মাতাল হয়ে যুবলীগ নেতাকে পেটালেন ডাকসু নেতা!

নিজস্ব প্রতিবেদক

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাহিত্য সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংস্কৃতি সম্পাদক আসিফ তালুকদারের বিরুদ্ধে যুবলীগের এক নেতাকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি রাজধানীর ৪নং ইউনিট যুবলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী রানা। এ সময় আসিফ মদ্যপ ছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। শুক্রবার রাতে রাজধানীর হাতিরপুল কাঁচাবাজারের সামনে এ ঘটনা ঘটলেও গতকাল সোমবার বিষয়টি জানাজানি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাতিরপুল কাঁচাবাজারের বিপরীত পাশে বলাকা ডেকোরেটরের সামনে দাঁড়িয়ে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা বলছিলেন রানাসহ আরও তিনজন। তাদের মধ্যে একজন ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফেরদৌস আলমের ছেলে সুজন। এ সময় তাদের মধ্যে উচ্চ বাক্য বিনিময় হচ্ছিল। তাদের পাশেই তিন-চারজনের বেষ্টনীর মধ্যে ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা আসিফ তালুকদার। রানাসহ বাকিরা উচ্চস্বরে কথা বলায় আসিফ তাদেরকে কথা বলা বন্ধ করতে বলে। তারা কথা বলা বন্ধ না করলে হঠাৎ করেই আসিফ গিয়ে রানার কলার ধরে টানতে টানতে সামনে নিয়ে যায়। আসিফকে থামাতে রানার সঙ্গে থাকা দুজন এগিয়ে গেলে সে মোবাইলে কলের মাধ্যমে আরও তিন-চারজনকে ডেকে এনে রানাকে বেদম মারধর করে। মারধরের পর রানাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন জানান, আসিফ রানাকে কলার ধরে টানাটানি শুরু করলে রানার সঙ্গে থাকা দুজন আসিফের পরিচয় জানতে চায়। তখন আসিফ বলে, একটু অপেক্ষা কর! পা থেকে মাথা পর্যন্ত পরিচয় দিব তোদের কাছে। এরপর একজন আসিফের পরিচয় দেয় যে, তিনি ডাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক। রানার সঙ্গীরা তখন আসিফের সঙ্গীদের জানায় যে, তারা ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানীর পরিচিত। কিন্তু গোলাম রাব্বানীর নাম নিতেই তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে গালাগাল শুরু করে আসিফ। তখন রানার সঙ্গীরা জানায়, তারা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ফজলে নুর তাপসের রাজনৈতিক কর্মী, যুবলীগ করে। তখন আসিফ বলে, তাপস কে, তাপসকে চিনি না! এরপর আসিফ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ছেলে সুজনকে ধাক্কা দিতে থাকে। এক পর্যায়ে আরও কয়েকজনকে নিয়ে এসে রানাকে মারধর করে। শুধু রানা নয়, হাতিরপুল কাঁচা বাজারের একজন মাছ বিক্রেতা, ঘটনাস্থলের পাশ্ববর্তী দোকানদারসহ অন্তত ৬জন পথচারী এসময় আসিফের সহযোগীদের হাতে মারধরের শিকার হয়।

তিনি বলেন, আসিফকে থামাতে গিয়ে টের পাই, তার মুখ থেকে মদের গন্ধ আসছে। এতে বুঝলাম সে মদ খেয়ে এসে এই মাতলামি করতেছে। আমরা বিষয়টি ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী, ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে জানিয়েছি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আসিফ তালুকদার বলেন, আপনাদের কাছে ইনফরমেশনগুলো ভুলভাবে এসেছে। আমার এক বন্ধু এক তার বউকে নিয়ে হেটে যাচ্ছিলাম সেখান দিয়ে। হঠাৎ দেখি তিনজন যুবক কথা কাটাকাটি করছে তখন আমি গিয়ে থামানোর চেষ্ঠা করছি মাত্র।আমি কাউকে আঘাত করি নি। মানুষের প্রতি মমতা দেখানোই ছিল আমার অপরাধ।

মদ্যপ থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে ডাকসুর এই নেতা বলেন, আমি মদ্যপ ছিলাম না। এটা একটা মিথ্যা তথ্য। আমি ডাকসুতে শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে বেশী কাজ করছি। এভাবে বলে আমাকে উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি পরবর্তীতে বিষয়টি মিউচুয়াল করে নিয়েছি। এখন আর কোন ঝামেলা নাই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) র ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, এ রকম ঘটনা আমি শুনিনি। এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে তার মারধরের বিষয়টি প্রকাশ হয়েছে তা আমার দৃষ্টিগোচর হয়নি৷ যদি এরকম কোন ঘটনা হয়ে থাকে তাহলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।প্রচলিত নোংরা রাজনীতির বাহিরে ডাকসু নেতাদের পরিচ্ছন্ন রাজনীতি করা উচিত বলে আমি মনে করি। তাদের মাধ্যমে রাজনীতির ইতিবাচক পরিবর্তন হোক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাকসুর এজিএস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত না জেনে আমি কোন মন্তব্য করে পারবো না। এখনো পর্যন্ত এ রকম কোন তথ্য আমার কাছে আসে নি।

যুবলীগ নেতাকে মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী কে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, মদ্যপ অবস্থায় কাউকে মারধরের অভিযোগ আসেনি। আসিফ যেহেতু ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত তাই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: