যে কারণে আটকে আছে বিশ্ববিদ‌্যালয় ভর্তি-পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারের সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় চলতি বছরের যথাসময়ে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। আর এইচএসসি পরীক্ষা না হওয়ায় বিশ্ববিদ‌্যালয় ভর্তি-পরীক্ষাও আটকে আছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি-পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়া নির্ভর করছে এইচএসসি পরীক্ষার ওপর। কারণ ভর্তি পরীক্ষায় এসএসসি ও এইচএসসির ফলের গ্রেড পয়েন্ট যুক্ত হয়। সরকার সিদ্ধান্ত জানালেই ভর্তির পরীক্ষার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্র্রস্তুত বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘ঢাবির ভর্তির নিজস্ব একটি ফর্মুলা রয়েছে। আমরা সেই ফর্মুলা অনুযায়ী পরীক্ষা নেবো। এজন্য প্রস্তুতিও রয়েছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া নির্ভর করছে এইচএসসি পরীক্ষার ফলের ওপর। এইচএসসি বিষয়ে সরকার যখন সিদ্ধান্ত নেবে, তখন আমরাও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারবো। তবে, এখন পর্যন্ত আমাদের সিদ্ধান্ত রয়েছে নিয়মের কোনো পরিবর্তন আসবে না।’

এদিকে, সব বিশ্ববিদ্যালয় মিলে গুচ্ছপদ্ধতির ভর্তি-পরীক্ষার কথা ভাবছে। তবে বিষয়টিও নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গতির ওপর। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছপদ্ধতি নয়, স্বতন্ত্র প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা নেবে বলে জানিয়ে দিয়েছে।

গুচ্ছপ্রক্রিয়ার পরীক্ষা পদ্ধতির কনভেইনর হিসেবে রয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমরা যেকোনো প্রক্রিয়ায় ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত রয়েছি। এইচএসি পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি-পরীক্ষায় মার্কিংয়ের বিষয় রয়েছে। আমাদের ওই পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’

জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা ড. মিজানুর রহমান জানান, ‘আমাদের অনলাইনে ক্লাসসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে, ভর্তি-পরীক্ষা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এইচএসসি পরীক্ষার পর অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘গুচ্ছপদ্ধতির ভর্তি-পরীক্ষার সঙ্গে আমরা যুক্ত হচ্ছি না। অন্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালযগুলো নিয়ে আমরা পৃথক গুচ্ছপদ্ধতির ভর্তিপরীক্ষা নিতে প্রস্তুত। তারা চাইলে আমরা সার্বিক সহযোগিতা দিতে পারবো। ইতোমধ্যে তাদের আহ্বান জানানো হয়েছে।’

বিশ্ববিদ‌্যালয় ভর্তিপরীক্ষা বিষয়ে একই অভিমত জানালেন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য শেখ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই সাতটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে গুচ্ছপদ্ধতির ভর্তি-পরীক্ষা নিয়ে আসছি। ভর্তি-পরীক্ষার বিষয়ে ওইসব বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। এখনো এই বিষয়ে কোনো বৈঠক হয়নি।’

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবারের (৬ অক্টোবর) মধ্যে প্রেস কনফারেন্স করে এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে জানানোর কথা ছিল।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা এম এ খায়ের জানান, ‘এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কাজ চলছে। সিদ্ধান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাইকে জানানো হবে।’

এরআগে, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল সভায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হবে।’ তবে, কেউ বিশেষ কারণে পরীক্ষা দিতে না পারলে তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: