মালিকানা দ্বন্দ্বে সহকর্মীরা খুন করেন অধ্যক্ষকে

সাভার প্রতিনিধি

ঢাকার সাভারে মালিকানা দ্বন্দ ও ঈর্ষা থেকেই একটি বেসরকারি কলেজের এক অধ্যক্ষ ছয় টুকরো করে হত্যা করেছেন একই প্রতিষ্ঠানের অংশীদার শিক্ষকসহ তিনজন। এঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারের পর তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তিতে ওই প্রতিষ্ঠানে পুঁতে রাখা পাঁচ টুকরো মরদেহ উদ্ধার করেছে র‌্যাব। তবে রাজধানীর আশকোনায় একটি ডোবায় অবশিষ্ট নিখোঁজ অংশ মাথাটি উদ্ধারে অভিযান চলছে বলে র‌্যাব জানিয়েছে।

সোমবার দুপুরে আশুলিয়ার নরসিংহপুর রূপায়ন মাঠ এলাকায় সাভার রেসিডেনশিয়াল স্কুল এন্ড কলেজেরে সামনে এক প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে এসব কথা জানায় র‌্যাব।

এর আগে গ্রেফতার তিন আসামীকে নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ভিতরে অভিযান চালায় র‌্যাব সদস্যরা। এসময় সাভার রেসিডেনশিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের ভিতরে মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মনের পাঁচ টুকরো মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিখোঁজ মিন্টু চন্দ্র বর্মন লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের বাড়াইপাড়া গ্রামের শরত বর্মনের ছেলে।

প্রেস কনফারেন্সে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক হিসেবে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, দুই বছর আগে নরসিংহপুর এলাকায় সাভার রেসিডেনশিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ নামে প্রতিষ্ঠান চালু করেন মিন্টু চন্দ্র বর্মন, রবিউল ইসলাম ও মো. মোতালেব। মিন্টু প্রতিষ্ঠানের ভিতরেই থাকতেন। গত ১৩ জুলাই রাত থেকেই নিখোঁজ ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মন। পরে ২২ জুলাই তার ছোট ভাই আশুলিয়া থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করেন। এঘটনায় আজ মধ্যরাতে রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে রবিউলকে আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তিতে অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মনকে হত্যার কথা স্বীকার করে সে। পরে তার দেওয়া তথ্যে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে রবিউলের ভাগিনা মো. বাদশা ও রাজধানীর আশকোনা থেকে মোতালেব হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, মালিকানা দ্বন্দ ও ঈর্ষা থেকেই মিন্টুকে তারা গত ৭ জুলাই হত্যার পরিকল্পণা করে। তারা করোনার মধ্যেও রাতের বেলা কোচিং চালাতো। পরে ১৩ জুলাই কোচিং শেষে ১০৬ নম্বর রুমে মিন্টুকে ডেকে নেয় রবিউল। পরে তার মাথায় বাদশা হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। এরপর দা দিয়ে অধ্যক্ষ মিন্টুকে ছয় টুকরো করে আসামীরা। এর মধ্যে পাঁচ টুকরো কলেজের ভিতরেই মাটিতে পুঁতে রাখে। আরেকটি টুকরো মাথা রাজধানীর আশকোনায় একটি ডোবায় ফেলে দেয়া হয়। যেটি উদ্ধারে অভিযান চলছে। মূলতো কলেজের ভিতরে পুঁতে রাখা দেহাবশেষ গুলো সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে দেওয়ার পরিকল্পণা ছিলো খুনীদের।

তিনি আরও জানান, কলেজের ভিতরের সিড়ির নিচ থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দা, হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়। এসময় আসামিদের রক্তমাখা প্যান্ট, শার্ট ও সাবল উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!