রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি বর্ষপূর্তি পালন স্থগিত

দেশের পোশাক খাতের ইতিহাসে মর্মান্তিক এক কালো অধ্যায়ের নাম রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি। ২০১৩ সালের এই দিনে সাভারে নয় তলা রানা প্লাজা ভবন ধসে সহস্রাধিক শ্রমিক নিহত হন। আহত হন প্রায় তিন হাজার। এদের মধ‌্যে অনেকেই পঙ্গু হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আর নিখোঁজদের সন্ধান মেলেনি ছয় বছরেও।

আজ ২৪ এপ্রিল। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির সাত বছর পূর্ণ হলো। প্রতিবছরে এই দিনটিতে বিধ্বস্ত ভবনের সামনে অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে নিহতদের শ্রদ্ধা জানান আহত শ্রমিক, নিহতদের স্বজন, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

তবে এ বছর দেশে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির বর্ষপূর্তিতে সব কর্মসূচি স্থগিত করেছে শ্রমিক সংগঠন গুলো। ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় নিজেদের বাসায় উপস্থিত থেকে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে রানা প্লাজায় হতাহতদের স্মরণ করেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাভার ও আশুলিয়া ২৫টি শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এর আগে আশুলিয়ার ধামসোনা ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের সাথে বৈঠক করেন তারা।

এ ব্যাপারে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশ, জাতি ও শ্রমিকদের কল্যাণে রানা প্লাজার সকল কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। করোনা রোধে সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি গুরুত্বকে দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আশা করি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমে রানা প্লাজা ধসে নিহতদের শ্রদ্ধা জানাবে সবাই।’

বস্ত্র ও পোশাক শিল্প শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘নিহতদের স্মরণে রানা প্লাজার সামনে নির্মিত অস্থায়ী বেদিতে গিয়ে সকল শ্রমিকদের ও আহত, নিহত শ্রমিক পরিবারকে শ্রদ্ধা, সমবেদনা জানানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের আহ্বানের পাশাপাশি নিজেদের নৈতিক অবস্থান থেকে রানা প্লাজা ধসে নিহতদের স্মরণে যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা ও কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’

স্বনির্ভর ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, করোনা মহামারী থেকে সুরক্ষায় ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাভার ও আশুলিয়ার ২৫টি শ্রমিক সংগঠনের সাথে বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সব শেষ রানা প্লাজা ও তাজরীনের হতাহত পরিবারের জন্য শ্রমিক প্রতিনিধিদের হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন চেয়ারম্যান।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: