সাভারে শ্রমিক পাড়ায় ক্যাসিনোর ভয়াল থাবা

শিরোনাম ডেস্ক

পশ্চিমা ধাঁচের ক্যাসিনো ব্যবসা এসে জেঁকে বসেছে সাভারের শ্রমিক পাড়ায়। রাজধানীতে সরকারের শক্ত অবস্থান নেয়ার পর ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনো বন্ধ হলেও এবার উপ-শহরেও মিলছে জমজমাট জুয়ার আসরের খোঁজ।

সম্প্রতি আশুলিয়ার কাঁইচাবাড়ী এলাকায় র‍্যাবের এক অভিযানে ‘মিনি ক্যাসিনো’ থেকে আটক করা হয় ২১ জনকে। এসময় সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় ‘চায়না গেমস’ নামে জুয়া খেলার যন্ত্র।

জানা যায়, আশুলিয়া থেকে উদ্ধার করা যন্ত্রটির নাম ‘চায়না গেমস’। এটাকেই ‘মিনি ক্যাসিনো’ নামেও ডাকা হয়। অভিনব ও আকর্ষণীয় হওয়ায় নিয়মিত ভিড় বাড়ছে এসব মিনি ক্যাসিনোতে। আর শ্রমিক অধ্যুষিত অঞ্চলটিতে ক্যাসিনোতে গিয়ে সর্বস্ব খুইয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

সূত্র জানায়, নয়ারহাট, পশ্চিম বাইপাইল, বলিভদ্র, পলাশবাড়ী, জামগড়া, কবিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১০ থেকে ১৫টি স্পটে মিনি ক্যাসিনো বসানোর তথ্য রয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন শাখা সড়কের পাশে দোকানে ভাড়ায় বসানো হয়েছে এসব মেশিন। সম্প্রতি চলা অভিযানের পর সেসব আপাতত বন্ধ রয়েছে।

স্থানিয়রা বলছেন, প্রশাসন ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের দৈনিক ও মাসিক হারে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়েই এসব মিনি ক্যাসিনো পরিচালনা করেন মালিকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাভারের আশুলিয়ার এই অঞ্চলে ‘চায়না গেমস’ পরিচালনার তিন থেকে চারটি গ্রুপ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য বলছে, এসব গ্রুপেরই একটির প্রধান প্লাবন হোসেন। নয়ারহাট, জামগড়া ও ডেন্ডাবর নতুন পাড়া এলাকায় তার তিনটি ক্যাসিনো রয়েছে। এছাড়া কাঁইচাবাড়ী এলাকায় মো. জুয়েলের রয়েছে একটি। পশ্চিম বাইপাইল, বলিভদ্র ও জামগড়া মনির মার্কেটসহ বেশ কয়েকটি স্থানের মিনি ক্যাসিনো হোতা সাদ্দাম হোসেন।

র‍্যাবের অভিযানের তালিকায় থাকা ঈসমাইল হোসেন ও ওমর ফারুক নামে আরো দুইজন এখনো পলাতক।

স্থানীয়রা জানান, দিনরাত দলবেঁধে ক্যাসিনোতে জুয়া খেলতে আসে জুয়ারিরা। সকাল থেকে রাজ পর্যন্ত চলতে থাকে আসর। মাঝে মধ্যে পুলিশ আসলেও পরদিন ঠিকই চলে বোর্ড।

পেশায় পোশাক শ্রমিক সাগর হোসেন নিয়মিত খেলেন এই জুয়া। জানান, এই ইলেকট্রিক বোর্ডে তার প্রচণ্ড আসক্তি। প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জুয়া খেলেছেন। কখনো জিতেছেন, কখনো হেরেছেন।

তিনি জানান, হারার পর স্ত্রীর গয়না, নিজের ও ছোট ছেলের সাইকেলও বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করেছেন। তারপরও ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে এলাকা ছাড়তে হয়েছে তাকে।

জানতে চাইলে এক ভুক্তভোগী বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে পার্টিতে অংশ নিতে একবার ক্যাসিনোতে যাই। একটি কক্ষে এই নতুন ধরণের জুয়ার আসর দেখতে পাই। পরে জানতে পারি, এটাই ক্যাসিনো। আগ্রহের বশে বন্ধুরা মিলে ক্যাসিনোয় খেলতে শুরু করি। এরপর দিনের পর দিন অর্থ খোয়াতে থাকি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বায়িং হাউজের এক কর্মকর্তা জানান, চায়না গেমসে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা সময় দিতেন। এতে কাজের প্রতি মনোযোগ নষ্ট হয়ে যায়। চাকরি হারিয়ে সংসারে আসে অশান্তি। এরপর নিজেই এই আসর থেকে সরে আসেন।

আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, ‘আগে অভিযান চালিয়ে মিনি ক্যাসিনো জুয়া বন্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু গোপনে আবার এসব চালু করা হয়েছে। এদের হোতাদের আটকের চেষ্টা চলছে।’

র‌্যাব-৪ এর সিইও মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে এখনও বেশ কিছু মিনি ক্যাসিনোর তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। অচিরেই অভিযান চালিয়ে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: