আইনজীবীদের ওপর ক্ষুব্ধ খালেদা জিয়া

দীর্ঘ কারাজীবন শেষে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্ত করতে না পারায় আইনজীবীদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন তিনি। বিষয়টি স্বীকার না করলেও মামলা নিয়ে বেগম জিয়ার হতাশা প্রকাশ করার কথা জানিয়েছেন আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের সিনিয়র সদস্য খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, অভিজ্ঞ আইনজীবীদের দায়িত্ব না দেয়া, মামলা পরিচালনায় সমন্বয়হীনতা ও আইনজীবীদের পদক্ষেপ রহস্যজনক ছিলো। এ কারণেই হয়ত নেত্রী ক্ষুব্ধ।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মামলা পরিচালনা প্যানেলে রয়েছেন অর্ধশতাধিক আইনজীবী। এ প্যানেলের আইনজীবীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও অন্তর্কোন্দল ছিলো ওপেন-সিক্রেট। সরকারি সিদ্ধান্তে মুক্তির পর আইনজীবীদের ব্যর্থতায় বেগম জিয়া ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে। এরইমধ্যে একজন আইনজীবী তার সঙ্গে দেখা করার পর বিষয়টি সামনে এসেছে।

আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন জানান, মামলা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন নেত্রী। যদিও আইনজীবীদের ওপর ক্ষুব্ধতার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তিনি।

আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, অপরাধ না করেও দুই বছর জেলে ছিলেন-এটা নিয়েও তিনি হতাশা প্রকাশ করেছেন। অনেক দুঃখ ও হতাশার কথা বলেছেন।

আইনজীবী প্যানেলের সিনিয়র সদস্য খন্দকার মাহবুব হোসেন বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান, মামলা নিয়ে হতাশ নন নেত্রী। তবে মামলা পরিচালনায় সমন্বয়হীনতায় হয়ত ক্ষুব্ধ। সিনিয়রদের বাদ দিয়ে বিশেষ কোনো ব্যক্তিকে মামলার দায়িত্ব দিয়েছিলেন, সেটা নিয়েই একটু হতাশায় ছিলেন।

দুদক আইনজীবী অ্যাড. খুরশীদ আলম বলছেন, মামলা পরিচালনার অনেক ক্ষেত্রে তার আইনজীবীদের পদক্ষেপ রহস্যজনক ছিলো। দেড় বছরেও তার আইনজীবীরা কেন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না তা আমাদের জানা নেই।

আইনি প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিকভাবে মুক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ায় সবশেষ পরিবারের আবেদনে মানবিক দিক বিবেচনায় গত ২৫ মার্চ বেগম জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয় সরকার।

এর আগে ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের সাত নম্বর কক্ষে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: