২৮-২৯ অক্টোবর সারাদেশে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক

জনশক্তি রিপোর্ট: সংসদে পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইন বাতিলে শ্রমিকদের ৮ দফা দাবি মেনে নিতে আগামী ২৮ ও ২৯ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী সারাদেশে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন।

শনিবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সমাবেশে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি সাদিকুর রহমান এ ধর্মঘটের ডাক দেন।

তিনি বলেন, ‘ফাঁসির আইন মাথায় নিয়ে আমরা সড়কে গাড়ি চালাতে পারব না। সরকারের বিভিন্ন দফতরে আমরা গিয়েছি। ঘোষিত ৮ দফা মেনে নিতে হবে। দাবি মানতেই ২ দিনের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। এরপর দাবি মানা না হলে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট ডাক দেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আলোচনার দরজা খোলা আছে। সরকার আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারে।’ এই ধর্মঘটে তৃতীয় কোনো পক্ষ যাতে সুবিধা নিতে না পারে সেজন্য সকলকে সজাগ থাকারও আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক উসমান আলী বলেন, ‘রাস্তায় গর্ত থাকবে, গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ে মানুষ মরবে তার সব দায় চালককে নিতে হবে, এটা মানা যায় না। কিছু হলেই পুলিশ এসে পাকড়াও করবে তাও চলতে পারে না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রত্যেক শ্রমিক বাড়ি থেকে বের হয়। পণ্য ও মানুষ নিয়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে ছুটে চলে। আমাদেরও ইচ্ছা হয় বাজার-সদাই করে বউ বাচ্চার কাছে ফিরে যাই। কিন্তু এই কালো আইন মাথায় নিয়ে গাড়ি চালানো মুশকিল। তাই এই আইন সংস্কার করতে হবে।’

শ্রমিকদের আট দফা দাবিগুলো হলো- সড়ক দুর্ঘটনায় সব মামলা জামিনযোগ্য করতে হবে; শ্রমিকদের অর্থদণ্ড ৫ লাখ টাকা প্রত্যাহার; সড়ক দুর্ঘটনার তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি রাখতে হবে; ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা ৫ম শ্রেণি করতে হবে; ওয়েস্কেলে জরিমানা কমানো ও শাস্তি বাতিল; সড়কে পুলিশি হয়রানি বন্ধ; গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের সময় শ্রমিকের নিয়োগপত্রে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরের ব্যবস্থা রাখতে হবে ও সব জেলায় শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের পর লাইসেন্স ইস্যু ও লাইসেন্স ইস্যুর সময় হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

এর আগে দুপুর ২টার পর থেকেই সারাদেশ থেকে আসা পরিবহন শ্রমিক নেতাকর্মীরা প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হতে থাকেন। এক পর্যায়ে পল্টন থেকে শাহবাগের একদিকের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

শ্রমিক নেতাদের দাবি, সম্প্রতি সংসদে ৫ বছর জেল ও মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে যে আইন পাস হয়েছে তা বাতিল করতে হবে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী এ আইন বাতিলে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারেন।

বক্তারা বলেন, ‘সারাদেশে কিছু নেতার কারণে সরকারের ক্ষতি হচ্ছে। হঠাৎ করে পোস্তগোলা ব্রিজে টোলের হার ৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৪০ টাকা করা হয়েছে। তার প্রতিবাদ করতে গেলে পুলিশ গুলি করে মারলো এক ট্রাক চালককে। আরও অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন।’

জনশক্তি/এস

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!