শোক দিবসেও এক হতে পারলেন না নৌকার দুই মাঝি

উপজেলা প্রতিবেদক

রাজনৈতিক বিবাদে মুখ দেখাদেখি বন্ধ করে দিয়েছেন ঢাকার ধামরাইয়ের বর্তমান এমপি বেনজির আহমেদ ও সাবেক এমপি এমএ মালেক। তবে বিবাদ মেটাতে তাদের দুইজনকে একসঙ্গে নিয়ে একমঞ্চে বসতে শোক দিবসের কর্মসূচিকে উপলক্ষ করেছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাদ্দেস হোসেন। কিন্তু তিনি পারেননি নৌকার দুই মাঝিকে এক করতে। এমএ মালেক শোক দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নিলেও সে পথ মাড়াননি বেনজির আহমেদ।

সোমবার (১৭ আগস্ট) উপজেলা পরিষদ চত্বরে জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধু স্মরণে সাবেক-বর্তমান দুই এমপিকে অতিথি করে কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন ধামরাই উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাদ্দেস হোসেন। দুপুরের দিকে সেই কর্মসূচিতে আসেন এমএ মালেক। এসময় গুঞ্জন ছড়ায় সেখানে আসবেন এমপি বেনজির আহমেদও। এজন্য অনুষ্ঠান কিছুটা দেরিতে শুরু করা হলেও শেষ পর্যন্ত বেনজির আহমেদকে ছাড়াই কর্মসূচি শেষ করা হয়।

জানা যায়, ২০১৭ সালে এমএ মালেক ধামরাইয়ের এমপি থাকাকালে সাবেক এমপি বেনজির আহমেদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ তুলেছিলেন, মনোনয়ন ও দলে পদ পেতে বেনজিরকে আর্থিক উৎকোচ দিতে হয়েছে তাকে। তখন এম এ মালেক বলেছিলেন, ‘উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ার সব যোগ্যতা থাকার পরও বেনজীর আহমেদের কথায় ১০ লাখ টাকা দিয়ে আমাকে ওই পদ পেতে হয়েছে।’

সেই বিরোধের শুরুর পর থেকেই উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে একে অপরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন। প্রকাশ্যে বিবাদে জড়িয়েছেন স্বয়ং ওবায়দুল কাদেরের সামনেও।সবশেষ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে ধামরাই উপজেলার সম্মেলনকালে সাবেক এমপি এমএ মালেককে আচমকা দল থেকে বহিস্কার করে ধামরাইয়ে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে সম্মেলনের চেষ্টা করেন বেনজির আহমেদ। পরে কেন্দ্রীয় কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে সম্মেলন স্থগিত করা হয়। এরপর থেকেই উপজেলার শীর্ষ দুই আওয়ামী লীগ নেতা একে অপরের মুখ দেখাদেখিও বন্ধ করে দেন।

এরপর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচি করা হলেও এক মঞ্চে বসেননি তারা দু’জন। এনিয়ে চাপা ক্ষোভ দেখা গেছে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে। দলকে এগিয়ে নিতে দুই নেতার এক হওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ধামরাই আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আবদুল লতিফ বলেন, ধামরাইয়ে দুই এমপির বিরোধিতা বহুদিনের। সাবেক এমপির সময়ে দল গোছানোর ফল হিসেবে ১৬ ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীদের জয়লাভ ও পৌরসভার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করেছিল। কিন্তু তারপর তাদের ঝগড়া শুরু। এখন বঙ্গবন্ধুর নামে কর্মসূচি ডেকেও তাদেরকে এক করা যায় না। এমনকি শোক দিবসের কর্মসূচিতেও তারা বিরোধিতা বজায় রাখলেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে এমএ মালেক রাইজিংবিডিকে বলেন, রাজনীতি ব্যক্তিস্বার্থের জন্য নয়। রাজনীতির গতি ঠিক রাখতে কাজ করে যেতে হয়। শোক দিবসের কর্মসূচি আওয়ামী পরিবারের কর্মসূচি। এই কর্মসূচিকে রাজনৈতিক গণ্ডিতে ফেলা অন্যায়ের শামিল। দ্বন্দ্বের উর্ধ্বে রেখে এই কর্মসূচি পালন করাই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, বেনজির আহমেদকে কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি করা হয়েছিলো। তিনি কর্মসূচিতে না এসে নিজের নেতৃত্বগুনের ব্যর্থতার পরিচয় দিলেন। তার রাজনৈতিক দীনতার পরিচয়। এবং তিনি আওয়ামী পরিবারের বৃহত্তর ঐক্যকে বাধাগ্রস্ত করলেন।

এদিকে কর্মসূচির বিষয়ে জানতেন না বলে রাইজিংবিডির কাছে দাবি করেছেন বর্তমান এমপি বেনজির আহমেদ। তিনি বলেন, শোক দিবসের কর্মসূচি অবশ্যই ভালো প্রোগ্রাম। কিন্তু এটা সিস্টেমেটিক ওয়েতে হয়নি। আমি প্রোগ্রাম সম্পর্কে জানতাম না। আমাকে না জানিয়েই অতিথি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এছাড়া ওই কর্মসূচিতে যাকে সভাপতি হিসেবে দেখানো হয়েছে। তিনি দলের কেউ নন। নির্বাচনের আগের সকল বিদ্রোহীদের দল থেকে স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে তার সভাপতিত্ব করার কথা নয়। একারণে দলের নেতাকর্মীরাও ওই কর্মসূচিতে অংশ নেয়নি।

তবে এবিষয়ে জানতে মুঠোফোনে বারবার করে ও মেসেজে প্রশ্ন পাঠিয়েও উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাদ্দেস হোসেনের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: