সানজিদা আনিকার প্রেমের গল্প- মায়া (পর্ব-২)

দিলার হাসানরা অনেক বড়লোক। প্রায় কোটিপতি। মোক্তার মিয়ার দুঃসম্পর্কের চাচতো ভাই। দিলার সাহেবের ছেলে সাইফান হাসান। বয়স আটত্রিশ তো হবেই। তিনবার বিয়ে হয়েছে। একটাও টিকেনি। কারণ হলো সাইফানের স্বভাব চরিত্র। শত শত মেয়েদের সাথে নষ্টামি করে বেড়ায়। আর ঘরের বউকে সারাক্ষণ পিটায় আর গালিগালাজ করে। দ্বিতীয় বিয়ের এক মাসের মাথায় বউকে মেরেই ফেলতে গিয়েছিল।

খুব বাঁচা বেঁচেছে বেচারি। এরকম হলে বউ টিকবে কেমনে। সাইফানের আবার প্রথম থেকেই কুলসুমের ওপর নজর। একবার তো বিয়ের প্রস্তাবও পাঠিয়ে দিয়েছিল দিলার সাহেব। কিন্তু মোক্তার মিয়া কিছুতেই রাজী হননি। তার পনেরো বছরের বাচ্চা মেয়েটিকে সে কোনো মতেই ওই ছত্রিশ বছরের দুশ্চরিত্র ছেলের হাতে তুলে দিবেন না। কিন্তু এখন তো মোক্তার মিয়ার হুসও নেই। অজ্ঞান পরে আছেন। আর তাকে বাঁচাতে যে টাকা দরকার তার পুরোটাই দিলার সাহেব দিতে রাজী হয়েছেন। শর্ত একটাই। কুলসুমকে দিতে হবে সাইফানের বউ করে।

কমলা বেগমের মাথায় হাত। একদিকে স্বামীর প্রাণ অন্যদিকে মেয়ের জীবন। আত্মীয়রা সবাই বলছে রাজী হয়ে যেতে। কেমন মানুষ এরা? নিজের সন্তান হলে এমন বলতে পারতো? আর মেয়ের খুশির বিনিময়ে যদি বাবার প্রাণ বাঁচানোও হয় সেই জীবন কি রাখবেন মোক্তার মিয়া?
অবশেষে রাজী না হয়ে কোনো উপায় দেখলেন না কমলা বেগম। ছেলে যেমনই হোক টাকার তো অভাব নেই। মেয়েটা হয়তো সুখেই থাকবে তার। গ্রামগঞ্জের বাড়ি বলে কথা। প্রতিবেশীরা এখন থেকেই কুলসুমের বিয়ে বিয়ে করে উঠে পড়ে লেগেছে। আর মেয়েকে বেশী লেখাপড়া করানোর ক্ষমতাও তাদের নেই। কিন্তু দিলার সাহেব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে অনেক দূর লেখাপড়া করাবেন তারা কুলসুমকে।

বিয়ের আজ সাত দিন। মোক্তার সাহেব বেশ সুস্থ এখন। কিন্তু কমলা বেগমের উপর চরম ক্ষেপা। বাচ্চা মেয়েটার জন্য চিন্তায় পাগল প্রায় অবস্থা তার। এদিকে কুলসুমের কেঁদে কেটে দিন যাচ্ছে। সাইফানকে তার আগের থেকেই পছন্দ না। ছোটো হলেও সাইফানের স্বভাব চরিত্র আর তার দিকে কুদৃষ্টি নজর এরায়নি কুলসুমের। আর বাসর রাতে ছোট্ট কুলসুমের উপর জানোয়ারের মতো হামলে পড়ায় কুলসুমের এখন তাকে দেখলেও ঘৃণা লাগে। কেমন যেন বমি বমি আসে। এসব কথা কি কাউকে বলা যায় নাকি। মা আর আব্বা তাকে দিয়ে বাড়িতে একটা কাজও করাতেন না।

এদিকে শ্বশুর বাড়িতে যেন একটা কাজের লোক সে। বাড়িতে কাজের লোক আছে। কিন্তু ওই বুড়ো লোকটা তার সব কাজ কুলসুমকে দিয়েই করাবে। আর শ্বশুর শাশুড়ির কাজ তো আছেই। তারপর আবার ওতো বড় বাড়ি আর রান্নাঘরের কাজ। আগে দুইটা কাজের লোক ছিল। বিয়ের যাবতীয় অনুষ্ঠানের পর একজনকে বাদ দিয়ে দেয়া হয়েছে। কুলসুমের আর এই বাড়িতে একদম মন বসছেনা। থেকে থেকে মনে পড়ছে গ্রামের কথা। তার পরিবারের কথা। বিয়ের পর বউভাতের দিন মোক্তার মিয়া নিয়ে গিয়েছিল তাকে।

পরের দিনই ফিরানিতে আবার চলে আসতে হয়েছে। তার স্কুল, খেলাধুলা, বাল্যকাল সব যেন নিমিষেই হারিয়ে গেলো। ডুকরে ডুকরে কেঁদে ওঠে কুলসুম। সারাদিন বাড়ির কাজ আর সবার খোটা। শ্বশুরটা তাও একটু ভালো আছে। কিন্তু শ্বাশুরি আর জামাই সারাদিন বিভিন্ন জিনিসের খোটা দিতেই আছে। যৌতুকের খোটা, তার আব্বা আর মা কে ছোটো করে কথা বলা ইদানিং তো খাওয়ার খোটাও। আর রাতে শুরু হয় বৈধ ধর্ষণ নামের অত্যাচার। আহা এই অট্টালিকার চায়তে তার আব্বার ছোট্টো ঘরটা কতটাই না শান্তির ছিল। বাপটার সাথেও একটু কথা বলতে দেয়না ওরা।

-সানজিদা আনিকা, ছাত্রী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

(পর্ব-১)

সানজিদা আনিকার প্রেমের গল্প- মায়া (পর্ব-১)

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!