‘পরোয়ানা ছাড়াই সাংবাদিক গ্রেফতারের ক্ষমতা বেড়েছে পুলিশের’

সম্পাদক পরিষদ জানিয়েছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী পুলিশকে সংবাদপ্রতিষ্ঠানগুলোর দফতরে প্রবেশ করা, তল্লাশি চালানো, বন্ধ করে দেয়া, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক জব্দ করার ক্ষেত্রে ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। এমনকি পরোয়ানা ছাড়াই সাংবাদিকদের গ্রেফতার করতে পারবে পুলিশ।

শনিবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সম্পাদক পরিষদ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়। এদিন সম্পাদক পরিষদের লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান ভোরের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক শ্যামল দত্ত।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, এই আইনটি মুক্তিযুদ্ধের অন্তর্নিহিত চেতনার পরিপন্থী। এটিকে আইনে পরিণত করায় সবাই হতাশ, ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত।

এদিন শ্যামল দত্ত বলেন, বিষয়টি নিয়ে আইনমন্ত্রী এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পরে তারা পুনরায় বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের আপত্তির জায়গাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরি এবং আমাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো বিশদভাবে বর্ণনা করি। আমাদের তৃতীয় একটি বৈঠকের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। যা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছাতে সহায়ক হতে পারত। কিন্তু সে বৈঠকটি কী কারণে অনুষ্ঠিত হয়নি, তা আমাদের আজও অজানা।

‘আমরা আইনটি বাতিল চাইনি। কতগুলো বিশেষ ধারার আমূল পরিবর্তন চেয়েছি। এই পরিবর্তন সম্ভব। আমরা আশা করব, ওই ধারাগুলো সংশোধন করে আইনটি সংশোধন করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম।

সম্পাদক পরিষদের দাবিগুলো হলো—

• সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাক স্বাধীনতা সুরক্ষার লক্ষ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩ ধারা অবশ্যই যথাযথভাবে সংশোধন করতে হবে।

• এসব সংশোধনী বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশনে আনতে হবে।

• পুলিশ বা অন্য কোনো সংস্থার মাধ্যমে কোনো সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানোর ক্ষেত্রে তাদের শুধু নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু আটকে দেয়ার অনুমতি দেয়া যাবে; কিন্তু কোনো কম্পিউটারব্যবস্থা বন্ধ করার অনুমতি দেয়া যাবে না। তারা শুধু তখনই প্রকাশের বিষয়বস্তু আটকাতে পারবে, যখন সংশ্লিষ্ট সংবাদপ্রতিষ্ঠানের সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করে কেন ওই বিষয়বস্তু আটকে দেয়া উচিত, সে বিষয়ে যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে পারবে।

• কোনো সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের কোনো কমপিউটারব্যবস্থা আটকে দেয়া বা জব্দ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই উচ্চ আদালতের আগাম নির্দেশ নিতে হবে।

• সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীদের সাংবাদিকতার দায়িত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে প্রথমেই আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করতে হবে (যেমনটা বর্তমান আইনে আছে) এবং সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীদের কোনো অবস্থাতেই পরোয়ানা ছাড়া ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া আটক বা গ্রেফতার করা যাবে না।

• সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীর দ্বারা সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের গ্রহণযোগ্যতা আছে কিনা, তার প্রাথমিক তদন্ত প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে করা উচিত। এই লক্ষ্যে প্রেস কাউন্সিলকে যথাযথভাবে শক্তিশালী করা যেতে পারে।

• এই সরকারের পাস করা তথ্য অধিকার আইনকে দ্ব্যর্থহীনভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ওপর প্রাধান্য দেয়া উচিত। ওই আইনে নাগরিক ও সংবাদমাধ্যমের জন্য যেসব স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, সেগুলোর সুরক্ষা অত্যাবশ্যক।

এ সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবীর, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম, দৈনিক যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, নয়া দিগন্ত সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দীন, সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনিরুজ্জামান, করতোয়া সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক জাফর সোবহান, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, ইনডিপেনডেন্ট সম্পাদক এম শামসুর রহমান প্রমুখ।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: