এই সক্ষমতা সম্ভাব্য শত্রুদের প্রতিহত করবে: সেনাপ্রধান

উপজেলা প্রতিবেদক

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নতুন সংযোজন হওয়া টাইগার মাল্টিপল লঞ্চ রকেট বা মিসাইল সিস্টেম (টাইগার এমএলআরএস) সম্ভাব্য শত্রুদের যে কোন অশুভ উদ্দেশ্যে প্রতিহত করবে বলে মন্তব্য করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

রোববার দুপুরে সাভার সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশ সেন্টার এন্ড স্কুলে উপস্থিত থেকে সেনা প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সেনাবাহিনীর একটি আর্টিলারি ইউনিটকে এই অন্তর্ভুক্তি সনদ প্রদান করেন।

এর আগে গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথি এই অন্তর্ভুক্তিকরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে সেনা প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, ‘এমএলআরএস আমাদের বিদ্যমান জেনারেল সাপোর্টস আর্টিলারি অপেক্ষা অধিক দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুকে দুই ধরণের মিসাইল দ্বারা যথাক্রমে ৭০ এবং ১২০ কিলোমিটার দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম। এই মিসাইল সিস্টেম স্বল্প সময়ে এক বা একাধিক লঞ্চার ব্যবহারের মাধ্যমে একি সাথে একাধিক লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত হানা ছাড়াও স্থল ও জলসীমার বড় এলাকা জুড়ে পরোক্ষভাবে সহায়তা দিতে সক্ষম। এই অত্যাধুনিক ক্যানোলাবেজ সংযোজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আভিযানিক সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যুক্ত হলো। একি সাথে এই সক্ষমতা আমাদের সম্ভাব্য শত্রুদের যে কোন অশুভ উদ্দেশ্যে প্রতিহত করবে।’

‘এই সিস্টেমের উপর নির্বাচিত সেনা সদস্যদেরকে তুরস্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে জাতির পিতার ১০১তম জন্মবার্ষিকীর বিশেষ দিনে প্রথমবারের মতো আমাদের প্রশিক্ষিত সেনা সদস্যরা নিজেরা অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে উক্ত মিসাইল তুরস্কে ফায়ার সম্পন্ন করেছে। এছাড়াও প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশে এই সিস্টেমের উপর স্থানীয় ভাবে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হবে। আধুনিক প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে সকল সদস্যদের প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত জ্ঞান নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। আমি দৃঢ় মনে বিশ্বাস করি, এই অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের সংযোজন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল সদস্যের মনোবল বহুলাংশে বৃদ্ধি করবে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে আজ যুক্ত হলো এক নতুন মাইলফলক। ২০১৮-১৯ বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে ‘গর্ভমেন্ট ২০০০’ চুক্তি সম্পাদিত হয়। প্রথম ধাপে গত ৩০ মে তুরস্ক হতে ক্রয়কৃত মিসাইল ও আনুসাঙ্গিক সরঞ্জামাদি দেশে এসে পৌঁছায়। এরপর দ্বিতীয় ধাপে সম্ভাব্য এ বছরের অক্টোবরে এবং সর্বশেষ ধাপে আগামী বছর অক্টোবরে এই চুক্তির অবশিষ্ট সরঞ্জামাদি ও সকল মিসাইল বাংলাদেশ আসবে।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে সেনা প্রধান আরও বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবর রহমানের হাত ধরে যে সেনাবাহিনীর জন্ম তা আজ কালের পরিক্রমায় বিশ্ব দরবারে একটি দক্ষ ও সুশৃঙ্খল সেনাবাহিনী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আধুনিক হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। অনেক প্রতিকূলতা পেরিয়ে বাংলাদেশ স্বল্পোনত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ করেছে। এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনী বিভিন্ন আধুনিক অস্ত্র, সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণে ক্রমবর্ধমান ভাবে নিজ নিজ স্বকীয়তা বৃদ্ধি করতে পেরেছে। আমাদের এই অবস্থান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনন্য দেশপ্রেম ও অবিচল নেতৃত্বের অবদান।’

অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণসহ বিভিন্ন পদবির সেনা সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!