স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস হলো না মুস্তাফিজুরের

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাভারের ডগরতলী এলাকায় সাবলেট থাকতেন মুস্তাফিজুর রহমান। একটি স্কুলের এডমিন পদে কর্মরত ছিলেন তিনি। রাজশাহীর দুর্গাপুরে স্ত্রী, সন্তান আর পরিবারের বসবাস। চাকরির সুবাদে একবছর যাবৎ একাই বসবাস ছিল তার। তবে আগামী মাস থেকে চেয়েছিলেন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকবেন সাভারে। ভাড়া বাসাও ঠিক করে রেখেছিলেন। গত বৃহস্পতিবার দেশের বাড়িতে গিয়েছিলেন এক বছরের শিশু সন্তান ও স্ত্রী খাদিজা বেগমকে আনতে। কিন্তু শিশু পুত্র মূসা গত কয়েকদিন ধরেই জ্বরে ভুগছিল। তাই আর তাদের সঙ্গে করে সাভারে আনা হয়নি তার। শনিবার ভোরে বাস থেকে নেমেই ছিনতাইকারীদের কবলে প্রাণ হারান মুস্তাফিজুর।

এঘটনার পর রাজশাহীর দুর্গাপুর নওয়াপাড়ার নিজ বাড়িতে মুস্তাফিজুরের পরিবারে বইছে শোক। স্বামীর অকাল মৃত্যু শোকে মূর্ছা যাচ্ছেন স্ত্রী খাদিজা। কান্নায় ভাড়ী হয়ে উঠছে চারপাশ। দরিদ্র সংসারের ভার কাঁধে তুলে নেয়া ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক পরিবার।

মুস্তাফিজুরের স্ত্রী খাদিজা বেগম জানান, গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যায় তার স্বামী। সাড়ে ৭টার দিকে শেষ কথা হয় স্বামীর সাথে। বাসে উঠে তাকে ফোন করতে চেয়েছিল মুস্তাফিজ। কিন্তু পরে আর কথা হয়নি। যাওয়ার সময় মুস্তাফিজুর একটি কালো রঙের ব্যাগে কাগজপত্র ও প্রায় ১০ হাজার টাকা নিয়েছিল। আরেকটি বস্তার ব্যাগে শাপলা ফুল।

তিনি আরো বলেন, সামনের মাস থেকে সাভারে তাদের একসাথে থাকার কথা ছিল। ভাড়া বাসাও ঠিক করেছিল মুস্তাফিজুর। এজন্য গত বৃহস্পতিবার আমাদের নিতে বাড়িতে এসেছিল। কিন্তু ছেলে মূসার কয়েক দিন থেকেই জ্বর। তাই তাদের আর যাওয়া হয়নি। গতকাল একাই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তার স্বামী। তবে ১০-১২ দিন পর বড় ভাই হারুন অর রশিদ তাদের পৌছে দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুপুরে তিনি স্বামীর ‍মৃত্যুর সংবাদ পান। এঘটনায় দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবী জানান তিনি।

মুস্তাফিজুরের বাবা মজিবর রহমান বলেন, তার ছেলে খুবই সহজ-সরল ও শান্ত প্রকৃতির। বাড়িতে আসলে নওয়াপাড়া মসজিদের ইমামতি করতো। এলাকায় কারো মৃত্যু হলে জানাজা পড়াতো মুস্তাফিজুর। শিক্ষিত হয়ে দরিদ্র পরিবারের হাল ধরেছিল সে। কিন্তু ছিনতাইকারীরা তার ছেলেকে বাঁচতে দিল না।
শনিবার ভোরে সাভারের সিআরপি এলাকায় বাস থেকে নেমেই ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের কমলাপুর এলাকায় গ্লোরিয়াস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের এডমিন কাম একাউন্টস পদে কর্মরত ছিলেন। তবে সাভারের ডগরতলি এলাকায় ভাড়া বাসায় সাবলেট থাকতেন তিনি। নিহত মুস্তাফিজুর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১২-১৩ সালের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: