জাপা নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে সোহরাওয়ার্দীতে

জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের মহাসমাবেশ উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড় হতে শুরু করেছেন নেতা-কর্মীরা। এরই মধ্যে নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে ঐতিহাসিক উদ্যানটি।

জানা যায়, অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এবারের মহাসমাবেশে বৃহত্তম জমায়েতের মধ্য দিয়ে রাজধানীতে বড় ধরনের শোডাউন করতে চায় জাতীয় পার্টি। দলটির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এ মহাসমাবেশ থেকে আগামী নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করবেন, দেবেন রাজনীতিতে নতুন বার্তা।

সকাল ১০টায় মহাসমাবেশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এতে সভাপতিত্ব করবেন। পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারসহ জাতীয় পার্টি এবং জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন। মহাসমাবেশ বর্ণাঢ্য করতে নেয়া হয়েছে সব ধরনের প্রস্তুতি। শাহবাগ থেকে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত নানা রঙের ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে। নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে নির্মাণ করা হয়েছে একাধিক তোরণ।

মহাসমাবেশ সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। জেলা-উপজেলার নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ঢাকায় আসা শুরু করেছেন।

পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ শুক্রবার সন্ধ্যায় মঞ্চ-এলাকা পরিদর্শন করেন। সন্ধ্যার পর কাকরাইলে পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান, প্রস্তুতির বিষয়ে খোঁজখবর নেন। মূল দল ছাড়াও জাতীয় মহিলা পার্টি, শ্রমিক পার্টি, কৃষক পার্টি, যুব সংহতি, স্বেচ্ছাসেবক পার্টি, ছাত্রসমাজসহ বিভিন্ন অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকেও নেয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

মহাসমাবেশের দিন যাতে কোনো ধরনের নাশকতা না ঘটে, এজন্য বাড়তি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জাতীয় পার্টির একাধিক নিজস্ব টিম নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করবে। এছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ছুটে আসা নেতাকর্মীদের যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়, তা দেখভাল করার জন্যও একাধিক টিম গঠন করা হয়েছে।

সমাবেশ উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে মাঠ ও আশপাশের এলাকা। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছবিসংবলিত ব্যানার-পোস্টার দিয়ে সমাবেশের চারপাশ সাজানো হয়েছে। উদ্যানের ঠিক মাঝখানে উত্তরমুখী মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। প্রধান মঞ্চের কয়েক ফুট দূরেই রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চ।

মহাসমাবেশ স্মরণীয় করে রাখতে এরই মধ্যে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছেন জাতীয় পার্টির নেতারা। সারা দেশ থেকে লক্ষাধিক নেতাকর্মী এতে অংশ নেবেন বলে মনে করছেন তারা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও মৎস্য ভবন থেকে শাহবাগ পর্যন্ত ১৫০টি মাইক লাগানো হয়েছে। পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ, সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের বিশাল আকৃতির ছবি শোভা পাচ্ছে মাঠজুড়ে। এছাড়া পুরো উদ্যান ভরে গেছে নেতাকর্মীদের ব্যানার-ফেস্টুনে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: