রেলের ওয়াগন লাইনচ্যুত: তেল নিয়ে কাড়াকাড়ি

শিরোনাম ডেস্ক

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁও রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে তেল বহনকারী ট্রেনের ৭টি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়েছে।

এসব ওয়াগন থেকে ছড়িয়ে পড়েছে তেল। আর এ তেল সংগ্রহের জন্য ভিড় করেছেন কয়েক শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা। বাতলি, ড্রাম, কলস, বোতল নিয়ে তারা ছড়িয়ে পড়া তেল সংগ্রহ করছেন। আর বিশাল এলাকাজুড়ে তেল ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়দের সরাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের।

শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিষয়টি জানিয়েছেন সিলেট জেলা পুলিশের ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাফায়াত হোসেন।

ওসি মো. শাফায়াত হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সিলেটগামী তেল বহনকারী ট্রেনটি মাইজগাঁও ও বিয়ালীবাজারের মধ্যবর্তী কায়স্তগ্রামে (গুতিগাঁও) লাইনচ্যুত হয়। এ ট্রেনের ৮ ওয়াগনের মধ্যে ৭টি ওয়াগনই উল্টে যায়। প্রত্যেক ওয়াগনে ৪০ হাজার লিটার তেল পরিবহন করা হচ্ছিল। এর মধ্যে ৪টি ওয়াগনের প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার লিটার তেল ছড়িয়ে পড়েছে রেল লাইনের পাশের জমি ও খাদে। লাইনচ্যুত হয়েছে রেলের ইঞ্জিনও।

এদিকে, ওয়াগন লাইনচ্যুত হওয়ার পর থেকে সিলেটের সাথে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। রাতেই কুলাউড়া থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে আসে। সকাল থেকে ওয়াগন উদ্ধারসহ লাইন সচল করতে কাজে নেমেছেন শতাধিক রেলকর্মী। লাইনচ্যুতের কারণে প্রায় আধা কিলোমিটার জুড়ে রেলের লাইনের স্লিপার পুরো উঠে গেছে। এ কারণে সম্পূর্ণভাবে লাইন মেরামত করা হচ্ছে।

রেলওয়ের পরিবহন পরিদর্শক তৌফিক জানান, প্রথমে লাইনচ্যুত হওয়া ওয়াগনগুলো সরানো হবে। পরে রেল ট্র্যাক মেরামত করে লাইন সচল করার কাজ করবেন রেলের কর্মীরা। এসব কারণেই রেল লাইন সচল হতে এখনও মিনিমাম ৫-৬ ঘণ্টা লাগতে পারে। তবে তারা আরও দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন বলেও জানান।

ওসি আরও জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। রাত থেকেই সেখানে তারা অবস্থান করছে। স্থানীয় জনসাধারণকে সেখান থেকে সরানোর চেষ্টাও করছেন তারা।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: