শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

নিজেস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার সাভারে গর্ভবতী নাতনীকে আনতে গিয়ে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজনের হাতে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন দুই মধ্যবয়সী ব্যক্তি। মারধরের পর জিম্মি করে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্ট করছে। পুলিশ নির্যাতিতদের উদ্ধার করলেও থানায় গিয়ে আইনি সহায়তা পাননি। ঘটনার ছবি ও ভিডিও সরবরাহ করা হলেও এখনো মামলা নেয়নি পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) সকালে নির্যাতিতের পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

নির্যাতনের শিকার দুইজন হলেন- পঞ্চাশোর্ধ আব্দুল মান্নান ও শহীদ মোল্লা। তারা দুইজন সম্পর্কে আত্মীয়। মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর থানার ধরলা ইউনিয়নের বাসিন্দা তারা।

অভিযুক্তরা হলেন- সাভার উপজেলার বনগাঁও ইউনিয়নের হাদারপুর কাজীপাড়া এলাকার গৃহবধূ সোনিয়া আক্তারের স্বামী আবুল কালাম ও শ্বশুর বাশার মহাজন। ১১ মাস আগে সিঙ্গাইয়ের সোনিয়ার সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় কালামের।

নির্যাতিত আব্দুল মান্নানের ছেলে ফরিদুল আহমেদ বলেন, সোনিয়ার বাবা ১০ বছর আগেই প্রবাসে সৌদি আরবে মারা গেছেন। তারপর থেকেই আমাদের বাড়িতে মানে সোনিয়া তার নানা আরশাদ আলির বাড়িতে বড় হয়েছে। ১১ মাস আগে কালামের সাথে যখন সোনিয়ার বিয়ের বিষয়ে কথা চলছিল, তখন ওদের সাথে আমাদের বিবাদ হয় কালাম খারাপ কথা বলার কারণে। এরপর বিয়ে হয়ে গেলেও ওই বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য চলছিল। কালামদের বাসায় কেউ আসা-যাওয়া করতো না। এরই মধ্যে সোনিয়া গর্ভবতী হওয়ার কথা জানতে পেরে তাকে নানার বাড়িতে মায়ের কাছে আনার কথা চলছিল। এ জন্যই গত পরশু দিন (মঙ্গলবার) দুপুর দেড়টার দিকে সোনিয়ার নানা আমার বাবা আব্দুল মান্নান ও তার ফুফাতো ভাইকে বনগাঁও পাঠায়। তবে ওদের সাথে সম্পর্ক ভালো না থাকায় হাদারপুর বাজারে বসে স্থানীয় দুইজনকে সোনিয়াদের বাড়িতে পাঠায়। সোনিয়াকে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন আসতে দিবে কি না সেটা জানার জন্য। পরে সোনিয়ার স্বামী ও শ্বশুরসহ তাদের বাড়ির লোকজন বাজারে এসে আমার বয়স্ক বাবা ও তার ফুফাতো ভাইকে পিছমোড়া করে গামছা দিয়ে বাঁধে। লাঞ্ছিত ও মারতে মারতে নির্জন স্থানের একটি বিল্ডিংয়ের ছাদে নিয়ে বসিয়ে মোবাইল ফোন ও টাকা কেড়ে নেয়। সাদা কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়।

পরে নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও করে আমাদের কাছে পাঠায়। ভিডিওতে ওদের পক্ষে জোর করে কথা বলায় নেয় তারা। ওই ভিডিও ও ছবি আমাদের এলাকার অনেকের কাছে পাঠিয়ে সামাজিকভাবে হেয় ও ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করে। পরে ৯৯৯ এ ফোন করে বিষয়টি জানানো হলে মঙ্গলবার রাত ২-৩ টার দিকে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। কিন্তু কাউকে আটক করতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার পর গতকাল বুধবার বিকেল ৪টার দিকে অভিযোগ দিতে সাভার মডেল থানায় গেলে ডিউটি অফিসার এসআই নাজিউর রহমানের সাথে কথা বলতে বলেন। পরে থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কালামকে বিষয়টি জানালে তিনি আজ বৃহস্পতিবার সকালে আবার থানায় ডাকেন। তবে যাওয়ার আগে এসআই নাজিউরকে ফোন করলে তিনি আবারও বিকেলে আসতে বলেন। আসলে পুলিশ আমাদের সেভাবে কোনো সাহায্য করেনি।

এ বিষয়ে সোনিয়ার স্বামী আবুল কালাম অস্বীকার করে কৌশল অবলম্বন বলেন, ‘আমিতো নির্যাতন করি নাইকা। ওনারা আমার আত্মীয় না। আমার শ্বশুরও না, নানা শ্বশুরও না। একজনরে তো আমি চিনিই না। আরেকজন দুঃসম্পর্কের আত্মীয় দুইজন আসছে। আইসা আমার বউরে জোরজবরদস্তি কইরা টাইনা নিয়া যাইতে চাইছে। তখন আমার বউ বাঁচাও বাঁচাও বইলা চিৎকার করছে। পরে দৌড়ায় গিয়া ধইরা আইনা বাইন্ধা রাখছে। পরে তো এখানে মীমাংসার মতো হইছে।’

কালাম মোবাইল ও টাকা কেড়ে নেয়ার কথা অস্বীকার করলে সাদা কাগজে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। এর কারণ বলতে পারেনি তিনি।

তবে বনগাঁও ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজিউর রহমান ফোন ধরে সব শোনার পরে বলেন, আমি ব্যস্ত আছি পরে ফোন দেন।

সাভার মডেল থানার ওসি (তদন্ত) কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি তো এত কিছু জানি না। ওনাদের একটু থানায় পাঠায় দেন। আমরা মামলা নেব।’

কেআরআর

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!