীপাড়া এলাকার গৃহবধু সোনিয়া আক্তারের স্বামী আবুল কালাম ও শ্বশুড় বাশার মহাজন।

নির্যাতিত আব্দুল মান্নানের ছেলে ফরিদুল আহমেদ বলেন, সোনিয়ার বাবা ১০ বছর আগেই প্রবাসে সৌদি আরবে মারা গেছেন। তারপর থেকেই আমাদের বাড়িতে মানে সোনিয়া তার নানা আরশাদ আলির বাড়িতে বড় হয়েছে। ১১ মাস আগে কালামের সাথে যখন সোনিয়ার বিয়ের বিষয়ে কথা চলছিলো তখন ওদের সাথে আমাদের বিবাদ হয়। কালাম খারাপ কথা বলার কারণে। এরপর বিয়ে হয়ে গেলেও ওই বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য চলছিলো। কালামদের বাসায় কেউ আসা-যাওয়া করতো না। এরই মধ্যে সোনিয়া গর্ভবতী হওয়ার কথা জানতে পেরে তাকে নানার বাড়িতে মায়ের কাছে আনার কথা চলছিলো। এ জন্যই গত পরশু দিন (মঙ্গলবার) দুপুর দেড়টার দিকে সোনিয়ার নানা আমার বাবা আব্দুল মান্নান ও তার ফুপাতো ভাইকে বনগাঁও পাঠায়। তবে ওদের সাথে সম্পর্ক ভালো না থাকায় হাদারপুর বাজারে বসে স্থানীয় দুইজনকে সোনিয়াদের বাড়িতে পাঠায়। সোনিয়াকে তার শ্বশুড় বাড়ির লোকজন আসতে দিবে কি না সেটা জানার জন্য। পরে সোনিয়ার স্বামী ও শ্বশুড়সহ সহ তাদের বাড়ির লোকজন বাজারে এসে আমার বয়স্ক বাবা ও তার ফুপাতো ভাইকে পিছমোড়া করে গামছা দিয়ে বাঁধে। লাঞ্ছিত ও মারতে মারতে নির্জন স্থানের একটি বিল্ডিংয়ের ছাদে নিয়ে বসিয়ে মোবাইল ফোন ও টাকা কেড়ে নেয়। সাদা কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়। পরে নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও করে আমাদের কাছে পাঠায়। ভিডিওতে ওদের পক্ষে জোর করে কথা বলায় নেয় তারা। ওই ভিডিও ও ছবি আমাদের এলাকার অনেকের কাছে পাঠিয়ে সামাজিক ভাবে হেয় ও ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করে। পরে ৯৯৯ এ ফোন করে বিষয়টি জানানো হলে মঙ্গলবার রাত ২-৩ টার দিকে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্তদের আটক করে পুলিশ।

তিনি আরও বলেন, এঘটনার পর গতকাল বুধবার বিকেল ৪টার দিকে অভিযোগ দিতে সাভার মডেল থানায় গেলে ডিউটি অফিসার এসআই নাজিউর রহমানের সাথে কথা বলতে বলেন। পরে থানার ওসি (তদন্ত) কামাল হোসেনকে বিষয়টি জানালে তিনি আজ বৃহস্পতিবার সকালে আবার থানায় ডাকেন। তবে যাওয়ার আগে এসআই নাজিউরকে ফোন করলে তিনি আবারও বিকেলে আসতে বলেন। আসলে পুলিশ আমাদের সেভাবে কোন সাহায্য করেনি।

এ বিষয়ে সোনিয়ার স্বামী আবুল কালাম অস্বীকার করে কৌশল অবলম্বন বলেন, ‘আমিতো নির্যাতন কির নাইকা। ওনারা আমার আত্মীয় না। আমার শ্বশুড়ও না, নানা শ্বশুড়ও না। একজনরেতো আমি চিনিই না। আরেকজন দুঃসম্পর্কের আত্মীয় দুইজন আসছে। আইসা আমার বউরে জোরজবরদস্তি কইরা টাইনা নিয়া যাইতে চাইছে। তখন আমার বউ বাঁচাও বাঁচাও বইলা চিৎকার করছে। পরে দৌড়ায় গিয়া ধইরা আইনা বাইন্ধা রাখছে। পরেতো এখানে মিমাংসার মতো হইছে।’

কালাম মোবাইল ও টাকা কেড়ে নেয়ার কথা অস্বীকার করলে সাদা কাগজে জোর করে স্বাক্ষর নেয়ার কথা স্বীকার করেন। এর কারণ বলতে পারেনি তিনি।

তবে বনগাঁও ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজিউর রহমান ফোন ধরে সব শোনার পরে বলেন, আমি ব্যস্ত আছি পরে ফোন দেন।

সাভার মডেল থানার ওসি (তদন্ত) কামাল হোসেন প্রথমে বলেন, ‘আমিতো এতো কিছু জানি না। ওনাদের একটু থানায় পাঠায় দেন। আমরা মামলা নিবো।

তবে বিকেলে তিনি অভিযুক্ত দুইজনকে আটকের কথা নিশ্চিত করেন।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!