পরিবহন শ্রমিকদের পৈশাচিক আচরণের শিকার নারীরা

জনশক্তি রিপোর্ট: পরিবহন শ্রমিকদের উশৃঙ্খল আচরণ থেকে রেহাই পাননি শিক্ষার্থী এবং নারী যাত্রীরা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও সাভার, যাত্রাবাড়ী ও নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় এসব নারীযাত্রীদের হেনস্তা করে শ্রমিকরা।

রোববার (২৮ অক্টোবর) পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতির প্রথমদিনে সকালে নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের হয়রানি করে তাদের ইউনিফর্মে পোড়া মবিল ঢেলে দেয় শ্রমিকরা।

এই ঘটনার বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা শুনেছি। কিন্তু যেহেতু কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি তাই কোনও পদক্ষেপও নেওয়া যাচ্ছে না।

জানা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সাইনবোর্ড এলাকায় একটি পাম্পের কাছে বাসভর্তি শিক্ষার্থীরা পরিবহন শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়ে। এসময় তারা বাসচালক ও ছাত্রীদের গায়ে পোড়া মবিল ঢেলে দেয় ও বাসের গ্লাস ভেঙে ফেলে। তারা বাসটি থামিয়ে দিয়ে আর সামনে যেতে দেয়নি।

এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এতে দেখা যায় সাইনবোর্ড এলাকা পার হবার সময়ে তারা বাসটি থামিয়ে বাসের চালককে মারধোর করে ও তার শরীরেও পোড়া মবিল মাখিয়ে দেয়। বাসের ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীরা এ সময় প্রতিবাদ করলে শ্রমিকরা শিক্ষার্থীদের গায়েও মবিল মাখিয়ে দেয় এবং গালিগালাজ করে। পরে তারা বাসের গ্লাস ভেঙে সবাইকে বাস থেকে নামিয়ে দেয়।

নারায়ণগঞ্জ ছাড়াও রাজধানীর অনেক এলাকাতেও শ্রমিকদের ‍ উশৃঙ্খল আচরণের শিকার হন নারীরা। উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত কল্পনা রহমান তেমনি এক অভিজ্ঞতার কথা জানান গণমাধ্যমকে। তিনি বলেন, সকালে আমি অফিসের কাজে সাভার আসছিলাম। পথে ওরা আটকালো আর ড্রাইভারের সাথ খারাপ ব্যবহার করলো। গাড়িতে থাপ্পড় দিয়ে গ্লাসের ভিতর দিয়ে হাত ঢুকিয়ে চালকের ঘাড় ধরে মচকে দেয়। আমি খুব হেল্পলেস আর অপমানিত বোধ করছিলাম। ওদের আচরণেই আসলেই বোঝা যায়-শিক্ষিত আর অশিক্ষিতের পার্থক্য অনেক।

মেয়র হানিফ ফ্লাইওভাবে পরিবহন শ্রমিকদের হামলার শিকার হন ইভান ইভা। তিনি বলেন, তার বাসা নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায়। অফিস ঢাকা পলিটেকনিক্যাল কলেজে। সিএনজি করে আসার সময় মেয়ার হানিফ ফ্লাইওভারে ১৫ থেকে ২০ জনের সংঘবদ্ধ শ্রমিকরা সিনএনজি থামায়।

আমাকে একা দেখে সিএনজি ছেড়ে দিলেও একজন এগিয়ে এসে বোতলে ভরা পোড়া মবিল আমার দিকে ছুঁড়ে মারে। তার ভাষায়, ‘ভাগ্য ভালো যে ওই সময় আমি চোখ বন্ধ করে রেখেছিলাম। চোখ বন্ধ থাকায় পোড়া মবিল চোখের ভেতর ঢোকেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুরো ঘটনাতে আমি অসুস্থ হয়ে গিয়েছি। ওদের যে ভয়ংকর চাহনি দেখেছি-সেটা বর্ণনা করার মতো না, ঘটনার আকস্মিকতায় আমি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে যাই বলেন।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকাতে পরিবহন শ্রমিকদের হামলার শিকার হয় একটি অ্যাম্বুলেন্সও। অ্যাম্বুলেন্সটির চালক আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, রোগী আনতে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু তার কোনও কথা শোনেনি পরিবহন শ্রমিকরা। অ্যাম্বুলেন্সের বাইরের দিকে পোড়া মবিল ঢেলে দিয়ে তাকে তাড়া করে শ্রমিকরা।

জনশক্তি/এস

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!