‘মাটি কাইট্যা ব্যাটারা পায় ২৮০, ম্যায়ারা ২শ’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ধামরাই

‘লেখাপড়া জানি না, হাতের কামও জানি না। খুলা (ইট ভাটা) ছাড়া আর কনে কাম করুম? তাই টেহা ইট্টু কম পাইলেও এনেই কাম করি।’

কথাগুলো বলছিলেন পঞ্চাশোর্ধ নারী মালেকা বানু। তিনি ঢাকার ধামরাইয়ের একটি ইটভাটায় দিন চুক্তি কাজ করেন। বছরের বাকি সময়টা তিনি বসতবাড়ির মাটি কাটা, বালু তোলার কাজ করেন।

জানালেন, পুরুষ শ্রমিকদের মতোই ভোর থেকে কাজ শুরু করেন তিনিসহ আরো বহু নারী। দিন চুক্তিতে দুপুর পর্যন্ত কাজ করেও পুরুষ শ্রমিকের তিন চতুর্থাংশ মজুরি পান তিনি।

তবে, এতেও ক্ষুব্ধ নন তিনি। জানালেন, অন্য কোন কাজ না করতে পারায় টাকা কম পেলেও এই কাজ করেন তিনি।

সরকারি অনুদানের গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা মালেকা জানান, ২৮ বছর বয়সের দিকে স্বামী মারা যায় তার। এরপরেই এক মেয়েকে নিয়ে অকুল সাগরে পড়ে যান তিনি। পরে এই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার পেতে নানা কাজ খোঁজা শুরু করেন তিনি। প্রথমে কাগজের কলে কাজ নেন। সেখানে দুর্গন্ধ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করতে হতো। তখন টার্গেট অনুযায়ী কাজ করে পুরুষ শ্রমিকদের চেয়ে বেশি টাকা তুলতে পারতেন। পরে কারখানা বন্ধ হলে আবারো নতুন কাজ খুজতে শুরু করেন তিনি।

এইসময়ে পোশাক কারখানায় গেলেও শিক্ষাগত যোগ্যতায় অক্ষরজ্ঞানও না থাকায় চাকরি পেতে ব্যর্থ হন তিনি। পরে ইটভাটায় দিন চুক্তি শ্রমিক হিসেবে যোগ দেন। যেখানে পুরুষ শ্রমিক ২৮০ টাকা পায় দৈনিক। সেখানে নারী শ্রমিকরা পান ২০০ টাকা।

তিনি বলেন, ‘মাটি কাইট্যা ব‌্যাডারা পায় ২৮০, আমি পাই ২শ টেকা।’

নারীদের সমঅধিকারে দিবস ও আন্দোলনের কথা তুলে ধরলে মালেকা জানান, মাটি কাটা কাজে তো সব পুরুষই বেশি পায়। পুরুষদের সঙ্গে কাজ করায় অনেকে বাজে কথা বলেছে। চরিত্র নিয়ে কথা বলেছে। কিন্তু পরিবার বাঁচাতে হবে।

তার ভাষায়, ‘ইরকম দিবস দিয়া কী আমাগো অয় নিহি। খুলায় (ভাটায়) না গেলে বাত আইবো না প্যাটে।’

এবিষয়ে সাভার উপজেলা নারী প্রগতি নেত্রী সনি আক্তার জানান, নারী দিবসের এতো বছর চলে গেলেও আজও নারীরা অবহেলিত। তারা আজো কর্মক্ষেত্রে অসমতার শিকার হন। ফলে রাষ্ট্র ও সমাজকে আরো দায়িত্ব নিয়ে এ বৈষম্য দূর করতে কাজ করতে হবে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: