শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশের কাঁদানে গ্যাস, ছত্রভঙ্গ শ্রমিকের মৃত্যু

উপজেলা প্রতিবেদক

সাভারে বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলনকালে শ্রমিকদের বিক্ষোভে পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসে ছত্রভঙ্গ হয়ে দৌড়ে সরতে গিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কায় জিয়াসমিন আক্তার নামে এক পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আসাদুজ্জামান।

মৃত জিয়াসমিন আক্তার তিনি ইপিজেডের গোল্ড টেক্স কারখানার সুইং অপারেটর ছিলেন।

হাবিব হাসপাতাল নামের স্থানীয় একটি হাসপাতালের ব্যবস্থাপক মো. বিল্লু জানান, বিক্ষোভের পর এক নারী শ্রমিককে অসুস্থ অবস্থায় সেখানে আনা হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।

এসপি জানান, ‘আন্দোলনের সময় আমরা যখন ছত্রভঙ্গ করে দিচ্ছিলাম, আমাদের তখন করার কিছুই ছিল না। ওই শ্রমিক তখন দৌড়ে পালাতে গিয়েছিলেন। এ সময় তিনি খেয়াল না করায় বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে লেগে তিনি মাথায় আঘাত পান। পরে তিনি মারা যান বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।’

ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান এসপি মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি আরও বলেন, ‘ওই শ্রমিক লেনি ফ্যাশনে চাকরি করতেন না। তবে সকালে আন্দোলনের সময় ওই কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে তিনি যোগ দিয়েছিলেন।’

এর আগে, নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে রোববার সকাল পৌনে ৭টার দিকে সড়ক অবরোধ করেন লেনি ফ্যাশন নামের একটি তৈরি পোশাক কারখানার প্রায় ৩০০ শ্রমিক। ওই সময় তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে।

শিল্প পুলিশ জানায়, সকালে লেনি ফ্যাশন কারখানার কয়েকশ শ্রমিক বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের নতুন ইপিজেডের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এসময় ব্যস্ততম এই সড়কটিতে যানচলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরে শ্রমিকদের সড়ক ছেড়ে দেয়ার জন্য বোঝালেও তার বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় জলকামান নিক্ষেপ করে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।

শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সকালে ঘটনাস্থলে আমাদের পর্যাপ্ত ডেপ্লয়েড ছিলো। আমরা তাদের সড়ক থেকে বুঝিয়ে সরিয়ে দেয়ার অনেকবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা শোনেনি। তারপরে আমাদের আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাস্তা ক্লিয়ার করা হয়েছে। হালকা কাঁদানে গ্যাস ও পানি ছিটিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়া হয়। তারা বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করলেও তেমন কিছু হয়নি। অল্প সময় শুধু সড়কে যানচলাচল বিঘ্নিত হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘লেনী ফ্যাশন কারখানার মালিক একজন ভারতীয়। অনেক দিন আগে থেকেই করোনার কারণে মালিক ফ্যাক্টরিতে আসেন না। ওই মালিকের দুটি কারখানায় প্রায় ৬০০ শ্রমিক কাজ করেন। অনেকদিন আগে থেকেই করোনার কারণে মালিক ফ্যাক্টরিতে আসেন না। এখন করণীয় কিছু নাই। ফ্যাক্টরি বিক্রি করতে হবে। এই মুহুর্তে সেই প্রচেষ্টাও চলছে। এখন দ্রুততো সেটাও অনিশ্চিত।’

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!